বিভাগ - সারাদেশ

সৈয়দপুর সরকারি শামছিয়া ফাজিল(ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ডক্টর সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ সংবর্ধিত

প্রকাশিত

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার, বিশেষ প্রতিবেদক: ২৬ জানুয়ারি রোজ রবিবার বাদ মাগরিব,সুনামগঞ্জ জেলা জগন্নাথপুর উপজেলা ঐতিহ্যবাহী গ্রাম সৈয়দপুর দ্বীনি পাঠাগার সৈয়দপুরের পক্ষ থেকে সৈয়দপুরের কৃতিসন্তান, ক্বাওমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অঙ্গনের সফল ও উজ্জ্বলনক্ষত্র ব্যক্তিত্ব, সৈয়দপুর সরকারি শামছিয়া ফাজিল(ডিগ্রি) মাদ্রাসার সুনামধন্য এবং জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যক্ষ হাফিজ মাওলানা ড.সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ (“ডক্টর অফ”)ফিলোসোফি (P.H.D)জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করায় এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ।

উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মারজান ফেদাউর এর সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জামিয়া দারুল হাদিস সৈদয়পুরের সুনামধন্য শিক্ষক হযরত মাওলানা আলী আহমদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সমাজসেবক মাওলানা সৈয়দ মুনছিফ আলী (সাবেক সফল মেম্বার) বিশিষ্ট চিকিৎসক, শিক্ষানুরাগী হাকিম হযরত মাওলানা সৈয়দ তাজুল ইসলাম। প্রধান আলোচক ও সংবর্ধিত অতিথি অধ্যক্ষ হাফিজ মাও. ডক্টর.সৈয়দ রেজওয়ান অহমদ।

প্রধান অতিথি বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ মাওলানা আলী আহমদ প্রথমে ডক্টর রেজওয়ান আহমদের প্রতি অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন বুকভরা আশা আর দু-চোখ স্বপ্নের মশাল জ্বেলে জ্ঞানের ভুবনে যারা গমন করে তারাই প্রকৃত পক্ষে ছাত্র । তাই তো বলা ছাত্ররা নং অধ্যায়ন অর্থাৎ অধ্যায়নই জীবনের তপস্যা । ছাত্র জীবন হলো জীবন গঠনের শ্রেষ্ঠ সময়, নিজেকে সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ার শ্রেষ্ঠতম সময়। এই শ্রেষ্ঠতম সময় যথোপযুক্ত জ্ঞান অর্জন করার নিমিত্তে সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীরা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা লাভ করে। তাদের এই শিক্ষা লাভের ও একটা উদ্দেশ্য আছে । যুগে যুগে মহা মনীষীরা শিক্ষার এই উদ্দেশ্যকে নানানভাবে সঙ্গায়িত করেছেন। মহান দার্শনিক সক্রেটিসের মতে – শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো মিথ্যার বিনাশ আর সত্যের আবিষ্কার। তারই সুযোগ্য শিষ্য বিখ্যাত দার্শনিক প্লেটোর মতে ” শরীর ও আত্নার পরিপূর্ণ বিকাশ ও উন্নতির জন্য যা কিছু প্রয়োজন, তা সবই শিক্ষার উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত। প্লেটোর শিষ্য আর এক মহান দার্শনিক এরিস্টোটলের মতে – শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো ধর্মীয় অনুশাসনের অনুমোদিত পবিত্র কার্যক্রমের মাধ্যমে সুখ লাভ করা। দেহ ও মনের সমান্তরাল পুর্ণ বিকাশই শিক্ষার উদ্দেশ্য। আল্লামা ইকবাল বলেন ” পূর্ণাঙ্গ মুসলিম তৈরি করাই হবে শিক্ষার মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য। শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনাও অনুরাগের পূর্ণবিকাশও তার নৈতিক কাংখিত প্রকাশ।

আলী আহমদ বলেন-সঠিক শিক্ষার আলো পথের দিশারি ভবিষ্যতের বাতিঘর হিসেবে আমরা ডক্টর রেজওয়ানকে নিয়ে আশাবাদী। এক কথায় বলতে গেলে সুনামগঞ্জ জেলা জগন্নাথপুর উপজেলাসহ ঐতিহ্যবাহি গ্রামের সর্ব-সাধারণ মানুষের কাছে একটি ভালবাসার নামও শিকড়ে উচ্চতায় আসিন হয়ে সেই লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে ভালবাসা লাভে সক্ষম হয়েছেন ডক্টর রেজওয়ান। সৈয়দপুর গ্রাম থেকে তখন লেখাপড়া হাতের খড়ি শিখে বড় হওয়া ছিল অনেকটা যুদ্ধ জয়ের মতোই খুবই কঠিন কাজ। আজ আমাদের গর্বিত রেজওয়ান সাফল্যের সিড়ি বেয়ে অনেকটা উপরে উঠেছেন। শিক্ষার আলোয় আলোকিত পথও দিকের সন্ধানে সফল অর্জন কারি ব্যক্তি ডক্টর রেজওয়ান আমাদের প্রত্যাশার কথা আমি ব্যক্ত করতে চাই এভাবে-ডক্টর রেজওয়ান মিথ্যার বুকে কিক দিক-সত্যের পথে ঠিক-দিক, আলোকিত ভালো দিক দিক! সেই প্রত্যাশা কামনাকরি।

বিশেষ অতিথি সৈয়দ মুনছিফ আলী বলেন-আমাদের ঐতিহ্য বাহি সৈয়দপুরের কৃতি সন্তান আমাদের গর্ব অধ্যক্ষ ডক্টর হাফিজ মাওলানা সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ শুধুমাত্র এই গ্রামের সুনাম অর্জন করেননি তিনি গোটা সুনামগঞ্জ জেলার মানসম্মান সমুন্নত অর্জনে কৃতিত্বে সক্ষম হয়েছেন। আজকের এ পর্যায়ে তাঁহাকে পৌঁছতে ইতিপূর্বে অনেক কণ্ঠিকা কীর্ণ পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। অনেক প্রতিকূলতাকে অপেক্ষা করে তিনি ডক্টর রেজওয়ান আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছেন।

মুনছিফ আলী আরও বলেন- পূর্ণাঙ্গ মানুষের আত্মপ্রকাশের জন্য যেসব গুণাবলি নিয়ে শিক্ষার্থী এ পৃথিবীতে আগমন করেছে শিক্ষার উদ্দেশ্য হবে সেসব গুণাবলির যথাযথ বিকাশ সাধন। সেই আলোকে এক ব্যতিক্রম মানুষ হচ্ছেন রেজওয়ান। আর আজ সেই কারনেই তিনি আমাদের এলাকার স্বমাধন্য ব্যক্তিত্বের মধ্যে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রতিটি স্তরের মানুষের জীবনেই সম্ভবত এমন কিছু স্মৃতি,শ্রুতি,এবং উজ্জ্বল প্রভা মণ্ডিত খন্ড খন্ড ঘটনার ইতিবৃত্ত থাকে।যা কখনও মস্তিষ্কের কোষলতা থেকে হারিয়ে যায় না। অগণন নক্ষত্রের আলো হয়ে মনের আকাশে সদা প্রদীপ্ত থাকে।সেই আলোকে ডক্টর রেজওয়ান এখন অতীতের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ, যোগ্য, ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ও কর্মনিষ্ঠ এবং সামর্থ্যবান হিসেবে সফলতা অর্জন করেছেন। আগামীতে আরও সাফল্যের সিড়ি বেয়ে উঠতে পারেন সেই শুভকামনা রইল।

বিশেষ অতিথি হামিক তাজুল ইসলাম বলেন- ডক্টর রেজওয়ান আজ জাতির বিবেক হিসেবে আভিভুত্ব হয়েছেন। সাফল্যের শিখড়ে তার অত্যুঙ্গ আরোহন আজ ভরে দিয়েছে সেই পূর্ণ প্রত্যাশার দিক -দিগন্ত গুলোকে। কর্ম- মানুষকে মহৎ করে- আর মানুষ বেঁচে থাকে তাঁর কর্মের মধ্যে। মানুষ একটা নিদিষ্ট সময়ের জন্য পৃথিবীতে আসে, যখন শেষ হয়ে আসে তাঁর জীবন তখন আবার চলে যায়। কিন্তু রয়ে যায় তার অমরত্ব স্মৃতি ও কীর্তি। ঠিক এমনই একজন প্রচারবিমুখ কীর্তিমান সাদা মনের মানুষ হচ্ছেন ডক্টর রেজওয়ান। তাই তো বলি- জাতির বিবেক তুমি এক কিংবদন্তি – তব পরশে পাই মনে পরম শান্তি ! পর কল্যাণে সার্থক তব এ জীবন জানি শিক্ষা ও মানবসেবাই করিবে আমরণ। তুমি মোদের গর্ব -জাগ্রত অহংকার- আলোর দিশা দিও মোদের বারবার”! পরিশেষে আল্লাহর কাছে কর্মচঞ্চল ডক্টর রেজওয়ান এই মহত্ত্ব মানুষটির জন্য শতাধিক দীর্ঘায়ু প্রার্থনা করছি। তারিসাথে তিনি রেজওয়ান যেন প্রেরণার উৎস হয়ে আমাদের সকলের মাঝে অনাদিকাল বেঁচে থাকেন চিন্তার মননে ও কর্মে-আমাদের এই প্রার্থনা আল্লাহর কাছে।

উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুফতি সৈয়দ মাওলানা শামীম আহমদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা সৈয়দ রশীদ আহমদ, মাওলানা সৈয়দ আলী আহমদ, মুফতি সৈয়দ শামীম আহমদ, মাওলানা সৈয়দ মকসুদ আলী মুছান্না, হাফিজ সৈয়দ আবছার আহমদ, হাফিজ নব্বীর আহমদ, হাফিজ সৈয়দ শিব্বির আহমদ, মাওলানা আখতার হোসাইন, মাওলানা শামসুজ্জামান, হাফিজ সাইদুর রহমান, মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম ইউসুফ, হাফিজ মাওলানা নাদিল আহমদ, মাওলানা আবদুর রাজ্জাক, সৈয়দ আনাস আহমদ, হাফিজ মাওলানা তামিম আহমদ, সৈয়দ রায়হান আহমদ, মুহাম্মদ কাওছার আহমদ, সৈয়দ মাহদী হাসান, হাফিজ সৈয়দ মারগুব আহমেদ প্রমুখ।

অধ্যক্ষ ডক্টর হাফিজ সৈয়দ মাওলানা রেজওয়ান আহমদ গত ১১ জানুয়ারি ২০২০ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য রাষ্ট্রপ্রতি এডভোকেট আবদুল হামিদের নিকট থেকে পিএইচডি সনদ গ্রহণ করেন।

প্রধান আলোচক ও সংবর্ধিত অতিথি অধ্যক্ষ ডক্টর হাফিজ মাওলানা সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ বলেন — উপযুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এ কথা বলা যায়,যে, সর্বোত্তম চারিত্রিক গুণাবলি অর্জন ও মনুষ্যত্বের বিকাশ সাধন করে ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ লাভের মাধ্যমে মহান সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভই হলো শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য । শিক্ষার এই উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের জীবনে বাস্তবায়ন করাই শিক্ষার্থীদের মূর্খ্যকর্ম। এর ব্যত্যয় হলে শিক্ষার্থীদের জীবন হয় উচ্ছৃঙ্খলতা, অসাধুতা, অসততা, নির্লজ্জ, বেলাল্লাপনা, কুকর্মের বিচরণ ক্ষেত্র। মনুষ্যত্ব শক্তি জাগরণ সৃষ্টিকারি শিক্ষা আর্থ সামাজিক উন্নয়নের একমাত্র হাতিয়ার। শিক্ষা মানুষকে স্বাধীনভাবে শির উঁচু করে দন্ডায়মান হতে শেখায়, পরাধীনতার শৃঙ্খল হতে মুক্ত হতে শেখায় । তৎকালীন বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সেখানে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা চোখে পড়ার মতো এবং প্রশংসনীয়।

দেশসেবার ব্রত নিয়ে শিক্ষা অর্জন করা শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য হওয়া উচিত । ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের ও নিজেদের যোগ্য করে দক্ষ মানবসম্পকে রুপান্তরিত করে দেশসেবায় নিয়োজিত হতে হবে।

তিনি রেজওয়ান আরও বলেন – নিজেকে যথাযথ ভাবে যোগ্য করতে পারলেই সমাজের জন্য দেশের জন্য কাজ করতে সক্ষম হবে । সময়মতো যথাযথ ভাবে কাজে লাগিয়ে যথাযথ জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে সেই যোগ্যতা অর্জনের আহবান জানান। কর্মক্ষেত্রে একজন ডিগ্রিধারীর চেয়ে ও একজন বাস্তব জ্ঞানসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েটের প্রয়োজন বেশি । শিক্ষকরাই জাতির বাতিঘর । শিক্ষকদের মেধা, শ্রম, ও ভালবাসায় তৈরি হয় জাতির নতুন আঙ্গিকে তরুণ প্রজন্ম। শিক্ষা ও আদর্শই একজন শিক্ষার্থীর জীবনের পথেয় ও ব্রত হয়। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জ্ঞানঅর্জন, জ্ঞানসৃষ্টি, ও জ্ঞানবিতরণ জাতীয় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন শিক্ষক সমাজ। শিক্ষকদের প্রতি সাধারণ মানুষ আস্থা ও ভরসা স্থাপন করে বেশি । তাই প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রতি আমার অনুরোধ – আসুন আমরা বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিশ্বমানের মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলি। পৃথীবীর তাবৎ জ্ঞানের দরজা খুলে মানবজাতিকে কল্যাণ ও অগ্রগতির পথ দেখাই।

পরিশেষে আজকের এই আয়োজনকারি দ্বীনি পাঠাগারের সকল সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।