বিভাগ - সারাদেশ

শিক্ষক স্বল্পতায় একই ক্লাসে একাধিক শ্রেনীর পাঠদান!

প্রকাশিত

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী নিজস্ব প্রতিবেদক কুমিল্লা : কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নামতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফলে একাধিক শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের একটি শ্রেনীকক্ষে একসাথে পাঠদান করছে শিক্ষিকা। সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, জেলার ময়নামতি ইউনিয়নের নামতলা গ্রামে নামতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টির অবস্থান। ১৯৯৭ সালে স্থানীয় এলাকার কিছু শিক্ষানুরাগী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জহির, মৃত আনসার আলী, সৈয়দ আলী, আব্দুর রাজ্জাক মাষ্টার ৩৩ শতাংশ ভূমির উপর স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তিতে ২০১৩ সালে স্কুলটি সরকারীকরণ হয়। স্কুলটি সরকারীকরণ করা হলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুত্র জানায়, স্বাভাবিক পাঠদান করা হয়না। ফলে অনেকটা খেয়াল খুশি মতো চলছে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা। শনিবার দুপুরে স্কুল ঘুরে দেখা যায় ৫ম শ্রেনীর ক্লাস রুমে একইসাথে ৩য়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেনীর পাঠদান করা হচ্ছে। এসময় ওই কক্ষতে কথা হয় ৩য় শ্রেনীর শিক্ষার্থী জিহাদ, ৪র্থ শ্রেনীর নুসরাত জাহান ও ৫ম শ্রেনীর সহিদুল ইসলামের সাথে। এছাড়া ৪র্থ শ্রেনীর পাঠদানের কক্ষটি খালি ছিল এবং ৩য় শ্রেনী কক্ষে ৮জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি। স্কুল সুত্রে জানা যায়, বর্তমানে স্কুলটির প্রাক প্রাথমিক শাখায় ৯ জন, ১ম শ্রেনীতে ২০ জন, ২য় শ্রেনীতে ২২ জন, ৩য় শ্রেনীতে ২৮ জন, ৪র্থ শ্রেনীতে ২৩ জন এবং ৫ম শ্রেনীতে ১৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। মেহেরুন্নেছা নামের এক শিক্ষিকা জানান, স্কুলটিতে ৪ জন শিক্ষিকা থাকার কথা। একজন ট্রেনিং’এ, অন্যজন মাতৃত্ব ছুটিতে। বাকী দু’জন আমরা ক্লাশ নিচ্ছি। পাঠদানের বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি একরামুল হক মাষ্টার বলেন, সম্প্রতি স্কুলটির প্রধান শিক্ষক রাঁধা রানী সুত্র ধর ট্রেনিংয়ে নোয়াখালী অন্যজন ছুটিতে আছেন। এজন্য আমিও প্রায়ই গিয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাই। বুড়িচং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রৌশনারা বলেন, স্কুলটিতে প্রধান শিক্ষকের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শুন্য। বাকী ৪ জনের মধ্যে দু’জন ট্রেনিংএ। ফলে শিক্ষক স্বল্পতায় পাঠদান চলছে। তবে আগামী মাসে একজনকে ডেপুটেশনে নিয়োগ দেয়া হবে। এছাড়াও দ্রুত বিষয়টি সমাধানের কথা বলেন তিনি।