বিভাগ - কৃষি

হবিগঞ্জে চা উৎপাদনে রেকর্ড গড়লো লস্করপুর ভ্যালী

প্রকাশিত

মঈনুল হাসান রতন হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ চা শিল্পের ১৬৩ বছরের ইতিহাসে চায়ের উৎপাদনে রেকর্ড গড়েছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লস্করপুর ভ্যালীর ১৭টি চা বাগান। ভ্যালীতে চা উৎপাদনের এটি নতুন রেকর্ড। এর আগে কখনো ভ্যালীতে এ পরিমান চা উৎপাদন হয়নি। ২০১৯ সলে সর্বোচ্চ উৎপাদন অর্থাৎ ১ কোটি ৩২ লাখ ৩৩ হাজার ৫শ ৫ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ১৪.৯৪ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০১৬ সালে ভ্যালীর এসব বাগানে ১ কোটি ২২ লাখ তৈরি চা উৎপাদিত হয়েছিল। যা ছিল রেকর্ড। ২০১৯ সালে সেই রেকর্ড অতিক্রম করে উৎপাদন করেছে ১ কোটি ৩২ লাখ ৩৩ হাজার কেজি চা। তবে এ আশার বানীর মধ্যেও দুঃসংবাদ হচ্ছে ভারতীয় চা প্রবেশ এবং চায়ের মূল্য একেবারে কমে যাওয়ায় এ শিল্প চরম সংকটের মধ্যে পড়েছে। চা বাগান ও ভ্যালী সূত্রে জানা যায়, চা শিল্পকে টিকিয়ে রাখায় বাগান ব্যবস্থাপনায় আমুল পরিবর্তন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা, চলতি বছর আগাম বৃষ্টি হওয়ায় এবং রোগ বালাই কম থাকার কারণে গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে উপজেলার লস্করপুরে ভ্যালীর ১৭টি চা বাগানে ১৪.৯৪ শতাংশ চা বেশি উৎপাদন হয়েছে। ২০১৮ সালে উৎপাদিত হয়েছিল ১ কোটি ১৫ লাখ ১৩ হাজার ২শ ২৮কেজি চা। চলতি বছর এ সময়ে ভ্যালীতে উৎপাদিত হয়েছে ১ কোটি ৩২ লাক ৩৩ হাজার ৫শ ৫কেজি চা। যা গত বছরের চেয়ে ১৭ লাখ ২০ হাজার ২শ ৭৭ কেজি বেশি। এবং এটি ভ্যালীর ইতিহাসে এবারই প্রথম। ২০১৬ সালে ভ্যালীতে উৎপাদিত হয়েছিল ১ কোটি ২২ লাখ কেজি চা। যা ছিল ভ্যালীর সর্ব্বোচ্চ উৎপাদন। ২০১৮ সালে এ উৎপাদন কমে দাড়ায় ১ কোটি ১৫ লাখ কেজিতে। এতে চা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন আশার সার হয়। কিন্তু চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি আর ভারতীয় নিম্নমানের চা অবাধে দেশে প্রবেশ করায় চায়ের মূল্য গত বছরের চেয়ে অর্ধেকে নেমে আসে। ২০১৮ সালে চায়ের কেজি নিলামে গড়মূল্য ছিল ২৬০ টাকা। ২০১৯ সালে কমে এসে তা দাড়ায় ১৬০ টাকায়। কোন কোন ক্ষেত্রে তা ১২০টা কেজি। সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে ২০১৯ সালে উৎপাদিত ২০ থেকে ৩০ শতাংশ চা এখনও বাগানে পড়ে আছে। ক্রেতার অভাবে এ চা নিলামে পাঠানো যাচ্ছেনা। ফলে উৎপাদনে রেকর্ড হলেও মূল্যের দিক থেকে চা শিল্প চরম সংকটে। ২০১৯ সালে উৎপাদিত চায়ের প্রতি কেজিতে বাগান কর্তৃপক্ষকে লোকসান দিতে হয়েছে ১শ থেকে ১২০ টাকা। ফলে ভ্যালীর এসব বাগানে শত কোটি টাকা ক্ষতির মধ্যে পড়েছে। চায়ের উৎপাদনে শ্রমিকের মুখে হাসি ফুটলেও চায়ের মুল্যের কারণে তাদের এ হাসি মলিন হয়ে যায়।সূত্রমতে ভ্যালীর চান্দপুর চা বাগান সবচেয়ে বেশি ১৩ লাখ কেজি এবং সুরমা চা বাগান ১৩ রাখ ৩০ হাজার কেজি চা উৎপাদন করেছে। তবে গত বছরের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে ভ্যালীর রেমা, আমু, দেউন্দি, সুরমা, নোয়াপাড়া, লস্করপুর ও চান্দপুর চা বাগানে। ২০১৮ সালে ভ্যালীতে বৃষ্টিপাত হয়েছিল ২৩৪.৬০ সেঃ মিটার। ২০১৯ সালে ভ্যালীতে বৃষ্টিপাত হয়েছে ২২৪.৩২ সেঃ মিটার। যা ২০১৮ সালের তুলনায় ৮ সেঃমিটার কম। তবে এসময়ে ভ্যালীতে বৃষ্টিপাত হয়েছে আনুপাতিক হারে। এছাড়া ভ্যালীর ৭-৮টি বাগানে চলতি বছর কিছুটা রোগ বালাই দেখা দিলেও তা ছিল নিয়ন্ত্রনে। তাপমাত্রা ছিল চা গাছের সহনীয় মাত্রায়। ফলে উৎপাদন বেড়েছে দ্রুত। উপজেলার দেউন্দি টি কোম্পানির দেউন্দি চা বাগানের সিনিয়র ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, চলতি বছর আগাম বৃষ্টি, অনুকূল আবহাওয়া ও পরিবেশ, নতুন চা এলাকা সম্প্রসারণ, ক্লোন চা গাছের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং চা বোর্ডের নজরদারির ফলে চলতি মৌসুমে চা শিল্পের ইতিহাসে সর্বোচ্চ চা উৎপাদিত হয়েছে।লস্করপুর ভ্যালীর চেয়ারম্যান ও চন্ডিছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, চা বোর্ড এবং বাগান ব্যবস্থাপকদের আন্তরিক চেষ্ঠা, আগাম ও পরিমিত বৃষ্টি এবং চা শ্রমিকদের আপ্রাণ চেষ্টার কারণেই এবার ভ্যালীতে রেকর্ড উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু ভারতীয় চায়ের আগ্রাসনে চায়ের মূল্য একেবারে কমে গেছে। এবার প্রতিকেজি চায়ে ১শ থেকে ১২০ টাকা কমে যাওয়ায় ভ্যালীর প্রতিটি চা বাগান চরম আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়েছে।