বিভাগ - কৃষি

লালমনিরহাটে সরকারী ধান ক্রয়ে অনিয়ম, বঞ্চিত কৃষকরা

প্রকাশিত

আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটে সরকারী ভাবে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সুবিধা ভোগীদের তালিকায় প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের স্থান না হলেও ওই তালিকায় স্থান পেয়েছে খাদ্য অফিসের কর্মচারী ও খাদ্য বিভাগের দালালদের নাম। ইউএনও অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবী করলেও উপজেলা চেয়ারম্যান বলছে, লটারী করে সুবিধা ভোগীর তালিকা তৈরী করা হলেও পরে ওই তালিকায় সুবিধা ভোগীদের নাম পরিবর্তনের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে।

জানা গেছে, সারা দেশের ন্যায় লালমনিরহাট জেলায় সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারী ভাবে ধান ক্রয়ের জন্য পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়। প্রথমত কৃষকদের একটি তালিকা তৈরী করে কৃষি বিভাগ। ওই তালিকা থেকে লটারীর মাধ্যমে সুবিধা ভোগীদের একটি তালিকা তৈরী করে স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু সেই লটারীর মাধ্যমে সুবিধা ভোগীর তালিকা তৈরীতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

খোজঁ খবর নিয়ে জানা গেছে, গত ২ ডিসেম্বর হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদ হল রুমে লটারীর মাধ্যমে ২২ শত ৮ টন ধান ক্রয়ের বিপরীতে ২২ শত ৯ জন কৃষকের একটি তালিকা তৈরী করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, লটারীতে নাম উঠে নাই এমন কৃষকের নাম ওই সুবিধা ভোগীদের তালিকায় ঢুকে দেয়া হয়েছে। সুবিধা ভোগীর তালিকায় সুকৌশলে স্থান পেয়েছে খাদ্য অফিসের কর্মচারী ও খাদ্য বিভাগের দালালরা। ফলে এ তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর পরেই নানা অভিযোগ উঠতে থাকে।

গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ডাঃ আতিয়ার রহমান বলেন, আমার ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ড তিস্তা নদীর গর্ভে। ওই ওয়ার্ড গুলোতে কোনো আমন ধানের চাষ হয়নি। অথচ তালিকায় দেখলাম ওই তিন ওয়ার্ডে ২ হাজার ৫ শত ভোটারের বিপরীতে ৮২ জন সুবিধা ভোগীর নাম। ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে প্রচুর আমন ধান চাষাবাদ হয়েছে। কিন্তু সাড়ে ৭ হাজার ভোটারের বিপরীতে মাত্র ৬১ জন সুবিধা ভোগী।

হাতীবান্ধার ইউএনও সামিউল আমিন বলেন, উম্মুক্ত লটারী মাধ্যমে তালিকা তৈরী করা হয়েছে। অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই । তারপরও যদি অনিয়ম হয়ে থাকে তা তদন্ত করা হবে।

হাতীবান্ধা উপজেলা চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুন বলেন, সরকারী ভাবে ধান ক্রয়ের জন্য কৃষকদের তালিকা তৈরী করতে লটারী করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে ওই লটারীর তালিকায় জালিয়াতি করা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসককে অবগত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী করেছি।