বিভাগ - সারাদেশ

সিলেট জেলা প্রশাসকের সাথে হিন্দু-বৌদ্ধ -খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের মতবিনিময়

প্রকাশিত

সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামের সাথে সিলেটের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যথাযথ কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার নেতৃবৃন্দ। ১১ ডিসেম্বর বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টায় জেলা প্রশাসকের কনফারেন্স হলে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নেতৃবৃন্দ সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামের নিকট বিভিন্ন দাবি-দাওয়া উত্থাপন করে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে মহানগর শাখার সভাপতি এডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা মুল লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী গোপাল টিলার দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাৎ ও পরিবেশ ধ্বংসের অপচেষ্টার ধর্ম, বর্ন নির্বিশেষে সিলেটের বিভিন্ন স্তরের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রামের পাশাপাশি আইনি লড়াই চালিয়ে আসছে। দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ টিলার মাটিকাটা বন্ধ ও নতুন স্থাপনা নির্মানের বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্টের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ অদ্যাবদি বহাল থাকা সত্ত্বেও হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনেকেই অবৈধভাবে টিলার মাটি কেটে বহুতল বিশিষ্ট পাকাগৃহ নির্মান করছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনের দাবী জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, অর্পিত সম্পত্তির তফসিল ভুক্ত ভূমির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও তা নামজারী না করায় প্রকৃত মালিকগণ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। উল্লেখ্য যে, সিলেটের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী সমাজ সেবায় রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রাপ্ত প্রয়াত সুহাসিনী দাস এর বসতবাড়ি অবৈধ দখলমুক্ত করা সম্পর্কে মহামান্য হাই কোর্ট আদেশ প্রদান করা সত্ত্বেও তার উত্তারধিকারিগণের নিকট উক্ত সম্পত্তি অদ্যবদি দখল হস্তান্তর না হওয়া জরুরি ভিত্তিতে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানান। নগরীর পাঠানটুলায় অবস্থিত তারাপুর চা বাগান ধংসের বিরুদ্ধে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও কিছুৃ সংখক অবৈধ দখলদার চা বাগানের ভূমিতে স্থায়ী অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে চা বাগানের ক্ষতি সাধন করছে যা মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের সুস্পষ্ঠ লংঘন এই ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনের দাবী জানানো হয়। সিলেট নগরীর নয়াসড়কস্থ প্রেস বিটারিয়ান চার্চ এ বেশ কিছুদিন যাবত কিছু সংখ্যক ভূমি খেকোর কুদৃষ্টির কারণে ঐতিহ্যবাহী এই চার্চ এর ভূ-সম্পদ দখলের অপচেষ্টা পরিবেশ ধ্বংসের হুমকি ও নিরীহ খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের মিথ্যা ও হয়রানি মূলক মামলার বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণের জোর দাবী জানানো হয়।

সিলেটের টিলাগড়স্থ কল্যানপুরে জনৈক আহমদ আলী কতৃক শিবমন্দির ভাংচুরের ব্যাপারে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণের দাবী জানানো হয়। উপরোক্ত লিখিত বক্তব্যের আলোকে সিলেটের জেলা প্রশাসক প্রতিটি বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করেন। মতবিনিময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সিলেট মহানগরে উপদেষ্টা এডভোকেট পি.কে রায়, মহানগর ঐক্য পরিষদ সভাপতি এডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, জেলা ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট প্রদীপ কুমার ভট্টাচার্য, পূজা পরিষদ কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক রজত কান্তি ভট্টাচার্য্য, পূজা পরিষদ সিলেট মহানগরের সভাপতি সুব্রত দেব, ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় সদস্য কৃপেশ চন্দ্র পাল, পূজা পরিষদ সিলেট জেলা সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রঞ্জন চন্দ্র ঘোষ, ঐক্য পরিষদ মহানগর সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দেব, জেলা ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস, দক্ষিণ সুরমা ঐক্য পরিষদের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সুবল চন্দ্র পাল, প্রেসিডিয়াম সদস্য দীপন, ঐক্য পরিষদ জেলার প্রেসিডিয়াম সদস্য নিঝুম সাংমা, ট্রাইব্যাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন চেয়ারম্যান দানেশ সাংমা, আইনজীবি ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক এডভোকেট কল্যাণ চৌধুরী, সদস্য এডভোকেট দেবতোষ দেব, সিনিয়র এডভোকেট প্রল্লাদ চন্দ্র দেব, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পূজা পরিষদের সভাপতি অখিল চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ।