বিভাগ - অপরাজিতা

যৌতুক মামলা মিথ্যা হলে কী করবেন পুরুষ?

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পুরুষরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। বিশ্বের অনেক দেশে কিছু বেসরকারি সংগঠন ১৯ নভেম্বর ‘আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস’ পালন করে।

রাজধানীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ‘বাংলাদেশ মেনস রাইটস ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন। নারায়ণগঞ্জেও কর্মসূচি পালন করেছে এই সংগঠনটি, যাদের দাবি- ‘বাংলাদেশে পুরুষরাই বেশি নির্যাতিত হয়। তাদের দাবি- পুরুষরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাই ‘পুরুষ নির্যাতন’ প্রতিরোধে আইনি সুরক্ষা থাকা দরকার বলে তারা মনে করেন। খবর-বিবিসি বাংলা।

সংগঠনের সভাপতি শেখ খায়রুল আলম গণমাধ্যমে বলেন, ৮০ শতাংশ পুরুষই নানাভাবে নির্যাতনের শিকার। বিশেষ করে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েও তারা তা বলতে পারেন না। এ ছাড়া মামলা বা প্রতারণার শিকার তো অনেকেই হচ্ছেন।

সমাজ কি এড়িয়ে যাচ্ছে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক সালমা আক্তার বলেন, পুরুষরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তবে কতটা হচ্ছেন তা নিয়ে কোনো গবেষণা হয়নি। তবে মনে রাখতে হবে, আমাদের সমাজ পুরুষতান্ত্রিক।

তিনি বলেন, তবে পুরুষরা কেন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তা আগে আমাদের জানতে হবে। নির্যাতনের শিকার হলে সেটি কি কারণে হচ্ছেন, তা খুঁজে বের করতে হবে।

রংপুরে ‘বাংলাদেশ মেনস রাইটস ফাউন্ডেশন’-এর আইনি পরামর্শক রিজওয়ানা আখতার শিরিন বলেন, সম্প্রতি তিনি বেশ কয়েকজন পুরুষকে পেয়েছেন যাদের নির্যাতিত বলেই তার কাছে মনে হয়েছে।

স্ত্রীর পরকীয়া বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি ঘটনা পেয়েছি, যেখানে স্ত্রী পরকীয়া করতে গিয়ে স্বামীর টাকা-পয়সা নিয়ে বাপের বাড়ি গিয়ে উল্টো নির্যাতন ও দেনমোহরের মামলা করেছেন। এমন নানা ধরনের ঘটনা আমরা এখন পাচ্ছি। এসব কারণেই আইনি সুরক্ষার দাবি জোরালো হচ্ছে, যাতে পুরুষ অকারণে ভিকটিম না হন।

মিথ্যা যৌতুক মামলা থেকে বাঁচতে কী করবেন?

১. মিথ্যা মামলা হলে এজাহারের কপিটি সংগ্রহের চেষ্টা করুন। একজন ভালো আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করুন। তিনি আপনাকে একটি ভালো পরামর্শ দেবেন।

২. নিম্নআদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে পারেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগটির সত্যতা না পেলে আপনাকে নির্দোষ দেখিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন।

৩. মিথ্যা মামলায় চার্জশিট বা অভিযোগপত্র হয়ে গেলে নিম্নআদালতে জামিন চাইতে হবে। জামিন না হলে পর্যায়ক্রমে উচ্চআদালতে আবেদন করতে হবে।

৪. আপনি মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য আবেদন করতে পারেন। অব্যাহতির আবেদন নাকচ হলে উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাইতে পারেন।

৫. অনেক সময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুলিশ এসে আপনাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে সাধারণ গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। তাই আপনার আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করতে হবে।

৬. যদি থানায় মামলা না হয়ে আদালতে মামলা (সিআর) হয়, তা হলে আদালত সমন দিতে পারেন কিংবা গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করতে পারেন। এ ক্ষেত্রেও আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে হবে। ক্ষেত্র বিশেষে হাইকোর্ট বিভাগে আগাম জামিন চাইতে পারেন।

৭.দণ্ডবিধির ২১১ ধারা অনুযায়ী মিথ্যা মামলা করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আপনি নির্দোষ প্রমাণিত হলে মিথ্যা অভিযোগকারী বা মামলা দায়েরকারীর বিরুদ্ধে আপনি পাল্টা মামলা করতে পারেন।

৮. মিথ্যা নালিশ আনয়নকারী সব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি ২৫০ ধারা অনুযায়ী মিথ্যা মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ করা যায়। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা আমলযোগ্য নয় এ রকম কোনো মামলায় মিথ্যা প্রতিবেদন দিলে তার বিরুদ্ধেও এ ধারা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ প্রদান করা যায়।