মহামারী আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস

প্রকাশিত

এইচ. এম. কাওছার আহমদ

করোনাভাইরাস মূলত একটি গজব বা মহামারী। কারন আল্লাহ তায়ালা তখনই তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা করেন যখন বান্দা আল্লাহর আইন ভুলে গিয়ে নিজের বানানো আইন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। মানুষের উপর যেসব বালা-মুসিবত আসে তা তাদের কৃতকর্মের কারনে আসে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমারে উপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদের কর্মেরই ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক গোনাহ ক্ষমা করে দেন (সূরা: শুয়ারা, আয়াত-৩০)। বনি ইসরাইলের প্রতি নির্দেশ ছিল যে তোমরা যখন পবিত্র মক্কা নগরীতে প্রবেশ করবে তখন তোমরা বিনয় ও নম্রতার সহিত ক্ষমা প্রার্থনা করবে। অনন্তর তারা ক্ষমা না চেয়ে তার কথার বিপরীত করে যার ফলশ্রুতিতে আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রতি আজাব ও গজব নাযিল করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অতঃপর জালেমরা কথা পাল্টে দিয়েছে, যা কিছু তাদেরকে বলে দেয়া হয়েছিল তা থেকে তারপর আমি অবতীর্ণ করেছি যালেমদের উপর আযাব, আসমান থেকে, নির্দেশ লংঘন করার কারনে’ (সুরা: বাকারা, আয়াত- ৫৯)।
আল্লাহর আইন কে অমান্য করে সংবিধানে আইন পাশ হয় বেপর্দাভাবে চলার। আর সেটাও গজবের লক্ষণ, কারণ আল্লাহ তায়ালা কুরআনে মহিলাদের পর্দার বিধান সম্পর্কে বলেন- তোমরা মহিলারা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে- মূর্খতার বা অন্ধকার যুগের মতো অনুরূপ নিজেদের রূপ সৌন্দর্য ও দেহ নিজেদের প্রদর্শন বেড়িওনা (সুরাঃ আহযাব, আয়াত- ৩৩)। বর্তমান সময়ের অবস্থা অবলোকন করলে দেখা যায় যে কেমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে মুসলিম উম্মাহ জীবন-যাপন পরিচালনা করছে, লাজ-লজ্জা, বেহায়াপনা
মানুষের সাথে মানুষের ধোকাবাজি এসব অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে বাঁচিয়ে না থাকলে হয়তো আরো ভয়াবহ গজব দিয়ে আল্লাহ পরীক্ষা করবেন। তাই বর্তমান এই ক্রান্তিকালে মহামারী গজব থেকে রক্ষার একমাত্র উপায় হল এক আল্লাহর, ইবাদাত করা এবং তার নির্দেশিত বিধি-বিধান মেনে চলা। বেশি বেশি করে দুরুদ ইসতেগফার পড়ুন। সৃষ্টিকর্তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং মুসলিম উম্মাহ মহামারি থেকে বাঁচার জন্য বেশি বেশি করে এই দোয়া পাঠ করুন- (আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনার বারাসি ওয়াল জুনুনি ওয়াল জুজামি ওয়া’মিন ছাইয়্যি’ইল আসকাম’)। সাথে সাথে আল্লাহর ইবাদাত করুন। আল্লাহর ইবাদাত বাদ দিয়ে যতই তাওবা, ইস্তেগফার করবেন ফায়দামান হবে না বরং আরো ক্ষতিগ্রস্থ হতে হবে। যদি মহামারী ভয়াবহ আকার ধারণ করে তাহলে জনসমাগম নিষেধ করা যেতে পারে। না হয় এই কঠিন সংকটময় সময়ে যতই দুরুদ, ইস্তেগফার আল্লাহর ইবাদাত বন্দেগীর মাধ্যমে করোনার মতো মহামারী থেকে আল্লাহ তায়ালা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে রক্ষা করবেন।
এবার আসুন ইস্তেগফার কেন করব? এক ‘করোনার ধাক্কায় গোটা পৃথিবী আজ কম্পমান। এক নীরব মহামারী সারা বিশ্বকে লকডাউন করে দিয়েছে। যে জাতি মহাসমুদ্রের তলদেশ আর সৌরজগতের নাড়ি-নক্ষত্র জয় করে এসেছে, সেই একই জাতি
আজ নিজেদের সাড়ে তিনহাত বডি রক্ষা করতে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ। এই সংকটময় বিপর্যয়ের উৎপত্তিস্থল মহাসমুদ্রে কিংবা সৌরজগত নয়, আমাদের ক্ষুদ্র এই দেহেই এর উৎপত্তি। কারণ যুগে যুগে যতই বড় বড় মহামারী আর গজব এসেছে সবই আমাদের কৃতকর্মের ফসল। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সুরা: রুমের ৪১নং আয়াতে বলেন-
‘মানুষের কৃতকর্মের কারণে সমুদ্রে ও স্থলে বিপর্য ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে তাদেরকে কোন কোন কর্মের শাস্তি তিনি আশ্বাদন করেন, যাতে তারা ফিলে আসে। আমাদের তাবৎ সুখ-শান্তি আর সমৃদ্ধি নিজেদের সংশোধনের মাঝে; মহাকাশ গবেষণায়। কুরআন বলছে- ‘যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম, আর নিজেকে কলুষাচ্ছন্ন করবে সে ব্যর্থ মনোরথ (সূরা: আশ-শামছ, আয়াত- ৯,১০)। এই কঠিন করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা যত গবেষণা করছি যদি নিজেদের নিয়ে এর সিকিভাগ গবেষণা করতাম, তাহলে বহু পূর্বেই হয়তো এই গজবের পরিসমাপ্তি ঘটতো। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে বলেছেন- নিজেদের দিকে তাকাতে তোমাদের নিজেদের মধ্যেও, তোমরা কি অনুধাবন করবে না? (সুরা: আয-যারিয়াত, আয়াত-২১)। করোনার মতো মহামারি কি পারবে আমাদের ঘুমন্ত আত্মাকে জাগ্রত করতে? সৃষ্টিকর্তার সামনে আমাদের ক্ষুদ্রতা আর অসহায়ত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে? পরিশেষে রাব্বে কারিম তাঁর প্রিয় বন্ধু রাহমাতুল্লিল আলামিন এর উছিলায় যেন এই কঠিন মুহুর্তে আমাদের ঈমান, আমল এবং তাঁর দেওয়া আজাব গজব থেকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে হেফাজত করেন। আমিন।

লেখক: শিক্ষার্থী, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা