বিভাগ - সারাদেশ

লালমনিরহাটে মোড়ে মোড়ে পিঠার দোকান

প্রকাশিত

আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাটে ঠান্ডার প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কদর বেড়েছে নানা প্রকার শীতের পিঠার। শহরের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার মোড়ে গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান। ভোর ও সন্ধ্যায় সেখানে পিঠার স্বাদ নিতে ভিড় জমছে মানুষের।

লালমনিরহাট শহর ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন মোড়ে ও পাড়া–মহল্লায় হতদরিদ্র ও স্বল্প আয়ের লোকজন গড়ে তুলেছেন শতাধিক পিঠার দোকান। মূলত ফুটপাতজুড়ে রয়েছে শীতের আগমন বার্তা। সকাল ও সন্ধ্যায় গায়ে গরম কাপড় জড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা ভাপাপিঠার স্বাদ পেতে অনেকেই ভিড় করছে সেখানে। মূলত সেখানে ভাপা ও চিতইপিঠা হচ্ছে। প্রতিটি পিঠার দাম ৫ টাকা। আবার অনেক দোকানি চিতইপিঠার মধ্যে ডিম দিচ্ছেন। এই পিঠা প্রতিটি ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়কের স্বর্ণামতি ব্রিজের পশ্চিমপাড়ে এমন পিঠাপুলি নিয়ে বসেছেন শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, চলতি সময়ে হাতে কাজ নেই। শীত এসেছে তাই সংসারের খরচ মিটাতে ব্রিজের পাশে পিঠার দোকান দিয়েছেন। দিনভর বাড়িতে চালের আটাসহ পিঠা তৈরির নানান সরঞ্জাম প্রস্তুত করে বিকেলে দোকান চালু করেন। সেখানে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী তাদের সামনেই গরম গরম ভাপা ও চিতই পিঠাসহ বিভিন্ন ধরনের পিঠা বিক্রি করেন। পিঠা ছাড়াও ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সেদ্ধ ডিমও বিক্রি করেন তিনি। সন্ধ্যা থেকে ক্রেতাদের ভিড় বাড়লেও মধ্যরাতের আগেই দোকান বন্ধ করেন তিনি।ফুটপাতে পিঠাপুলির পসরা।

শফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করেন। যা দিয়ে চলছে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচসহ তার সংসার। তবে, শীত বিদায় নিলে তিনি আবারও অন্য পেশায় চলে যাবেন বলে যোগ করেন তিনি।

কালীগঞ্জের কাকিনা রংপুর সড়কের শেখ হাসিনা সেতুপাড়ে পিঠা বিক্রেতা আমিনুর জানান, আগে দিনমজুর করে সংসার চালাতেন। এখন হাতে কাজ নেই। কর্মহীন হয়ে সংসার চালানো বেশ কষ্টকর হয়ে পড়ে। আর শীতের ঠাণ্ডায় শরীর গরম করতে পথিকরা গরম গরম পিঠা খেতে পছন্দ করেন। শীত এসেছে তাই সেতুপাড়ে পিঠা বিক্রি করছেন তিনি। স্ত্রী বাড়িতে আটাসহ পিঠা তৈরির সরঞ্জাম প্রস্তুত করে দেন। তিনি ক্রেতাদের সামনে গরম গরম পিঠা তৈরি করে পরিবেশন করেন।

সেতুপাড়ের পথিক আতিক, সন্তোষ রায় ও ফারুক মিয়া জানান, সন্ধ্যা নামলেই শীত অনুভূত হয়। ঠাণ্ডায় গরম গরম পিঠা খেতে বেশ মজাদার। তাই সন্ধ্যা হলেই পিঠা খেতে সেতুপাড়ে আসেন তারা। অনেকেই পরিবারসহ পিঠা খেতে সেতুপাড়ে ভিড় করেন বলেও জানান তারা।