শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

প্রকাশিত

ধামরাই প্রতিনিধি: ঢাকার ধামরাইয়ে শীতের সকালে ব্যস্ত সময় পার করছেন সবজি চাষিরা। পূর্বাকাশে সকালের রোদ যখন উঠতে শুরু করেছে, ফসলের ক্ষেতে কৃষকরা তখন সবজি তুলছেন। চলতি বছরে শীতের সবজির ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ জমি শীতকালীন সবজিতে ভরে গেছে। এসব জমিতে উৎপাদিত লাউ, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লালশাক, মূলা শাক, পালং শাক জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। এতে স্থানীয় কৃষকরা দেখছেন লাভের মুখ।

ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, জমিতে এখন লাল শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, লাউ তুলতে কৃষক-কৃষাণিরা ব্যস্ত। সবজি বিক্রি করে দামও ভালো পাচ্ছে। ভালো লাভও হচ্ছে।

মৌসুমের শুরুতে দাম ভালো পাওয়ায় চাষিরা ঝুঁকছে আগাম সবজি চাষের দিকে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল হাসান বলেন, এই বছর উপজেলায় ২০৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়েছে। আশা করা হচ্ছে ৫৪ হাজার ১৮৩ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদন হবে। গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি শাক- সবজি উৎপাদন হবে। এতে কৃষকরা লাভবান হবে।

গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের বড়নালাই গ্রামের কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, তিনি দুই একর জমিতে লাল শাক, মূলা, লাউ, ও লাউ শাক লাগিয়েছেন। তার ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার আগাম সবজি বিক্রি করেছেন এবং আরো কিছু সবজি রয়েছে। কিছু দিন পর আবার নতুন শীতকালীন সবজি তুলবেন।

ধামরাইয়ের ফুকুটিয়া এলাকার সবজি চাষি লুৎফর রহমান বলেন, তিনি এক একর জমিতে লাউ চাষ করেছেন। দেড় হাজার লাউ বিক্রি করেছেন। প্রতিটি লাউ ৩৫ টাকা দরে ৫২ হাজার ৫০০ টাকা পেয়েছেন। আরো লাউ আছে। লাউ চাষে তার খরচ হয়েছে ১৭ হাজার টাকা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল হাসান জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শে কৃষকরা আগাম জাতের শীতকালীন সবজি চাষে লাভের মুখ দেখছেন।