লকডাউনের সময়ও হাফ প্যান্ট পরে আমি কেন কুকুরদের খাওয়াব?

প্রকাশিত

বিনোদন ডেস্ক: লকডাউনের সময় রাস্তার কুকুরেরা খাবে কী? তাদের কে খেতে দেবে? এই ভাবনা থেকেই কুকুরদের খাওয়ার ব্যাপারে উদ্যোগী হন শ্রীলেখা মিত্র। তিনি বললেন, ‘‘আমি ২৩টি কুকুরের খাওয়ার দায়িত্ব নিয়েছি। নিজে নুডলস খাচ্ছি। ব্রেকফাস্ট স্কিপ করছি। ভাবছি, এই ভাল ডায়েট হয়ে যাচ্ছে ওদের জন্য। আমি তো কারোর কোনও ক্ষতি করিনি। তা হলে এখানকার বাসিন্দারা সরাসরি আমায় আক্রমণ করছেন কেন?’’ ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শ্রীলেখা।

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই রাস্তার কুকুরদের খাওয়ানো নিয়ে তার আবাসনের বাসিন্দাদের সঙ্গে শ্রীলেখার নানা রকম ঝামেলা চলছিল। ‘‘প্রথম দিকে এখানকার বাসিন্দারা ভেবেছিলেন, এই কুকুরদের খাওয়ানো বুঝি হিরোইন সুলভ ন্যাকামি! বেশ কিছু দিন আমার ওপর গোয়েন্দাগিরি করে দেখেন, বিষয়টা তা নয়। তখন তারা আমার পোশাক নিয়ে আক্রমণ করলেন। হাফ প্যান্ট পরে আমি কেন কুকুরদের খাওয়াব? আশ্চর্য!’’ বিস্মিত শ্রীলেখা!

যে ধরনের মন্তব্য, টেক্সট মেসেজ ইদানীং শ্রীলেখার কাছে আসছে তাতে তিনি বিধ্বস্ত, ক্লান্ত। তার বিশ্বাস, তিনি মেয়ে, তাই একা ফ্ল্যাটে থাকেন, তাই তাকে আক্রমণ করা অনেক সহজ। আর সেটাই হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাতে অপমানিত শ্রীলেখা ফেসবুক লাইভ করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। পরে যদিও তিনি ওই লাইভটি ডিলিট করে দেন।

‘‘আমি বড্ড বেশি রিঅ্যাক্ট করে ফেলেছিলাম। এই আবাসনের বাসিন্দারা ধরেই নিয়েছেন, কুকুর থেকেই করোনা আসবে! যেন মানুষ থেকে করোনা আসছে না। কুকুররা আমার সন্তান। ওরা আবাসনের ভেতরে যাতে বাথরুম করে নোংরা না করে তার জন্যও আমি প্লাস্টিক হাতে নিয়ে ঘুরছি! ওটাও পরিস্কার করা আমার দায়িত্ব! তার পরেও এত বিরোধিতা!’’

কিন্তু, তাদের খেতে দেওয়ার জন্য যে তাকে পোশাক থেকে স্বভাব, এত কিছু নিয়ে আক্রমণের মুখোমুখি হতে হবে এটা মেনে নিতে পারছেন না শ্রীলেখা। ‘‘প্রচুর টাকা দিয়ে মানুষ আবাসনে আসছেন। দরজা বন্ধ করে শুধু নিজেরটুকু ভাবছেন। এই আতঙ্কের দিনেও মানুষের মূল্যবোধ কাজ করছে না। আমি কারও পরোয়া না করে সোজা কথা বলি। তাই সমস্যা!’’ সাফ কথা শ্রীলেখার।