বিভাগ - সারাদেশ

শিবালয়ে অবৈধ মাটি ব্যবসায় পরিবেশ বিপর্যয়

প্রকাশিত

শহিদুল ইসলাম, শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা: শিবালয় উপজেলার বিভিন্ন নদী-খাল-বিল ও ফসলি জমি কেটে অবৈধভাবে মাটি ব্যবসার যেন মহোৎসব শুরু হয়েছে। বর্ষা মওসুম শেষে ক্ষমতাশীন চিহ্নিত একশ্রেণির মাটি ব্যবসায়ী যেন বেপড়োয়া হয়ে উঠেছে। প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন হলেও এদের অপতৎপরতা বিস্তার লাভ করায় ক্ষতিগ্রস্থ ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার জাফরগঞ্জ থেকে দক্ষিণে মান্দ্রাখোলা পেরিয়ে বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কেটে তা বিক্রি করা হচ্ছে। পাটুরিয়া ঘাটের নিকট ফেরি-লঞ্চ, কার্গো, নৌকাস বিভিন্ন ধরনের নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিআইডব্লিউটিএ চলতি বছরের ২২ আগষ্ট থেকে ড্রেজিং শুরু করে। ১২ লাখ ঘন মিটার পলি অপসারণের লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে কাজ শুরু করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণ করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

বিআডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং ইউনিটের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসে পাটুরিয়া ঘাটের উত্তর দিকে বিশেষ কায়দায় তৈরী করা স্থানে ড্রেজিংকৃত লক্ষ-লক্ষ ঘনফুট পলি/মাটি ফেলা হচ্ছে। অসাধু উপায়ে জমাকৃত মাটি এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা উচ্চ দামে বিক্রি করছে। পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটসহ আশপাশ এলাকায় ৪/৫টি এমন মাটি মজুদ ও বিক্রিতার সন্ধান পাওয়া গেছে। এহেন ব্যবসায় স্থানীয় এক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাশীন দলের দু’গ্রুপের কয়েক প্রভাবশালীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন অভিযোগে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া, উপজেলার পদ্মা-যমুনা তীরবর্তী কয়েক স্থানে অপরিকল্পিত উপায়ে অবৈধভাবে মাটি তোলা হচ্ছে। এতে, নদী তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙ্গনে বাড়ি-ঘর, ফসলি জমি, বিস্তির্ন জনপদ বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্তপকৃত মাটি প্রত্যহ ছোট-বড় অসংখ্য ট্রাক-ট্রলিতে বহনকালে ঝরে পড়ায় সড়ক-মহাসড়ক ও গ্রামীণ পরিবেশে বিরুপ প্রভাব পড়ছে।

শিবালয় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকির হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নৌ চলাচল সহায়ক ও নদীবক্ষে জেগে উঠা চর থেকে পলি পরিকল্পিতভাবে কেটে আনা তেমন দোষের নয়। কিন্তু, ছোট-বড় ট্রাক, ড্রাম ট্রাক বা ভারী যানবাহনে মাটি বহনকালে গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো ও মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।