শায়েস্তাগঞ্জে সরকারি বীজের তীব্র সংকট, কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন

প্রকাশিত

মঈনুল হাসান রতন হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে সরকারি বীজের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আর এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে বেসরকারি কোম্পানির ডিলাররা কয়েকগুণ বেশি দামে বীজ বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। বীজ বপনের সময় ঘনিয়ে এলেও এখনো বেশির ভাগ কৃষক বীজই সংগ্রহ করতে পারছেন না।জানা যায়, আমন ধানের মৌসুমে তিন ধরণের বীজের চাহিদা বেশি। এরমধ্যে ৪৯, ১১, ৩৪ জাতের ধানের বীজের চাহিদা রয়েছে উপজেলাজুড়ে। তবে চাহিদা ভিত্তিক বীজ সরবরাহ করতে পারছেনা স্থানীয় কৃষি বিভাগ। এই সুযোগে বেসরকারি কোম্পানি রায়হান সীড, কৃষিবিদ সীড, নীল সাগর সীডসহ অন্যান্য বীজ কোম্পানিগুলো কয়েকগুণ দামে বীজ বিক্রি করছে। উপজেলার বিভিন্নস্থানে চাহিদা ভেদে ৩০০ টাকার বীজের বস্তা ১ হাজার টাকায়ও বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া এসব বীজের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে কৃষকদের মাঝে।এমন অবস্থায় সম্প্রতি শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা ও ইউনিয়ন উপ-সহকারী কর্মকর্তা বিভিন্ন কোম্পানির ২০০ বস্তা ধানের বীজ আটক করেছিলেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে তার সমাধান করা হয়।উপজেলার সুরাবই এলাকার কৃষক নুরুল হুদা করেন, বীজের জন্য গত ১৫ দিন যাবত উপজেলা বীজ বিক্রয় কেন্দ্রে যোগাযোগ করেও উচ্চ-ফলনশীল জাতের কোন বীজ পায়নি। কোন ডিলারদের কাছেও বীজ নেই। এমন অবস্থায় চরম উৎকণ্ঠায় আছি। কারণ বীজতলা তৈরির সময় চলে যাচ্ছে।

একই কথা বলছেন, নুরপুর গ্রামের কৃষক আব্বাস আলী। তিনি বলেন, বীজের যে সংকট তাতে এবারের ধান চাষ করতে পারব কি-না তা নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।শায়েস্তাগঞ্জের বীজের ডিলার রৌদ্র ট্রেডার্সের রনজন দাস জানান, আমরা সরকারি ৪৯ জাতের বীজ লাইন ধরিয়ে ৩০০ টাকা করে বিক্রি করেছি। অন্যান্য বীজ ১০ কেজি ৪০০-৪৫০ টাকা বিক্রি করি, বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এইগুলো অভিযোগ সত্য নয়।নীল সাগর সীডের অফিসার মতিউর রহমান বলেন, আমাদের বীজ ১০ কেজি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা ডিলার বিক্রি করে থাকেন, এবার লকডাউনের জন্য পরিবহন খরচ বেড়েছে।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুকান্ত ধর বলেন, কৃষি অফিস বীজের দায়িত্বে নাই। বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি সব কিছু দেখে। তবে কৃষি অফিস বীজ বাজার মনিটরিং করে।হবিগঞ্জ জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা জাহিদুল আমিন বলেন, ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা ধান চাষে ঝুঁকছেন। প্রতি মৌসুমে যে যতটুকু ধান লাগানো হয়। এবার তার দিগুণ জমিতে ধান চাষ করছেন কৃষকরা। তাই বাজারে সরকারি বীজের সংকট আছে। তবে সব বীজের না বিশেষ করে ৪৯ জাতের ধানের বীজের সংকট রয়েছে। এ ধানের চাহিদা বেশি হওয়ায় বিএডিসি ডিলারদের চাহিদা অনুয়ায়ী সরবরাহ করতে পারছে না। এই সুযোগে যাতে কেউ অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারে সেজন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।