শুধু চীন নয়, সব ফ্লাইট স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে: আইইডিসিআর

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: শুধু চীন থেকে আসা ফ্লাইট নয়, বিদেশ থেকে আসা সব ফ্লাইটের যাত্রীদের বিমানবন্দরে স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির সভাকক্ষে আয়োজিত নতুন করোনা ভাইরাস (২০১৯-এনসিওভি) নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানানো হয়।এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর।

এসময় অধ্যাপক সেব্রিনা ফ্লোরা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আমাদের কার্যক্রম কেবলমাত্র চীন থেকে আসা ফ্লাইটে সীমাবদ্ধ রাখিনি। যেহেতু অন্যান্য দেশেও এটা দেখা দিয়েছে তাই দেশে আসার সব বিমানের যাত্রীদেরকে স্ক্রিনিংয়ের আওতায় নিয়ে এসেছি। গত পরশু সব এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী গতকাল থেকে আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি।’

আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান করে তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত জোরালোভাবে বলতে চাই, এটা নিয়ে ভীত বা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অতিরিক্ত সতর্কতার অংশ হিসেবে এটা করা হচ্ছে। আসলে চীন এবং অন্যকিছু দেশের যাত্রীদের স্ক্রিনিং করলেই যথেষ্ট। তবে আমারা সতর্কতার জন্য এটি করছি। বিচার বিশ্লেষণ করে দেখা হবে এই কার্যক্রম কতদিন অব্যাহত রাখবো।’

বাংলাদেশের সবগুলো বন্দরে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং করার সক্ষমতা স্বাস্থ্য অধিদফতরের আছে কিনা এমন প্রশ্নে অধ্যাপক ডা. ফ্রোরা বলেন, ‘আমরা এয়ারলাইন্সগুলোর সহযোগিতা নিচ্ছি। ফ্লাইটের মধ্যে যে ডিক্লেয়ারেশন ফর্ম দেওয়া হয় তাতে এয়ারলাইন্সগুলো সহায়তা করে। আমরা সম্মিলিতভাবেই কাজ করছি। এখানে এয়ারলাইন্সগুলোর সহযোগিতা খুবই জরুরী। সবগুলো বন্দরে থার্মাল স্ক্যানার নেই সেখানে আমরা হ্যান্ডহেল্ড স্ক্যানার দিয়েছি। থার্মাল স্ক্যানার এবং হাত দিয়ে যেটা করা হয়- দুটোর কাজ একই।’

দেশে করোনা ভাইরাস নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৫৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি। এখন পর্যন্ত দেশে করোনা ভাইরাসের রোগী নেই। কোয়ারেন্টাইনে হজক্যাম্পে ছিল ৩১২ জন। এখন হজ ক্যাম্পে অবস্থান করছেন ৩০১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের মধ্যে রোগের কোনও ধরনের লক্ষণ ছিল না। তারা ভালো আছেন। এছাড়া সিএমএইচ-এ আছেন এক শিশুসহ ১১ জন। তারাও কেউ রোগী নন। বাচ্চা থাকার কারণে সেখানে রাখা হয়েছে। তারা সবাই সুস্থ আছে।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছে ৮ হাজার ৪৮৪ জন যাত্রী। গত ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআর-এর হটলাইনে কল এসেছে ১৩৯টি। এর মধ্যে করোনা সংক্রান্ত ছিল ১০৭টি।

error0