বিভাগ - ধর্ম

সিয়াম ওতাকওয়া: আত্মিক উন্নয়নের রূপরেখা

প্রকাশিত

মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ
মানুষের সৎগুনাবলীর মধ্যে তাকওয়া এমন একটি গুণ যা সমাজ জীবনে মানুষের মধ্যে প্রফেশনালিজম তৈরী করে। তাকওয়ার গুনের ফলেমানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।এগুনমানুষকেসৎহিসেবেচলতেমানসিকশক্তিদেয়এবংব্যক্তিকেসৎবানায়। যারফলেপরিবারওসমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ সৃষ্টি হয়।তাকওয়ার অভাবে ভোগবাদী ও বস্তুবাদী মানসিকতার জন্ম হয়; ফলে মানব চরিত্র পাপকর্মে লিপ্ত হয়ে সামাজিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। যার নজির বর্তমান বিশ্বের সর্বত্র বিরাজমান। সমস্যাসংকুল ব্যক্তিগত, পারিবারিক, রাষ্ট্রীয় এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাকওয়ার গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা অবশ্যম্ভাবী।মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে যতদিন না তাকওয়া সৃষ্টি হবে, ততদিন মানব জাতির সামগ্রিক কল্যাণ ও মঙ্গল আশা করা যায় না। তাই বলা যায়, তাকওয়া হলো, মানুষের দুনিয়া ও আখেরাত জীবনের মুক্তি ও নাজাতের মূল চাবিকাঠি।তাকওয়ার এ অনবদ্য গুন অর্জনে সিয়ামের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। কোনো ব্যক্তি যথাযথ আদাব রক্ষা করে সিয়াম পালন করলে এ তাকওয়ার গুন অর্জিত হতে পারে। তাকওয়ার গুন অর্জনের অন্যতম একটি মাধ্যম হলো- সিয়াম পালন। কারন এ ইবাদত শুধু মহান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে পালন করা হয়।

তাকওয়া আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা, পরহেজ করা ইত্যাদি। শরিয়তের পরিভাষায় তাকওয়া হলো, একমাত্র আল্লাহর ভয়ে যাবতীয় অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। যে ব্যক্তির মধ্যে তাকওয়া থাকে তাকে মুত্তাকি বলা হয়। সৎ গুণাবলির মধ্যে তাকওয়া হচ্ছে অন্যতম। যার মধ্যে তাকওয়া থাকে সে পার্থিব জীবনের লোভে কোনো খারাপ কাজ করে না এবং পরকালীন জীবনের কল্যাণ ও মঙ্গলের কাজে সব সময় নিজেকে নিয়োজিত রাখে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নিজেকে শিরক, কবিরা গুনাহ ও অশ্লীল কাজকর্ম-কথাবার্তা থেকে বিরত রাখে তাকে মুত্তাকি বলা হয়। পক্ষান্তেরে সিয়াম হলো আল্লাহর নির্ধারিত নির্দেশনার মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে পানাহার ও যৌনাচার থেকে নিজেদের বিরত থাকা। শুধু এ তিনটি বিষয় থেকে বিরত থাকাই নয়; বরং এ সময় অশ্লিল কথা ও কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হয়।সুনির্দিষ্ট আদাবসহ সিয়াম পালনের মাধ্যমে ব্যক্তির আত্মিক উন্নতি লাভের ফলে তাকওয়ার গুন লাভ হওয়ার সুযোগ তৈরী হয়। কেননা, সিয়াম পালনরত ব্যক্তি মিথ্যা কথা, মিথ্যা অভ্যাস ও মূর্খতা ছাড়তে না পারলে তাঁর পানাহার ত্যাগ করা আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই মর্মে হাদীসে এসেছে। (বুখারী: ১৮০৪) তাকওয়ারআবেদনের মতো সিয়ামের চেতনাও মানুষকে পরিশুদ্ধ করতে, আত্মিক উন্নয়ন ঘটাতে ও আলোকিত মানুষে পরিণত করতে অনবদ্য ভূমিকা পালন করে। তাই বলা যায় যে, সিয়ামের সাথে তাকওয়ার সুনিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে।

তাকওয়া মানুষের চরিত্রের অন্যতম প্রত্যাশিত ও লোভনীয় সম্পদ। ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনের মূল ভিত্তি হচ্ছে তাকওয়া। ব্যক্তিগত ও জাতীয় পর্যায়ে সুষ্ঠু ও সুন্দর জীবনযাপনের চালিকাশক্তি হচ্ছে তাকওয়া। কারন, কোনো ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালাকে প্রকৃত পক্ষে ভয় পেলে সে দুনিয়াবী যাবতীয় অনাচার থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে। তার জীবন স্বাভাবিক ও সাধারন অন্য লোকদের মতো হবে না। যেমনিভাবে সত্যিকারের রোযাদার আর সাধারন রোযাদারের মাঝে অনেক পার্থক্য রয়েছে। সাধারন রোযাদার সিয়াম পালরত অবস্থায় ইসলামের যাবতীয় নিষেধাবলী থেকে দূরে থাকা বা পরিহার করার ব্যাপারে সিরিয়াস থাকে নাবরং রোযা রেখেই ঘুষ খাবে, ওজনে কম দেবে বা অন্যান্য অনাচারে লিপ্ত হবে। আর আদাবসহ সিয়াম পালনকারী ব্যক্তি সিয়ামপালনরত অবস্থায় আল্লহর সান্নিধ্যের জন্য ইবাদত বন্দেগী আরো বৃদ্ধির পাশাপাশি ইসলামের নিষেধাবলীসমূহথেকে নিজেকে দূরে রাখবে। রোযাদার ব্যক্তি সম্পূর্ণরূপে পবিত্র হতে, নিজের আত্মিক উন্নয়ন ঘটাতে এই পবিত্রতম সময়েআরো বেশী মনযোগী হন । সত্যিকারভাবে আল্লাহর কাছে ইবাদত গ্রহনযোগ্য হওয়ার জন্য খুলুসিয়্যাতের মতো নির্ভেজাল চেতনা থাকা আবশ্যক। তাকওয়ার অধিকারী ব্যক্তি এ চেতনায় অগ্রগামী হন। সিয়াম এ চেতনা তৈরীতে নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করে।

মানব জীবনে তাকওয়ার গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। মহান আল্লাহবলেন, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় কর।’ (সূরা আলে ইমরান-১০২)আরও বলা হয়েছে- ‘এবং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আর মনে রেখ, নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকিদের সঙ্গে আছেন।’ (সূরা বাকারা-১৯৪, তাওবা-১২৩)। তাকওয়া আল্লাহর নৈকট্য ও ভালোবাসা লাভ করার উপায়। কুরআন মাজিদে এরশাদ হয়েছে- ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন।’ (সূরা তাওবা-৪,৭; ইমরান-৭৬)আল্লাহতায়ালা অপর আয়াতে এরশাদ করেন- ‘মুত্তাকিরা থাকবে নিরাপদ স্থানে।’ (সূরা দুখান-৫১)মুত্তাকিরা আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহপাকের বাণী- ‘তোমাদের মাঝে সে ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকি।’ (সূরা হজুরাত-১৩)

তাকওয়া শুধু মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয় না, বরং তা জান্নাতে প্রবেশ করতেও সাহায্য করে। যেমন মহান আল্লাহপাকের বাণী- ‘আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে এবং নিজেকে কুপ্রবৃত্তি থেকে ফিরিয়ে রাখে, নিশ্চয় জান্নাত হবে তার আবাসস্থল।’ (সূরা নাযি’আত : ৪০-৪১) পক্ষান্তরে সাওম পালনের মাধ্যমে ব্যক্তির যাবতীয় গুনাহ বা অপরাধ থেকে পবিত্র হওয়ার সুযোগ তৈরী হয়। যদি কেউ সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চায়। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যদি কেউ ঈমান ও ইহতেসাবের সাথে সিয়াম পালন করে, তার যাবতীয় গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (বুখারী) এ হাদীসটি ভিন্ন ভাষায় আরো বর্ণিত হয়েছে, যদি কেউ ‘কিয়ামুল্লাইল করে’ অন্য জায়গায় এসেছে ‘ক্বাদর রাতে কিয়ামুল্লাইল করে’ তাঁর সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। পাপমুক্ত হওয়ার ভেতর দিয়ে ব্যক্তি মুত্তাকী হন। এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালাকে ভয় পাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি তৈরী হয়। আর এ সমস্ত লোকদের লাইফ স্টাইল অন্যদের চেয়ে ভিন্নতর হতে থাকে। এ সৎ গুনের প্রভাব পড়তে থাকে ব্যক্তি, সমাজ, পরিবার ও সভ্যতার দেয়ালে।
তাকওয়া প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) থেকে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) কে প্রশ্ন করা হলো, ইয়া রাসুলুল্লাহ, মানুষের মধ্যে অধিক সম্মানিত কে? তিনি বললেন, তাদের মধ্যে যে অধিক মুত্তাকি বা পরহেজগার। (বুখারি ও মুসলিম)অন্য দিকে হাদীসে পাপ থেকে বেঁচে থাকার ঢাল হিসেবে সাওম কে উপস্থাপন করা হয়েছে। ঢাল যেভাবে সেইভ করে ব্যক্তিকে শত্রুর আক্রমণ থেকে, সাওমের চেতনাও মানুষকে অপরাধ থেকে দূরে রাখে। ফলে সে আল্লাহর মুত্তাকী বান্দায় পরিণত হতে শুরু করে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুল (সা.) আল্লাহর কাছে এভাবে দোওয়া করতেন, হে আল্লাহ! আমাকে হিদায়াত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও অমুখাপেক্ষিতা এসব গুণ দান করুন। (মুসলিম) হজরত আদী ইবনে হাতিম তাই (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে শপথ করে, অতঃপর সে অন্য কিছু এর চেয়ে বেশি তাকওয়াপূর্ণ মনে করে, তবে সে যেন তাকওয়াপূর্ণ বিষয়কেই অবলম্বন করে। (মুসলিম)

মহানবী (সাঃ) এর প্রখ্যাত সাহাবী হযরত উবাই ইবনে কা’ব (রাঃ) যিনি ইলমে কোরআন বিশেষ ব্যুৎপত্তিওদক্ষতারঅধিকারীছিলেন (এবংস্বয়ংরাসূলুল্লাহ(সাঃ) ওজ্ঞানেরক্ষেত্রেযারবিশেষমর্যাদারকথাপ্রত্যয়নকরেছেন)।একদিনআমীরুলমুমিনীনহযরতওমর(রাঃ)তাকেজিজ্ঞাসাকরলেন, তাকওয়া (তথা পরহেজগারী)-এর তাৎপর্যকি? হযরত উবাই (রাঃ) বললেন, ‘কখনও কণ্টাকাকীর্ণ পথ চলার সুযোগ তো অবশ্যই আপনার হয়ে থাকবে।’ হযরত ওমর (রাঃ) বললেন, ‘বিলক্ষণ; বহুবার এমন পথ চলার সুযোগ হয়েছে।’হযরত উবাই (রাঃ) বললেন, ‘তখন আপনি কি করেছেন?’ হযরত ওমর (রাঃ) বললেন, ‘আমি আমার দেহ ও পরিধেয় কাপড়-চোপড়কে কাঁটা থেকে বাঁচিয়ে অক্ষত বেরিয়ে যেতে পারি।’ হযরত উবাই (রাঃ) বললেন, ‘ফাজালিকাত তাকওয়া’। (এটিই হলো তাকওয়ার তাৎপর্য)। (ইবনেকাসীর : ১মখন্ড, পৃ. ৪০)। আসলে তাকওয়ার এর চাইতে সালঙ্কার ও উত্তম ব্যাখ্যা আর কিছুই হতে পারে না।

কোরআন মাজীদের যেসব আয়াতে তাকওয়া বা পরহেজগারী অবলম্বনের উপদেশ ও তাকিদ করা হয়েছে, সেসবগুলো গণনা করাও কঠিন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় করো যেমনটি তাকে ভয় করা উচিত। আর (শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এ তাকওয়ার ওপর স্থির থেকে মনেপ্রাণে নিজের সে মালিকের আনুগত্য করতে থাক এমনকি) সেই আনুগত্যের অবস্থায়ই যেন তোমার মৃত্যু আসে।’ (সূরা আল ইমরান : ১০২)।অর্থাৎ, যে আল্লাহ তায়ালার সমস্ত কিছুর সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা এবং যার হাতে জীবন ও মৃত্যুর যাবতীয় ব্যবস্থাপনা। যিনি অপরিসীম করুণা ও রহমতের অধিকারী এবং যার পরাক্রম ও রোষেরও কোনো সীমা-পরিসীমা নেই। এমনি মালিককে বান্দার যেভাবে ভয় করা কর্তব্য, ঈমানদাররা তাকে সেভাবেই ভয় করে থাকবে। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার আনুগত্য করতে থাকবে।

সূরা তাগাবুনে এ বিষয়টিই এভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে, ‘আল্লাহকে ভয় করা এবং তাকওয়া (পরহেজগারী) অবলম্বন করো যতটা তোমাদের দ্বারা সম্ভব। আর মনেপ্রাণে তার যাবতীয় নির্দেশ শোন ও পালন করো।’ (সূরা তাগাবুন: ১৬)।সূরা হাশরে বলা হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় করো। বস্তুত প্রত্যেক নিঃশ্বাসগ্রহণকারীর অবশ্যই লক্ষ করা (এবং ভাবা) উচিত যে, কালকের জন্য অর্থাৎ আখেরাতেরজন্য) সেকিপ্রেরণকরল (পাথেয়ব্যবস্থাকরল)। আর (তোমাদের বারংবার তাকাদা করা হচ্ছে যে,) আল্লাহকে ভয় করতে থাক। বস্তুত এ কথা নিশ্চিত যে, আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় ভ‚ত-ভবিষ্যৎ কৃতকর্মসম্পর্কেসম্যকঅবগত (তোমাদেরকোনোকর্মতারকাছেগোপননেই)। (সূরাহাশর : আয়াত১৮)।

আলকুরআনে কারিমের বিভিন্ন আয়াত ও হাদিস বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, আল্লাহ আখেরাত দিবস (পরকাল) ও নবুয়ত পরম্পরার প্রতি ঈমান আনার পর যেসব বিষয়ের দাওয়াত কোরআন মাজীদ বিশেষ গুরুত্ব সহকারে দিয়েছে এবং সেগুলোকে বলতে গেলে মানুষের কল্যাণ ও সৌভাগ্যের চাবিকাঠি হিসেবে বর্ণনা করেছে, তন্মধ্যে একটি হলো তাকওয়া বা পরহেজগারী। তাকওয়ার আসল তাৎপর্য হলো এই যে, বান্দা আল্লাহ তায়ালা ও আখেরাত দিবসের প্রতি নিশ্চিত বিশ্বাস সহকারে আল্লাহ তায়ালার অসন্তোষ, তার পাকড়াও, আখেরাতের আযাব ও হিসাব-কিতাবের ভয়ে সতর্ক-সংহত জীবনযাপন করবে। অন্যদিকে সিয়াম পালনের মাধ্যমে মানুষের লাগামহীন জীবন-যাপনের নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি নির্দিষ্ট ছকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রত্যেকটি মানুষকে আল্লাহর বিধানের আওতায় দিনাতিপাত করতে হয়। ফলে সর্বদা সিয়ামের আদাব পালনের জন্য সতর্ক থাকতে হয়। পরকালের শাস্তির ভয় এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির তীব্র নেশায় ঈমানদারগণ পাগলপারা থাকেন এ সময়ে। তাকওয়ার শক্তি যেমনিভাবে ব্যক্তিকে সোনার মানুষে তৈরী হতে উপজিব্য ভুমিকা পালন করে; ঠিক তেমনিভাবে সিয়াম আদায়ও মানুষকে আলোকিত মানুষ বানায়।পরিশুদ্ধ, পবিত্র ও আলোকিত মানুষে পরিণত করে। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সিয়াম পালনের মাধ্যমে মুত্তাকী হয়ে জীবন-যাপনের সুযোগ দিন। আমাদের কবুল করুন। আমীন।

মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ
পিএইচডি গবেষক
ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়