বিভাগ - বিএনপি

রাজনীতির কারণে বিচারকরা মুক্তমনে বিচার করতে পারেন না: মওদুদ

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: রাজনীতির কারণে বিচারকরা মুক্তমনে বিচার করতে পারেননা, এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। রবিবার (২৪ নভেম্বর) বিকালে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঢাকা মহানগর (উত্তর- দক্ষিণ) বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মওদুদ বলেন, রাজনীতির কারণে বিচারকরা মুক্তমনে বিচার করতে পারেন না। আর এই কারণে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন জেলখানায় আছেন। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, এখনও করছি জামিনে মুক্তি লাভের জন্য। রাজনৈতিক কারণে এটা বিলম্বিত হয়েছে। জামিনে তিনি মুক্ত হবেন বলেও আমার সন্দেহ রয়েছে! সে জন্য খুব শিগগিরই রাস্তায় নেমে আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, এ সরকার একটি অনির্বাচিত সরকার। জনগণের ভোটে এ সরকার নির্বাচিত হয় নাই। আর এ কারণে জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতা নেই। এ জন্যই আজকে দেশে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মওদুদ বলেন, আজকে প্রতিটি ক্ষেত্রে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অবনতি ঘটছে মূল্যবোধের কারণে। কারণ এ সরকার জনমতকে তারা মূল্য দেয় না। নিজেদের স্বার্থ নিয়েই তারা ব্যস্ত। সরকার দেশে কোনো শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি মন্তব্য করে তিনি বলেন, আজকে এ সরকারের রন্ধে রন্ধে দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে। গর্তের মধ্যে ঢুকে এ সরকার দুর্নীতি থেকে বের হতে পারবে না।

দেশে চলমান শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গে মওদুদ বলেন, সরকারের শুদ্ধি অভিযান প্রায় শেষ হয়ে গেছে! এটা আমরা আগেই জানতাম। কয়দিন পর একটা ঘটনা ঘটে, তারপর আস্তে আস্তে স্তিমিত হয়ে যায়। আর তার গভীরে যায় না। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতারা।

চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ক্যাসিনো দুর্নীতি করে গেছেন তার কোন হদিস তারা দিতে পারে নাই। যারা ধরা পড়েছে তাদেরকে দিয়েই সীমাবদ্ধ রেখেছেন। কিন্তু এদের বাইরে ও শত শত নেতাকর্মী রয়েছে যারা এই ধরনের কাজে লিপ্ত আছে। আজকে আওয়ামী লীগের এমন কোন নেতা নাই যারা প্রচুর সম্পদের মালিক হননি।

বিএনপির এ নেতা বলেন, আজকের একদিকে মানুষ নিঃস্ব, দারিদ্র্যসীমার নিচে সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে কিছু সংখ্যক মানুষের হাতে অর্থ চলে যাচ্ছে। আর এই কারণেই আজকে সমাজে বৈষম্য দেখা দিয়েছে। ব্যাংক খাতে কোনো শৃঙ্খলা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা তারা নিয়ে গেছে। যার হিসাব তারা এখনো দিতে পারে নাই। হলমার্ক, ডেসটিনি, বিসমিল্লাহ গ্রুপ এদের বিচার এখনো হয় নাই।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাসারের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, জয়নুল আবেদীন ফারুক, আব্দুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, এজেড এম জাহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এনি, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক শরফুদ্দিন সপু, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজীব আহসান প্রমুখ।