শ্রমিক ধর্মঘটে অচল নৌপথ, জনদুর্ভোগ

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: সারা দেশে আজ শনিবার নৌযান শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘট চলছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে খাবার ভাতা, মজুরিসহ বিভিন্ন দাবিতে নৌযান শ্রমিকেরা ধর্মঘটের (কর্মবিরতি) ডাক দিয়েছেন। ধর্মঘটে নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন নৌপথে ছোট–বড় নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ঢাকায় সদরঘাট টার্মিনাল থেকে সকালে নৌ পুলিশ ও লঞ্চমালিকদের সহায়তায় চাঁদপুরগামী চারটি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। বাংলাদেশ জাহাজ শ্রমিক ফেডারেশন ১৪ দফা ও নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ: সকালে নারায়ণগঞ্জ থেকে কোনো ধরনের কোস্টার, বাল্কহেড, ট্যাংকার ছেড়ে যায়নি। দূরপাল্লার কোনো লঞ্চও ছাড়েনি। অন্য কোথাও থেকে লঞ্চ আসেনি। তবে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ নৌপথে ছোট কিছু লঞ্চ চলেছে। ধর্মঘটের কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে যাত্রীরা। ঘাটে নৌযানের জন্য অপেক্ষার পর তা না পেয়ে অনেকেই বিকল্প যান খুঁজে নিয়েছে।

বরিশাল: বরিশালের সব নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। আজ সকাল থেকে বরিশাল নদীবন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ কোনো পথে লঞ্চ চলাচল করেনি। বরিশাল লঞ্চ টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ ১১টি পথে অন্তত ৫০টি লঞ্চ প্রতিদিন যাতায়াত করে। প্রতিদিন ঢাকার সদরঘাট নৌবন্দর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে অর্ধশতাধিক লঞ্চ ছেড়ে আসে। একই ভাবে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকার উদ্দেশে লঞ্চ ছেড়ে যায়। লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে। গন্তব্যে যেতে না পেরে তাঁরা হতাশা প্রকাশ করেন। তবে যেসব লঞ্চ শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেয়, সেসব লঞ্চ যথাসময়ে আজ ভোরে বরিশালে এসে পৌঁছেছে।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন বরিশাল আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি শেখ আবুল হাসেম জানান, ২০১৬ সাল থেকে তাঁরা বেশ কয়েকবার ১১ দফা দাবিতে দেশব্যাপী লাগাতার কর্মবিরতি পালন করেছিলেন। ওই সময় নৌমন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করলেও তাঁদের অধিকাংশ দাবি পূরণ করেনি লঞ্চমালিকেরা। তাঁদের অধিকাংশ দাবি মেনে না নেওয়ায় শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ধর্মঘট শুরু করে।

খুলনা: শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ধর্মঘট পালন করছেন খুলনার নৌশ্রমিকেরা। নৌশ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে সারা দেশের মতো তারাও ওই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কর্মসূচি চলবে। আন্দোলনকারীদের কয়েকজন বলেছেন, ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ১১ দফা উপস্থাপন করা হলেও তাঁদের মূল দাবি, ২০১৬ সালে প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী সর্বস্তরের শ্রমিকদের বেতন দিতে হবে।

শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের ৫ নম্বর খেয়াঘাট এলাকায় বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সবুজ শিকদার শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে মানববন্ধনে ধর্মঘটের ঘোষণা দেন। এর আগে এক মানববন্ধন থেকে ২৯ নভেম্বরের মধ্যে সব দাবি বাস্তবায়নে সময় বেঁধে (আলটিমেটাম) দিয়েছিলেন নৌযান শ্রমিকেরা।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের ঘোষিত ১১ দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারীদের খোরাকি ভাতা ফ্রি করতে হবে ও ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা করতে হবে। মাস্টার ড্রাইভারশিপ পরীক্ষায় ও ডিপিডিসি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সব অনিয়ম বন্ধ করতে হবে এবং কোর্স চলাকালে শ্রমিকদের ছুটি বাধ্যতামূলক করতে হবে। নৌযান শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসালয় করতে হবে। নৌপথে মোবাইল কোর্টের নামে হয়রানি এবং বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নৌশ্রমিকের মৃত্যু হলে ১২ লাখ টাকা মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ভারতগামী শ্রমিকদের লোকাল এজেন্টের মাধ্যমে ল্যান্ডিং পাস সার্ভিস ভিসা ও জাহাজের ফ্রিজিং ব্যবস্থা না থাকায় তাঁদের (শ্রমিকদের) সুবিধামতো স্থানে বাজার ও অন্যান্য কাজের জন্য আলাদা নৌকার ব্যবস্থা করতে হবে।

২০ নভেম্বর সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে নৌযান শ্রমিকেরা মানববন্ধন করেন। পরে বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশনের ১৪ দফা ও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে মালিকপক্ষকে আলটিমেটাম দেন তাঁরা।