সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সভা, দৃষ্টি সবার ৩৯ পদে

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সভা আজ মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন। সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংশ্লিষ্ট সবাইকে সভায় যথাসময়ে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।

২১তম জাতীয় কাউন্সিল ও আংশিক কমিটির পর সবার নজর এখন আওয়ামী লীগের বাকি ৩৯ পদের দিকে। এসব পদে নাম ঘোষণা হলেই পূর্ণাঙ্গ হবে কেন্দ্রীয় কমিটি। এরই মধ্যে ৮১ থেকে ঘোষণা হয়েছে ৪২ পদের নাম।

এতে খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। ছিল না তেমন চমকও। তবুও আগ্রহের কমতি নেই অবশিষ্ট ৩৯ পদ ঘিরে। কি হয় তা দেখার জন্য অপেক্ষায় সবাই। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ২৮ সদস্যপদে বেশ কিছু নতুন নাম আসতে পারে।একই সঙ্গে নয় সম্পাদক ও দুই উপ-সম্পাদক পদেও দেখা যেতে পারে নতুন মুখ। এ ছাড়া নতুন বছরে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক।

আজ মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি। সে পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে। এ বিষয়ে রোববার সচিবালয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আজ মঙ্গলবার দলের প্রেসিডিয়ামের মিটিং ডাকা হয়েছে।

সেখানে দলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনা আছে। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের পর মন্ত্রিসভায় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাস একটি রুটিন ওয়ার্ক। নতুন বছরে এটা হতে পারে।

রেওয়াজ ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউন্সিলের পর প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যপদে নেতা মনোনীত করার বিধান আছে। গঠনতন্ত্রের ১৯ ধারায় এ বিষয়ে বলা হয়েছে- ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি গঠনতন্ত্রের ১৮ ধারায় বর্ণিত কার্যনির্বাহী সংসদের ২৮ জন সদস্য সভাপতিমণ্ডলীর সহিত আলোচনাক্রমে মনোনয়ন দান করিবেন এবং উক্ত মনোনয়ন কাউন্সিল অধিবেশন সম্পন্ন হওয়ার ২১ দিনের মধ্যে ঘোষিত হইবে।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসহ কেন্দ্রীয় কমিটির ফাঁকা রাখা অন্যান্য পদে মনোনয়ন দিতে আগামীকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে।

এতে সভাপতিত্ব করবেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকের পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর নবনির্বাচিত নেতারা টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের নতুন সদস্য আবদুর রহমান বলেন, প্রেসিডিয়ামের প্রথম বৈঠকে মূলত কমিটি সংক্রান্ত ব্যাপারেই আলোচনা হবে। এ ছাড়া দায়িত্ব বণ্টন এবং কীভাবে টিমওয়ার্ক গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে। সংগঠনকে কীভাবে তৃণমূল থেকে নতুন উদ্যমে সাজিয়ে-গুছিয়ে আনা যায় সে আলোচনা হবে।

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিলে দলের ৮১ সদস্যের কমিটিতে প্রায় ২৫ জন তরুণকে নেতৃত্বে আনা হয়েছিল। তবে এবারের সম্মেলনে এখন পর্যন্ত তেমনটা দেখা যায়নি। ঘোষিত ৪২ কেন্দ্রীয় পদে মাত্র দু’জন এসেছেন নতুন মুখ।

আর পদোন্নতি পেয়েছেন ৮ জন। এর মধ্যে কার্যনির্বাহী কমিটির দু’জনকে করা হয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদক। ফলে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসহ ফাঁকা রাখা ৩৯ পদে বেশ কিছু নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, যারা দীর্ঘদিন দলে কাজ করেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাননি, তারা এবারের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদস্যপদে দায়িত্ব পেতে পারেন।

কাউন্সিল শেষে শনিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের নেতারা গণভবনে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে তাদের উদ্দেশে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতার হাতে গড়া এ সংগঠন। আমরা সংগঠনটাকে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আমাদের এখন নেতাকর্মী অনেক। সবাইকেই মাথায় রাখতে হয়। একেক সময় একেকজনকে (দায়িত্ব) দিতে হয়। আগামীতে যেন সংগঠনটা ভালোভাবে চলে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের এক সদস্য বলেন, ঘোষিত আংশিক কমিটিতে খুব বেশি পরিবর্তন না হলেও কার্যনির্বাহী সদস্যপদে বেশ কিছু নতুন মুখ আসবে। কারণ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হচ্ছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রথম ধাপ।

এদিকে আলোচনা থাকলেও এবারও শেখ হাসিনা ছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসছেন না বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্য কোনো সদস্য। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রোববার ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ রেহানা, রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, সজীব ওয়াজেদ জয়- কেউই এখনই রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী নন। শেখ পরিবারের অন্য কেউ রাজনীতিতে আসবে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

নেতাদের অভিনন্দন : এদিকে আওয়ামী লীগের নতুন কেন্দ্রীয় নেতাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। শনিবার দুপুরে কমিটি ঘোষণার পর বিকাল থেকেই শুরু হয় শুভেচ্ছাপর্ব। নেতাদের বাসা-অফিসে ফুলের তোড়া নিয়ে ভিড় করেন তারা। চলে গভীর রাত পর্যন্ত। রোববার সকাল থেকে আবারও শুরু হয় শুভেচ্ছা জানানো।

সকাল ৭টা থেকেই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সংসদভবনস্থ সরকারি বাসভবনে কয়েক হাজার নেতাকর্মী ভিড় করেন। সরেজমিন দেখা যায়, পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদককে শুভেচ্ছা জানাতে ফুলের তোড়া হাতে হাজির হয়েছেন তারা। সময় ভিড় ও ওবায়দুল কাদেরের ব্যস্ততার কারণে অনেকেই শুভেচ্ছা না জানিয়ে ফিরে গেছেন। অন্য নেতাদের বাসায়ও একই অবস্থা ছিল বলে জানা গেছে।

এদিকে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের ভিড় না থাকলেও ধানমণ্ডি কার্যালয়ে রোববার সকাল থেকেই সরব উপস্থিতি ছিল তাদের।

দুপুরের পর থেকে এ সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে। বিকালে কার্যালয়ে যান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বেশ কয়েকজন নবনির্বচিত কেন্দ্রীয় নেতা। সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীরা নতুন নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়।