বিভাগ - খেলাধুলা

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখলো জামাল-সুফিলরা

প্রকাশিত

স্পোর্টস ডেস্ক: ভুটানের কাছে হেরে এসএ গেমসের ফুটবল মিশন শুরু করে দ্বিতীয় ম্যাচেই হোঁচট মালদ্বীপের কাছে। এরপরে স্বর্ণ যেন এক স্বপ্নই হয়ে যায় সম্ভাবনার স্বল্পতায়। ফাইনালের আশা টিকে রাখতে শ্রীলঙ্কাকে হারাতেই হতো। জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে জামাল ভূঁইয়ারা। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম নিশ্চিত করে ফাইনালের আশা জিইয়ে রেখেছে বাংলাদেশ।

নেপালের দশরথ স্টেডিয়ামে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এটাই প্রথম পূর্ণ পয়েন্ট পাওয়া জামাল-সুফিলদের। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানের কাছে ১-০ ব্যবধানে হার ও দ্বিতীয় ম্যাচে মালদ্বীপের সঙ্গে ১-১ ব্যবধানে ড্র করে স্বর্ণের স্বপ্নে হোঁচট খেতে হয় বাংলাদেশকে।

স্বপ্ন আর বাস্তবতা যে একেবারে ভিন্ন তাই যেন টুর্নামেন্টে প্রথম থেকেই উপলব্ধি করতে থাকে লাল-সবুজরা। মাত্র দু’দিনের অনুশীলন প্রস্তুতি যে একটা জায়ান্ট টুর্নামেন্টের জন্য অপ্রতুল তা হারে হারে টের পেয়েছে ফুটবলাররাও। কেননা প্রায় পুরো জাতীয় দলের ফুটবলারদের নিয়ে সাজানো এসএ-অলিম্পিক দল প্রস্তুতির অভাবে মাঠে ঠিক মতো নিজেদের খেলাটাই যেন খেলতে পারছিল না।

আজ লঙ্কানদের সঙ্গে কিছুটা গোছানো ফুটবল খেলতে দেখা গেছে বাংলাদেশকে। প্রথম থেকেই আধিপত্য নিয়ে খেলে ১১ মিনিটেই ম্যাচে এগিয়ে যায় লাল-সবুজরা। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম গোলটি করেন মাহবুবুর রহমান সুফিল। নবীব নেওয়াজ জীবনকে বসিয়ে একাদশে সুযোগ দেয়া হয় সুফিলকে। এদিকে ইব্রাহিমকে একাদশের বাইরে রেখে বিশ্বনাথ ঘোষকে দিয়ে উইঙ্গার খেলানোর চেষ্টা করেন জেমি ডে। প্রথমেই চাপ বজায় রেখে লিড নেয় বাংলাদেশ।

জামাল ভূঁইয়ার লম্বা থ্রু পাস গিয়ে পরে সাদ উদ্দীনের পায়ে। লঙ্কান গোলরক্ষক সুজান পেরেরা এগিয়ে এলে সাদ বল এগিয়ে দেন সিক্স ইয়ার্ডের ভেতরে ফাঁকায় থাকা সুফিলের পায়ে। সেখান থেকে ওয়ান টাসে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি সুফিল।

প্রথমার্ধেই ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারতো বাংলাদেশ। ৩৬ মিনিটে জামাল ভূঁইয়ার দুর্দান্ত পাসটা একেবারে কাছ থেকে বলটা জালে জড়াতে ব্যর্থ হন বিশ্বনাথ ঘোষ। বল মেরে দেন সাইড বারের বাইরে। প্রথমার্ধ লিড নিয়ে শেষ করে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধে লিডে থাকা বাংলাদেশকে অন্যরকমই দেখালো। যেন ঝিমিয়ে গিয়ে ওই একটা গোলকেই ডিফেন্ড করতে দেখা গেল ফুটবলাররা। বল দখল চলে যায় লঙ্কানদের হাতে। তবে হাতে গোনা দুয়েকটি সুযোগ পায় লঙ্কানরা। সেগুলো বলতে গেলে দুর্বল প্রচেষ্টাই। অন্যদিকে কাউন্টার অ্যাটাকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। তবে সবগুলো প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয় ফিনিশিংয়ের অভাবে।

৭৭ মিনিটে জীবন গোলরক্ষককে একা পেয়েও সহজ ফিনিশিং মিস করে যান। অন্যদিকে ৮৩ মিনিটে ফাঁকা গোলপোস্ট পেয়ে শটটা অদ্ভুতভাবে বাইরে নেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা মোহাম্মদ ইব্রাহিম। অবশ্য শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছেড়েছে জেমি ডে’র শিষ্যরা।

ফাইনালে যেতে হলে এখনও বাকী ম্যাচটা জিততেই হবে বাংলাদেশকে। বিশেষ করে স্বাগতিক নেপালকে হারাতেই হবে রবিবার (৮ ডিসেম্বর)। অন্যদিকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা ভুটানকেও হোঁচট খেতে হবে। আবার নেপাল পয়েন্ট খোয়ালে ভাল সুযোগ থাকতে পারে। মালদ্বীপের সঙ্গে আগামীকাল খেলতে নামবে নেপাল। এ ম্যাচেও উপরেও অনেক কিছু নির্ভর করছে।