বিভাগ - সারাদেশ

যশোর জেলা আ‘লীগের কাঙ্খিত সম্মেলন বুধবার, আশায় বুক বেধেছেন অনেকেই

প্রকাশিত

বেনাপোল প্রতিনিধিঃ যশোর জেলা আওয়ামী লীগের কাঙ্খিত সম্মেলন আগামীকাল। সম্মেলনকে ঘিরে আশা হতাশা আছে দলের নবীন প্রবীণদের মাঝে। দীর্ঘদিন পর হওয়া এ সম্মেলনে নতুন কমিটিতে ঠাই পেলে অনেকেই যেমন রাজনীতিতে চাঙ্গা হয়ে উঠবেন আবার স্থান না হলে হতাশায় চুপসে যাবেন। এমনই আভাস মিলছে যশোর জেলা আওয়ামীলীগ অঙ্গনে। নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করে যে চিত্র পাওয়া গেছে তা হলো দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযানের ডাকে, আশায় বুক বেধেছেন অনেকে। তাদের ধারণা, এবারের সম্মেলনে আমূল পরিবর্তন ঘটবে যশোর জেলা আওয়ামী লীগে। দলের মধ্যে মূল কথা ঘুরে ফিরে আসছে যে, খোদ শেখ হাসিনার মনোনীত ব্যক্তিই হবেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক। দলের দীর্ঘদিনের বেশ কয়েকজন রাজনীতিক এবং তাদের কর্মী সমর্থকরা বলছেন, তারা ঢাকা থেকে খবর পেয়েছেন, ২৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আর পাঁচটা সম্মেলন থেকে হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে। চলমান শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে এ সম্মেলনে পরীক্ষীত নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে। এমন সব তথ্যে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের একটি অংশ ভাবছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক এমপি খালেদুর রহমান টিটোকে দলীয় সভানেত্রী এবার মূল্যায়িত করবেন। কিন্তু জনাব টিটো কিংবা তার সমর্থকরা এ ব্যাপারে মুখ খুলছেন না। তিনি সভাপতি প্রার্থী হচ্ছেন মর্মে কোনো প্যানা, ব্যানার, সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন এই প্রতিবেদকের নজরে পড়েনি। প্রবীণ রাজনীতিক এস এম কামরুজ্জামান চুন্নুও মুখ খুলছেন না। তিনি সভাপতি প্রার্থী হচ্ছেন মর্মে কোনো প্রচারণা চালাতে তার কর্মী-সমর্থকরা আগ্রহী নন। তারা বলছেন, জনাব চুন্নু পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চেয়েও বঞ্চিত হয়েছেন। তার সারাজীবনের রাজনীতির মূল্যায়ন করতে চাইলে দলীয় সভানেত্রী নিজ থেকেই করবেন। তার জন্যে প্রচারণায় থাকার দরকার পড়ে না। শহর আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা কামরুজ্জজামান চৌধুরীর কর্মী সমর্থকরা মনে করছেন, দুঃসময়ে দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছেন। কিন্তু বিনিময়ে কিছুই পাননি। সংগঠনে যদি প্রকৃতই শুদ্ধি অভিযান চলে, তবে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা নিশ্চয় তার যথার্থ মূল্যায়ন করবেন। এমনই ভাবছেন সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোকাররম হোসেন টিপুর কর্মী-সমর্থকরাও। তারা বলছেন, দলে অবহেলিতদের মূল্যায়নের মাধ্যমেই আমুল পরিবর্তন আনা সম্ভব, শুদ্ধি অভিযান সম্ভব। এসব নেতার কর্মী-সমর্থকরা বলছেন, প্রচলিত ধারায় জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হলে তাদের করার কিছুই নেই। ফ্যাক্টর হিসেবে তারা দেখছেন কাউন্সিলরদের তালিকা। এদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের দু’বারের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারের কর্মী-সমর্থকেরা বলছেন, তাদের নেতা শাহীন চাকলাদারওতো দলের পরীক্ষীত নেতা। সারাদেশের আগুন সন্ত্রাসের সময় যশোরের রাজপথ ছিলো শাহীন চাকলাদারেরই দখলে। গোটা জেলায় বড় ধরনের কোনো সহিংস ঘটনা ঘটেনি শুধুমাত্র শাহীন চাকলাদারের কারণে। সে সময় জামায়াত-বিএনপির আগুন সন্ত্রাসীরা জয়পুরে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের বাড়িতে আগুন দেয়াসহ গোটা মণিরামপুরে যে নারকীয় তান্ডব চালিয়েছিলো, সে তান্ডব সেসময় একমাত্র শাহীন চাকলাদারই সামাল দিয়েছিলেন। তাহলে তারওতো মূল্যায়নের প্রশ্ন আসে। তিনি কোনো পদের প্রার্থী না হলেওতো দলীয় সভানেত্রী পারেন দীর্ঘদিন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা শাহীন চাকলাদারকে সভাপতির দায়িত্ব দিতে। এমন মন্তব্য তার কর্মী-সমর্থকদের।

বর্তমান সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের বিরুদ্ধে তেমন কোন অভিযোগ এ ক’ বছরে না ওঠায় তিনিও আছেন সুবিধাজনক অবস্থানে। আওয়ামী লীগের আসন্ন সম্মেলনকে ঘিরে সংগঠনের সাধারণ নেতা-কর্মীদের ভাবনা বা প্রার্থী হওয়া না হওয়া নিয়েও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে সবার কামনা একটাই, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সম্মেলন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক।