সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার দৃষ্টান্ত গড়লেন শায়েস্তাগঞ্জের কৃষক গিয়াস উদ্দিন

প্রকাশিত

মঈনুল হাসান রতন হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার দৃষ্টান্ত গড়লেন হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জের কৃষক গিয়াস উদ্দিন। তিনি উপজেলার জগতপুর গ্রামের মোছলেম উদ্দিনের ছেলে। তার এক ছেলে ও তিন মেয়ে আছে। তিনি একবার লিবিয়া ও একবার দুবাই গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রবাসে সুবিধা করতে পারেননি। তাই দেশে ফিরে সবজি চাষ শুরু করেন। এক মৌসুমেই তিনি লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেন।জানা যায়, গিয়াস উদ্দিন জমি বর্গা নিয়ে কৃষি কাজ শুরু করেন। আর এতেই সফল হন। কৃষি কাজ করে ছেলেকে বিদেশ পাঠান। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বাড়িতে পাকা ঘর করেছেন। তার এ অভাবনীয় সাফল্যে নড়েচড়ে বসেছেন অনেক কৃষক। তার দেখানো পথে অন্যরাও সবজি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।গিয়াস উদ্দিনের খামারের টমেটো, লাউ, বেগুন, করল্লা, শসা, বরবটি এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। পাশাপাশি তার সবজি বিষমুক্ত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানেও যাচ্ছে। তিনি একই জমিতে বেশি ফলন ও সারা বছর ফসল পেতে সাথী ফসল চাষ করেন। পাইকাররা ক্ষেত থেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছে।নিজের পর্যাপ্ত জমি না থাকায় বর্গা নিয়ে ৪০ শতক জায়গায় বরবটি চাষ করেন। এর আগে একই জায়গায় টমেটো চাষেও লাভবান হয়েছেন। এখন প্রতিদিন ৪-৫ মণ বরবটি বিক্রি করেন। প্রতিকেজি বরবটি পাইকারি বিক্রি করেন ১৮-২০ টাকা। পুরো জমিতে তার খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকার মতো। তবে এবার বরবটি বিক্রি হবে লাখ টাকার মতো।কৃষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘দুই বার বিদেশ গিয়েও কিছু করতে পারিনি। কিন্তু আল্লাহর রহমতে বিভিন্ন সবজি চাষ করে সফল হয়েছি। আমাকে সব সময় বীজ, সার ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেন কৃষি অফিসের লোকজন। আমার কাজ দেখে অনেকেই বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন। কেউ আমার কাছে পরামর্শ চাইলে সহযোগিতা করি।শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘চাষি গিয়াস উদ্দিন কৃষকদের আইডল। আমাদের কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় তিনি বরবটি চাষ করেছেন।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) সুকান্ত ধর বলেন, ‘গিয়াস উদ্দিন একজন সফল চাষি। তিনি কৃষি কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। আমরা তাকে সার্বিক সহযোগিতা করি। তাকে স্থানীয় বীজ উৎপাদন উদ্যোক্তা হিসেবে কৃষি অফিস থেকে বাছাই করা হয়েছে।’