বিভাগ - সারাদেশ

লালমনিরহাটে ঘুরে দাঁড়াতে চায় জাতীয় পার্টি

প্রকাশিত

আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট জেলা এক সময় জাতীয় পার্টির দুর্গ ছিলো। জেলার ৩ টি সংসদীয় আসন ছিলো জাতীয় পার্টির দখলে। কিন্তু কেন্দ্রীয়ভাবে তদারকি না থাকায় ও জেলা জাতীয় পার্টিতে যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে দলের হ-য়-ব-র-ল অবস্থা। জাতীয় পার্টির পোক্ত অবস্থান ভেঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এ জেলার ৩টি আসনের মধ্যে সদর আসন ছাড়া বাকি দুইটি আসনই আওয়ামী লীগের দখলে চলে গেছে। জাতীয় পার্টির অনেক নেতা দল ত্যাগ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’তে চলে গেছেন। কিন্তু সাবেক জাতীয় পার্টির নেতারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে তেমন মূল্যায়ন না পাওয়ায় তাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মাঝে আবারও জাতীয় পার্টিতে ফেরার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী ওই সব সাবেক জাতীয় পার্টির নেতারা একটু আড়াল থেকে জাতীয় পার্টিকে সহযোগিতাও করছেন। জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব সেকেন্দার আলীর দাবি, লালমনিরহাট-১ আসনে একজন শিল্পপতি ও লালমনিরহাট-২ আসনে একজন সেনা কর্মকতা দলের নেতৃত্বে আসতে পারেন।

জানা গেছে, জেলার হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা বিএনপিতে এবং সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির বেশ কিছু নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে যোগদান করেছেন। কিন্তু তারা জাতীয় পার্টি ত্যাগ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে যোগদান করলেও তেমন মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। ফলে তাদের মাঝে এক ধরণের ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’তে যোগদানকারী অনেক সাবেক জাতীয় পার্টির নেতা এখন বিকল্প চিন্তাও করছেন।

খোঁজ খবর নিয়ে দেখা গেছে, জেলার হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামে জাতীয় পার্টির সাবেক নেতারা আবারও জাতীয় পার্টিতে ফেরার চিন্তা করছেন। আগামী সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগে তাদের পদ-পদবিতে মূল্যায়ন করা না হলে তারা জাতীয় পার্টিতে ফিরে যেতে পারেন। ইতোমধ্যে হাতীবান্ধায় আওয়ামী লীগে যোগদানকারী জাতীয় পার্টির কয়েকজন সাবেক নেতা দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সাথে দেখা করে কথাও বলেছেন। তারা জাতীয় পার্টিতে ফিরে আসলে এ জেলায় জাতীয় পার্টি আবারও প্রাণ ফিরে পাবে বলে দাবি দলটির মাঠের নেতা-কর্মীদের। জাতীয় পার্টির এক প্রভাবশালী নেতা হাতীবান্ধায় নিজের ব্যবসা দেখার আড়ালে জাতীয় পার্টিকে সুসংগঠিত করছেন। দলের নেতা-কর্মীদের সাথে সহযোগিতাসহ নিয়মিত যোগাযোগও রাখছেন। তাকে এ কাজে সহযোগিতা করছেন তার ব্যবসায়ী পার্টনার আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী এক নেতা। এ যেন আওয়ামী লীগের নেতার উপর ভর করে জাতীয় পার্টির নেতার আগমন। তবে জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব সেকেন্দার আলীর দাবি হাতীবান্ধায় দলের কেন্দ্রীয় সদস্য মোস্তফা সেলিম বেঙ্গল দলকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করায় ওই উপজেলায় জাতীয় পার্টির মাঝে প্রাণ ফিরে এসেছে। তবে এ বিষয়ে মোস্তফা সেলিম বেঙ্গলের সাথে যোগাযোগ করে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে হাতীবান্ধা উপজেলা ছাত্র সমাজের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, যারা দল থেকে চলে গেছেন। তারা আবারও দলে আসছেন, ওই সব নেতা দলের চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। একটু অপেক্ষা করেন চমক দেখতে পাবেন।

লালমনিরহাট জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব সেকেন্দার আলী বলেন, হাতীবান্ধার সাবেক জাতীয় পার্টির নেতারা ইতোমধ্যে দলের চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করেছেন। ওই আসনে দলের কেন্দ্রীয় সদস্য মোস্তফা সেলিম বেঙ্গল দলকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতাও করছেন।