বিভাগ - সারাদেশ

সৌদি থেকে ভিডিও বার্তা, আজমিরীগঞ্জের নির্যাতিতা হোসনা

প্রকাশিত

মঈনুল হাসান রতন হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ভিডিও বার্তায় দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছে সৌদি প্রবাসী হোসনা আক্তার নামে আজমিরীগঞ্জের নির্যাতিতা এক গৃহবধু। ভিডিও বার্তাটি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিও বার্তায় স্বামীর উদ্দেশ্যে হোসনা আক্তার বলেন, ‘আমি মোছাঃ হোসনা আক্তার। আমার দালালে ভালা কথা কইয়া আমারে পাঠাইছে সৌদি। নিজরাল (নাজরান) এলাকায় আমি কাজ করি। আমি আইসা দেখি ভালা না। ওরা আমার উপর অত্যাচার করে। আমি বাক্কা দিন (১০/১২ দিন) হইছে আছি। এখন এরার অত্যাচার আমি সহ্য করতে পারি না দেইক্কা কইছি আমি যাইমু গা। এই কথা বলায় ওরা আরোও বেশি অত্যাচার করে। আমি এজেন্সির অফিসে ফোন দিছি। অফিসের এরা (লোকজন) আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। আমি আর পারতাছি না। তোমরা যেভাবে পারো আমারে বাঁচাও। এরা আমারে বাংলাদেশ পাঠাইতো চায় না। এরা আমারে ইতা করতাছে। আমারে ভালা কামের কথা কইয়া পাঠাইছে দালালে। আমারে ইতা করতাছে ওরা। আমি আর পারতাছি না সহ্য করতাম। তোমরা যেভাবে পারো আমারে নেও’।

জানা যায়, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার আনন্দ পুর গ্রামের মুজিবুর রহমানের কন্যা হোসনা আক্তার (২৪) আর্থিক সচ্ছলতার জন্য গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে প্রায় ২০ দিন পূর্বে ‘আরব ওয়ার্ল্ড ডিস্টিভিউশন’ নামে একটি এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব যান। সেখানে গৃহকর্তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কয়েক দিন আগে স্বামী শফিউল্লাকে ওই ভিডিও বার্তা পাঠান।ভিডিও বার্তা প্রাপ্তির পর হোসনার স্বামী ‘আরব ওর্য়াল্ড ডিস্টিভিউশন’ এজেন্সিতে গিয়ে এসব কথা জানালে এজেন্সির সংশ্লিষ্টরা তার কাছে ১ লক্ষ টাকা দাবী করেন এবং হোসনা সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। আর্থিকভাবে অসচ্চল শফিউল্লা কোনো উপায় না পেয়ে স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য ওই ভিডিও তার এক ভাইয়ের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করান।হোসনার পরিবার সূত্র জানায়, হোসনার বাবার পরিবার দরিদ্র। তাই বিয়ের তিন মাসের মাথায় বাবা মাকে আর্থিক সহযোগিতা করার জন্য সৌদি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। প্রায় ২০ দিন পূর্বে হবিগঞ্জের শাহিন নামে একজন দালাল ‘আরব ওর্য়াল্ড ডিস্টিভিউশন’ নামে একটি এজেন্সির মাধ্যমে গৃহকর্মীর কাজে তাকে সৌদিতে পাঠায়। এজেন্সি থেকে বলা হয় বাসা বাড়ির কাজ করতে হবে এবং তাকে ২২ হাজার টাকা বেতন দেয়া হবে। তবে সৌদি গিয়ে কাজে যোগদানের পরই স্বপ্ন ভঙ্গ হয় হোসনার। অতিরিক্ত কাজের চাপ ও গৃহকর্তার নির্যাতনে শারিরীক ভাবে অসুস্থ হয়ে পরেন তিনি।

সৌদি যাওয়ার এক সপ্তাহ পরই নির্যাতনের কথা স্বামীকে জানান। স্বামী তাকে ফিরে আসার জন্য বলেন। কিন্তু সৌদি আরবের এজেন্সির লোকজন তাকে বাংলাদেশে পাঠাতে অপারগতা প্রকাশ করে এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। ২ বছরের মধ্যে তাকে দেশে পাঠানো যাবে না বলে জানিয়ে দেয় এজেন্সির লোকজন।হোসনার স্বামী শফিউল্লাহ বলেন, ‘আমার স্ত্রী সৌদি যাওয়ার এক সপ্তাহ পরই আমাকে কল দিয়ে নির্যাতনের কথা জানায়। আমি তাকে ফিরে আসার জন্য বলি। কিন্তু এজেন্সির লোকজন তাকে আসতে দিচ্ছে না। এজেন্সিতে কল দিয়ে নির্যাতনের কথা জানিয়ে দেশে ফেরার কথা বললে আমার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালি দেয় এজেন্সির লোকজন। আমার স্ত্রী বলেছে যেখানে কাজ করে সেখান থেকে এজেন্সিতে গেলে এজেন্সির লোকজন গায়ে হাত তোলো মারাত্মক নির্যাতন করে। এখন কি করবো বুঝতেছি না’।

তিনি বলেন, ‘তিন মাস আগে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ২ মাস সে নেত্রকোনায় আমার বাড়িতে ছিল। সেখানে হুসনার বাবা-মা তাকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলেন। তার বাবা-মার কথার উপর ভরসা করে আমি ও আমার পরিবারের লোকজন বিদেশে যাওয়ার সম্মতি দেই। এখন মনে হচ্ছে সৌদি পাঠানো ভুল হয়েছে’।এ ব্যপারে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার নারীর নাম ঠিকানা ও সৌদিতে কোন জায়গায় আছেন সেটা জেনে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবো’।