স্টিফেন হকিংয়ের জন্মদিন উপলক্ষে বিজ্ঞান আলোচনা

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: ৮ জানুয়ারি আমাদের কালের নায়ক বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের ৭৮ তম জন্মদিন।এই উপলক্ষে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির আয়োজনে  বুধবার বিকাল ৪টায় ঢাকায় আয়োজিত হল“হকিং, আইনস্টাইন ও মেরেলিনমনরো”শীর্ষকবিজ্ঞান আলোচনা।এতে আলোচক হসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয় করণ সমিতির সহসভাপতি মুনির হাসান। এই আলোচনায় তিনি স্টিফেন হকিংয়েরতাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানে অবদানের পাশাপাশি তার নিজেস্ব জীবনবোধের কথা তুলে ধরেন।

শুরুতেই তিনিশুভেচ্ছা ও স্বাগতবক্তৃতারপর হকিংয়ের গাওয়া গ্যালাক্সি গান বাজিয়ে আলোচনা শুরু করেন। তিনি বলেন, থিউরিটিক্যাল ফিজিক্সের মত সায়েন্সের কঠিন জিনিস নিয়ে যারা কাজ করতেন তারা স্বাভাবিক ভাবেই গান-বাজনা বা বিনোদন পছন্দ করতেন। এরপর তিনি হকিংয়ের স্কুল জীবন থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন নিয়ে আলোচনা করেন। সেই সাথে হকিংয়ের গবেষনার পিছনে যেই অণুঘটকগুলো কাজ করেছিল সেই ব্যাপারগুলো নিয়ে আলোচনা করেন।

মেরিলিন মনরোর সাথে হকিংয়ের সম্পর্ক বলতে গিয়ে মুনির হাসান বলেন“মেরিলিন মনরোর সাথে হকিংয়ের সম্পর্ক যখন তার বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন শুরু হয়। হকিং মেরিলিন মোনরোর শো দেখে তার বিনোদনের খোরাক যোগাতেন”। হকিংয়ের জীবনে বিনোদনের প্রধান উৎস ছিন মেরিলিন মনরোর।

হকিংয়ের জীবনের আরও নানান ঘটনা বলতে গিয়েআলোচক বলেন, হকিংকে একবার প্রশ্ন করা হয়েছিলআপনার জীবনের লক্ষ্য কি? উত্তরে হকিং বলেছিলেন “ঈশ্বরের মন বুঝতে পারা”।

আজকের এই আলোচনায় আলোচক হকিংয়ের ফিজিক্স, কসমোলজি, বিগ ব্যাং নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যাননি। বরং তিনি হকিংয়ের ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা করেন।মুনির হাসান তার আলোচনা শেষের দিকে উপস্থিত শ্রোতাদের স্টিফেন হকিং সম্পর্কিত নানা প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।এরপর আলোচক বিখ্যাত স্থপতি এফ আর. খানের একটি উক্তি দিয়ে আলোচনাটি শেষ করেন।

A technical man must be lost in his own technology. He must be able to appreciate life, and life is art, drama, music and, most importantly, people.আজকের এই আলোচনায় বিভিন্ন পেশার ও স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া প্রায় ৬০ জন শ্রোতা উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সাধারান সম্পাদক অধ্যাপক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি নিয়মিত ভাবে দেশি-বিদেশি বিজ্ঞানীদের জন্মবার্ষিকী ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিজ্ঞান বক্তৃতার আয়োজন করে থাকে। সেইসাথে বাংলাদেশে বিজ্ঞানকে সর্বস্তরে জনপ্রিয় করতে কাজ করে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি। বিজ্ঞানভিত্তিক মনন গড়ে তুলতে সারাবছরই আয়োজন করা হয় এরকম নানান আয়োজন। তারই অংশ হিসেবে আজ আয়োজিত হল, বিজ্ঞানআলোচনা “হকিং, আইনস্টাইন ও মেরেলিনমনরো”।