বিভাগ - খেলাধুলা

রোনালদো-ফন ডাইককে হারিয়ে ষষ্ঠ ব্যালন ডি’অর জিতলেন মেসি

প্রকাশিত

স্পোর্টস ডেস্ক: ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও ভার্জিল ফন ডাইককে হারিয়ে এ বছরের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন লিওনেল মেসি। গত অগাস্টে মেসি ও রোনালদোকে হারিয়ে উয়েফা বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হন ফন ডাইক। পরের মাসে এই ডাচ ডিফেন্ডার ও পর্তুগিজ তারকা রোনালদোকে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো ‘দ্য বেস্ট ফিফা মেনস প্লেয়ার’ পুরস্কারটি জিতে নেন বার্সেলোনা তারকা। তাহলে ব্যালন ডি’অর জিতবে কে?

প্রশ্নটিকে ঘিরে শুরু হয় নানা গুঞ্জন। এবার তার উত্তর মিলল। প্যারিসে সোমবার এক জমকালো অনুষ্ঠানে মেসির হাতে তুলে দেওয়া হয় ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ –এর পুরস্কারটি, ব্যালন ডি’অর ২০১৯।

রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো পুরস্কারটি জিতলেন আর্জেন্টাইন তারকা। এতদিন সমান পাঁচবার করে পুরস্কারটি জয়ের রেকর্ড ছিল মেসি ও রোনালদোর। বরাবরের মতো গত মৌসুমটাও দারুণ কাটে মেসির। বার্সেলোনাকে লা লিগা জেতাতে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কাতালান ক্লাবটির চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে ও কোপা দেল রের ফাইনালে ওঠাতেও বড় অবদান ছিল আর্জেন্টাইন তারকার।

ক্লাব পর্যায়ে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে আরও বেশি উজ্জ্বল ছিলেন বার্সেলোনা অধিনায়ক। লা লিগায় সর্বোচ্চ ৩৬ গোল করে একই সঙ্গে জিতে নেন পিচিচি ট্রফি ও ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে করেন সর্বোচ্চ ১২ গোল। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে গেল মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫৮ ম্যাচ খেলে ৫৪ গোল করেন মেসি।

জাতীয় দলের হয়ে মৌসুমটা অবশ্য ভালো কাটেনি তার। কোপা আমেরিকার সেমি-ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে হেরে যায় তার দেশ আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্ট জুড়ে ছিলেন নিস্প্রভ। তবে বর্ষসেরা স্বীকৃতি পেতে তা বাধা হতে পারেনি।

চলতি মৌসুমের শুরুতে চোটের কারণে বেশ কয়েক ম্যাচ বাইরে ছিলেন তিনি। তবে মাঠে ফিরে এরই মধ্যে স্বরূপে ফিরেছেন বার্সেলোনা অধিনায়ক। আসরে এখন পর্যন্ত করেছেন সর্বোচ্চ ৯ গোল। সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন পাঁচটি।

২০০৯ সালে প্রথম বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছিলেন মেসি। ফিফার বর্ষসেরা ও ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকীর ব্যালন ডি’অর পুরস্কার শুরুতে আলাদাভাবে দেওয়া হতো। সেবছর দুটিই জিতেছিলেন তিনি। ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ছয় বছর দুটি পুরস্কার একীভূত হয়ে নাম হয় ফিফা ব্যালন ডি’অর। পরপর তিন বছর ওই পুরস্কার জিতেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। এর পরের দুই বছর রোনালদো জেতার পর ২০১৫ সালে আবারও পুরস্কারটি জিতে নেন মেসি, জিতেন ওই সময়ের রেকর্ড পঞ্চমবারের মতো।

২০১৬ সাল থেকে আবার আলাদাভাবে দেওয়া হচ্ছে পুরস্কার দুটি। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ফিফা বর্ষসেরা ও ব্যালন ডি’অর জিতেন রোনালদো। আর ২০১৮ সালে সবকটি পুরস্কার জিতেন লুকা মদ্রিচ।

এ বছরের বিজয়ী নির্বাচনে গত ২১ অক্টোবর ৩০ জনের তালিকা প্রকাশ করেছিল ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনটি। এবার তার মধ্য থেকে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের ভোটে সেরা নির্বাচিত হলেন ৩২ বছর বয়সী লিওনেল মেসি।
সেরা ত্রিশ:

প্রথম: লিওনেল মেসি (বার্সেলোনা, আর্জেন্টিনা)

দ্বিতীয়: ভার্জিল ফন ডাইক (লিভারপুল, নেদারল্যান্ডস)

তৃতীয়: ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (ইউভেন্তুস, পর্তুগাল)

চতুর্থ: সাদিও মানে (লিভারপুল, সেনেগাল)

পঞ্চম: মোহামেদ সালাহ (লিভারপুল, মিশর)

ষষ্ঠ: কিলিয়ান এমবাপে (পিএসজি, ফ্রান্স)

সপ্তম: আলিসন (লিভারপুল, ব্রাজিল)

অষ্টম: রবের্ত লেভানদোভস্কি (বায়ার্ন মিউনিখ, পোল্যান্ড)

নবম: বের্নার্দো সিলভা (ম্যানচেস্টার সিটি, পর্তুগাল)

দশম: রিয়াদ মাহরেজ (ম্যানচেস্টার সিটি, আলজেরিয়া)

একাদশ: ফ্রেংকি ডি ইয়ং (বার্সেলোনা, নেদারল্যান্ডস)

দ্বাদশ: রাহিম স্টার্লিং (ম্যানচেস্টার সিটি, ইংল্যান্ড)

ত্রয়োদশ: এদেন আজার (রিয়াল মাদ্রিদ, বেলজিয়াম)

চতুর্দশ: কেভিন ডি ব্রুইনে (ম্যানচেস্টার সিটি, বেলজিয়াম)

পঞ্চদশ: মাটাইস ডি লিখট (ইউভেন্তুস, নেদারল্যান্ডস)

ষোড়শ: সের্হিও আগুয়েরো (ম্যানচেস্টার সিটি, আর্জেন্টিনা)

সপ্তদশ: রবের্তো ফিরমিনো (লিভারপুল, ব্রাজিল)

অষ্টাদশ: অঁতোয়ান গ্রিজমান (বার্সেলোনা, ফ্রান্স)

১৯তম: ট্রেন্ট অ্যালেকজান্ডার-আর্নল্ড (লিভারপুল, ইংল্যান্ড)

যৌথভাবে ২০তম: পিয়েরে-এমেরিক আউবামেয়াং (আর্সেনাল, গ্যাবন), দুসান তাদিচ (আয়াক্স, সার্বিয়া)

২২তম: সন হিউং-মিন (টটেনহ্যাম হটস্পার, দক্ষিণ কোরিয়া)

২৩তম: উগো লরিস (টটেনহ্যাম হটস্পার, ফ্রান্স)

যৌথভাবে ২৪তম: কালিদু কলিবালি (নাপোলি, সেনেগাল), মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন (বার্সেলোনা, জার্মানি)

যৌথভাবে ২৬তম: করিম বেনজেমা (রিয়াল মাদ্রিদ, ফ্রান্স, জর্জিনিয়ো ভিনালডাম (লিভারপুল, নেদারল্যান্ডস)

যৌথভাবে ২৮তম: জোয়াও ফেলিক্স (আতলেতিকো মাদ্রিদ, পর্তুগাল), মার্কিনিয়োস (পিএসজি, ব্রাজিল) ও ডনি ফন ডি বিক (আয়াক্স, নেদারল্যান্ডস)

গত ১০ বারের বিজয়ীরা:

ফিফা বর্ষসেরা

২০০৯ লিওনেল মেসি

একীভূত ফিফা ব্যালন ডি’অর

২০১০ লিওনেল মেসি

২০১১ লিওনেল মেসি

২০১২ লিওনেল মেসি

২০১৩ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো

২০১৪ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো

২০১৫ লিওনেল মেসি

দ্য বেস্ট ফিফা মেনস প্লেয়ার ও ব্যালন ডি’অর জয়ী

২০১৬ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো

২০১৭ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো

২০১৮ লুকা মদ্রিচ

নারী ফুটবলের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ফরোয়ার্ড মেগান র‌্যাপিনো।
আর সেরা অনূর্ধ্ব-২১ ফুটবলারের পুরস্কার ‘কোপা অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন এই মৌসুমে আয়াক্স থেকে ইউভেন্তুসে যোগ দেওয়া মাটাইস ডি লিখট। ডাচ এই ডিফেন্ডারের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেন গতবারের বিজয়ী ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে।

আর ‘ফ্রান্স ফুটবল’-এর পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো দেওয়া সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার ‘ইয়াশিন ট্রফি’ জিতেছেন লিভারপুলের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ব্রাজিলের হয়ে কোপা আমেরিকা জেতা আলিসন। তার হাতে পুরস্কারটি তুলে দেন বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার রবের্ত লেভানদোভস্কি।