বিভাগ - সারাদেশ

যশোরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

প্রকাশিত

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরে তিথি সুলতানা (২৪) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর দেড়টায় নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিথির মৃত্যু হয়। শনিবার যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। তিথি শহরের ঘোপ সেন্ট্রার রোডের নজরুল ইসলামের মেয়ে ও খাজুরার ভদ্রডাঙ্গা গ্রামের মিলন হোসেনের স্ত্রী। পিতৃপক্ষের অভিযোগ তাকে হত্যা করা হয়েছে। আর শ্বশুর বাড়ির লোকজনের দাবি, সাংসারিক বিরোধের জের ধরে হারপিক পান করে তিথি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

মৃতের পিতা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাত বছর আগে তার মেয়ে তিথির সাথে ভদ্রডাঙ্গা গ্রামের মিলন হোসেনের বিয়ে হয়। সাংসারিক জীবনে তাদের পাঁচ বছরের আরাফাত নামে সন্তান রয়েছে। বিয়ের সময় কোনো দাবি না থাকলেও বিয়ের পর থেকে স্বামী ও তার পরিবার যৌতুকের টাকার জন্য নির্যাতন করে আসছিলো। মেয়ের সুখের কথা ভেবে শশুর নজরুল ইসলাম দু’বছর আগে জামাই মিলন হোসেনকে নিজ খরচে মালয়েশিয়া পাঠান। তিন মাস আগে মিলন দেশে আসেন। ওই সময় স্ত্রী তিথিকে বাপের বাড়ি থেকে যৌতুকের এক লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলেন। তিনি বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে অস্বীকার করলে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ হয়। ঘটনার দিন রাতে মিলন গ্রামে প্রচার করেন তার স্ত্রী হারপিক পানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। পরে পরিবারের অন্যে সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ১৫ দিন চিকিৎসা নেয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্যে তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়। তবে ঢাকা থেকেও জানানো হয় রোগীকে বাঁচানো সম্ভব নয়, বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যান। মিলন হোসেন স্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দেড় মাস আগেই মালয়েশিয়ায় চলে যান। বিগত এক মাস তিথি বাড়িতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে শুক্রবার দুপুর দেড়টায় তিথির মৃত্যু হয়। পরিবারের লোকজন পুলিশে খবর দিলে খাজুরা ফাঁড়ির এসআই আজিজুর রহমান রাতে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে শনিবার যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।

মৃতের পিতার অভিযোগ, তার মেয়ে হারপিক পানে আত্মহত্যা করেনি। যৌতুকের টাকার জন্যে স্বামীর পরিবারের লোকজন তাকে মারপিট করে মুখে হারপিক ঢেলে দেয়। এ ঘটনায় তিনি বিচার দাবি করেছেন। এসআই আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, মৃতের পরিবার হত্যার দাবি করেছেন। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা সম্ভব হবে।