আইন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: মন্ত্রী

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দিতে আইন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সেই সুপারিশ এসে পৌঁছায়নি। মন্ত্রণালয়ে এসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুমোদন নিয়ে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করার নির্দেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উনি (আইনমন্ত্রী) যা বলেছেন ঠিক আছে। কিন্তু আপনাদের আর একটু অপেক্ষা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সিগন্যাল নিয়ে প্রক্রিয়া করতে হবে। উনার ফাইল এখনও অ্যাপ্রুভ হয়নি। আইনমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই বলেছেন। তবে আইনমন্ত্রীর ফাইল এখনও আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি। না আসা পর্যন্ত তো ওয়েট করতে হবে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার মুক্তির সুপারিশের ফাইল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এলে একটি সারাংশ তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রী ওই ফাইলে অনুমোদন দিলে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ পাঠানো হবে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। খালেদা জিয়া ঢাকায় নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেদিন থেকে তার আবেদন গ্রহণ করবে, সেদিন তিনি মুক্তি পাবেন।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এই সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়ায় দুই শর্তে তার দণ্ডাদেশ স্থগিত রেখে তাকে মুক্তি দেওয়া হোক। সরকার মানবিক কারণে সদয় হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা (উপধারা -১) অনুযায়ী এটা আইনি প্রক্রিয়ায় করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আইনমন্ত্রী জানান, খালেদা জিয়া ঢাকায় নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেদিন তার আবেদন গ্রহণ করবে, সেদিন তিনি মুক্তি পাবেন।

আনিসুল হক বলেন, তার সাজা ৬ মাসের জন্য স্থগিত রেখে তাকে ঢাকাস্থ নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করার শর্তে এবং ওই সময়ে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না—এই শর্তে তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আমি মতামত দিয়েছি। সেই মতামত এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে গেছে।

তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে কিনা এ বিষয়ে তিনি বলেন, আগে ৬ মাস যাক, তারপর দেখা যাবে। তিনি বলেন, এখানে কিন্তু বলা হচ্ছে না তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন না। সেটা তার অবস্থার ওপর নির্ভর করবে। তবে শর্ত হচ্ছে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। সেখানে তার সঙ্গে রয়েছেন গৃহকর্মী ফাতেমা। এরমধ্যে তাকে (খালেদা জিয়া) দুবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছিল। প্রথমবার কয়েকঘণ্টা হাসপাতালে কাটানোর পর তাকে ফের কারাগারে নেওয়া হয়। তবে দ্বিতীয় দফায় বেশ কিছু দিন বিএসএমএমইউ-তে ছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রথমে পাঁচ বছরের এবং পরবর্তী সময়ে তা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে তার। এই দুই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।