বিভাগ - অর্থনীতি

মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, পেঁয়াজের ওপর দায় চাপালেন পরিকল্পনামন্ত্রী

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: গত ডিসেম্বর মাসে মাসওয়ারি ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে তা দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। গত নভেম্বর মাসে এ হার ছিল ৬ দশমিক ০৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে এ তথ্য পাওয়া গেছে। যা মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী প্রকাশ করেন।

এই বেড়ে যাওয়া মূল্যস্ফীতির জন্য পেঁয়াজের বাজারের আগুনকে দায়ী করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তার দাবি, ‘সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। আর এই মূল্যস্ফীতির প্রধান নায়ক হচ্ছে পেঁয়াজ। পেঁয়াজ এবং সবজির দাম কমলে মূল্যস্ফীতি কমে যাবে। আমরা তাই করার চেষ্টা করছি।’

বিবিএস প্রতিবেদন তুলে ধরে এম এ মান্নান জানান, গত নভেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ যা অক্টোবর ছিল শতকরা ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। চলতি বছরের নভেম্বর মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৬ দশমিক ৪১ শতাংশ হয়েছে। গত মাসে এই খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিলো ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এছাড়াও বাড়িভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থলী, চিকিৎসা সেবা, পরিবহন, শিক্ষা উপকরণ এবং বিবিধ সেবাখাতের মূল্যস্ফীতির হার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। একই সময়ে খাদ্য বহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ, গত মাসে যা ছিল ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।”

প্রতি বছর পয়েন্ট টু পয়েন্টের ভিত্তিতে নভেম্বর পেঁয়াজ ছাড়াও ডাল, চিনি, মুড়ি, মাছ, মাংস, ব্রয়লার মুরগি, ফল, তামাক, দুগ্ধজাতীয় পণ্য এবং অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর দাম বেড়েছে। প্রতি মাসে ডিম, শাক-সবজি ও মসলা জাতীয় পণ্যের দামও চড়া হয়েছে।

বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, গ্রামে নভেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ০১ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশে, (অক্টোবর মাসে ছিল ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ)। আর খাদ্য বহিভূর্ত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ (অক্টোবর মাসে ছিল ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ)।

সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শহরেও, ৬ দশমিক ১২ শতাংশ। এর পরিমাণ অক্টোবর মাসে ছিল ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। শহরে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১১ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। এছাড়া খাদ্য বহিভূর্ত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা এর আগের অক্টোবর মাসে ছিল ৬ দশমিক ০৯ শতাংশ।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রীর পাশাপাশি আরো উপস্থিত ছিলেন, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবতী এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক তাজুল ইসলাম।