বিভাগ - সারাদেশ

শারীরিক সম্পর্কের পর অন্যজনকে বিয়ে, অনশনে প্রেমিকা

প্রকাশিত

হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বিয়ের দাবিতে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাগর (৩৫) নামের এক যুবকের বাড়িতে অনশন করছেন এক তরুণী (২৫)। গত পরশু শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে থেকে উপজেলার গাজিপুর ইউনিয়নের জারুলিয়া গ্রামে এসে ওই তরুণী অনশন করছেন।তরুণীর অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেমিক সাগর তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে আরেক নারীকে বিয়ে করেছেন।সাগর জারুলিয়া গ্রামের আবদুর নুর মিয়ার ছেলে এবং অনশনকারী প্রেমিকার বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর থানায়।এর আগে অনশনকারী তরুণী গত শুক্রবার চুনারুঘাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণীর এক আত্মীয়ের মাধ্যমে সাগরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর থেকে তারা মুঠোফোনে যোগাযোগ চালিয়ে যান। এক পর্যায়ে তাদের সম্পর্কটি প্রেমে রূপ নেয়। প্রেমিকাকে সাগর জানান, চুনারুঘাট বাজারে তার রকমারি নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি মাঝেমধ্যে ওই তরুণীকে চুনারঘাটে আসতে বলতেন।তারই জেরে গত ১৫ অক্টোবর ওই তরুণী চুনারুঘাট আসেন। সেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাগর তার প্রেমিকাকে একটি বাড়িতে নিয়ে রাত্রিযাপন করেন। ব্যবসায়িক ব্যস্ততার অজুহাতে পরে তাকে কোর্টে নিয়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন সাগর। এ ছাড়া সাগর ওই তরুণীকে বিভিন্ন সময় জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরতেও নিয়ে যান তিনি।গত কয়েকদিন আগে সাগর ওই তরুণীকে বিয়ে করতে পারবেন না জানিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। খোঁজ নিয়ে তরুণী জানতে পারেন, সাগর অন্য এক নারীকে বিয়ে করেছেন।সাগরের বিয়ের খবর শুনে ভুক্তভোগী তরুণী প্রথমে সাগরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রকমারি দোকানে আসেন। সেখানে সাগরকে না পেয়ে শনিবার বিকেলে তার গ্রামের বাড়ি জারুলিয়ায় এসে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন।এদিকে সাগর তার নববধূকে নিয়ে বর্তমানে শশুরবাড়িতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।ভুক্তভোগী প্রেমিকা বলেন, ‘গত তিন মাস ধরে সাগরের সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এখন সাগর আমাকে বিয়ে না করে অন্য মেয়েকে বিয়ে করেছে। আমার দাবি, সাগরসহ তার পরিবারের লোকজনকে এ বিষয়টির সুরাহা করে দিতে হবে। তা না করা পর্যন্ত আমার অনশন চলবে।’ এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইমন বলেন, বিষয়টির সমাধানের জন্য আগামীকাল সোমবার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হবে।এছাড়া উভয় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য মিনারা বেগমের জিম্মায় ওই তরুণীকে রাখা হয়েছে।