রাজ্যসভায়ও পাস হলো নাগরিকত্ব বিল, গুয়াহাটিতে কারফিউ

প্রকাশিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের লোকসভার পর রাজ্যসভায়ও পাস হয়ে গেল নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি)। ভোটাভুটিতে ১২৫টি ভোট পড়েছে বিলের পক্ষে। বিপক্ষে পড়ে ১০৫ ভোট। এবার রাষ্ট্রপতি সই করলেই এই বিল আইনে পরিণত হবে।

মূল এই ভোটাভুটির আগে বিল সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো হবে কি না, তা নিয়ে ভোটাভুটি হয়। মোট ১৪টি সংশোধনীর জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যরা। কিন্তু ভোটাভুটিতে সব কটিই খারিজ হয়ে যায়।

এদিন নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে ডাকা বন্ধে (হরতাল) উত্তাল ছিল ভারতের আসাম ও ত্রিপুরা। দুই রাজ্যেই একাধিক বাস ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ত্রিপুরায় গুলি চালিয়েছে পুলিশ।গুয়াহাটিতে জারি হয়েছে কারফিউ। বহু জায়গায় ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। বিক্ষোভ ঠেকাতে আসাম-ত্রিপুরার বেশ কয়েকটি এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে রাজ্যসভায় বিল পাসের আগে তুমুল বিতর্ক হয় শাসক ও বিরোধী পক্ষের সংসদ সদস্যদের মধ্যে। আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, লাখ লাখ মানুষের সঙ্গে ধর্মীয় প্রতারণা হয়েছে।

এ বিলের মাধ্যমে সেই সব শরণার্থীর অধিকার দেয়া হবে। তবে এ দেশে বসবাসকারী মুসলিমদের আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশে এই বিল আনা হয়নি। আগের সরকার বিষয়টির যথাযথ মোকাবেলা করতে পারেনি।

এর জবাবে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, আপনারা আশ্বাস দিলেও, সিএবি নিয়ে আশঙ্কার কারণ আছে। কারণ, নোটবন্দির সময়েও প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তার ফল কী হয়েছে তা সবাই জানেন।অন্যদিকে কংগ্রেসের এমপি আনন্দ শর্মা বলেন, এ বিল ‘ভারতের আত্মার ওপর আঘাত’। বিল নিয়ে বিজেপি কেন তাড়াহুড়ো করছে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

সেই সঙ্গে দেশভাগের জন্য কংগ্রেস দায়ী বলে অমিত শাহ লোকসভায় যে অভিযোগ করেছিলেন তারও জবাব দিয়েছেন আনন্দ শর্মা। দেশভাগ নিয়ে সরাসরি হিন্দু মহাসভা এবং মুসলিম লিগকে দায়ী করেছেন তিনি।এর আগে লোকসভায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুবিধা নিয়ে সোমবার রাতে ৩১১-৮০ ভোটে নাগরিকত্ব বিলটি পাস করানো হয়।

এ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি আইন আকারে গৃহীত হলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলো থেকে আসা শুধু অমুসলিমদেরই (হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈন, শিখ ও পার্সি) নাগরিকত্ব মিলবে।

এদিকে বিলের প্রতিবাদে গুয়াহাটিতে রাস্তায় নামেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও অসম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসহ বেশিরভাগ কলেজের ছাত্রছাত্রীরা।গুয়াহাটি-শিলং সড়ক অবরোধ করেন তারা। অবরোধ ওঠাতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ।উত্তর ত্রিপুরার ধলাই জেলার মনুঘাট এবং ৮২ মাইল বাজারে একের পর এক দোকানে আগুন লাগান হরতাল সমর্থকরা। ভাংচুর করে লুটপাট চালানো হয়।

তাদের আক্রমণে কৃপাসিন্ধু চক্রবর্তী নামে এক ব্যবসায়ী জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যাতে কোনো গুজব না ছড়ায় সে জন্য ত্রিপুরায় মোবাইল, ইন্টারনেট এবং এসএমএস পরিষেবা ৪৮ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।দক্ষিণ ত্রিপুরার সিপাহিজলায় বন্ধ সমর্থকরা রাস্তা অবরোধ করে রাখায় দু’বছর বয়সী একটি অসুস্থ শিশুর মৃত্যু হয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে।

সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, দুই কলাম (এক কলামে ৭০ জন জওয়ান) সেনা নামানো হয়েছে ত্রিপুরার কাঞ্চনপুর ও মনু এলাকায়। আর দুই কলাম সেনা নামানো হয়েছে আসামের বঙ্গাইগাঁও ও ডিবরুগড়ে।