হলি আর্টিজান মামলার রায়ে বিএনপি সন্তুষ্ট, জঙ্গিবাদবিরোধী ‘জাতীয় ঐক্যের’ দাবি

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা মামলায় বহুল আলোচিত রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যেন বাংলাদেশে এ ধরনের জঙ্গি হামলা আর না হতে পারে সেজন্য সরকারের উদ্যোগে সব দলকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গিবাদবিরোধী ‘জাতীয় ঐক্যের’ দাবি জানানো হয়েছে।

শুক্রবার(২৯ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এগ্রিকালচারিস্ট’স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এসব জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ‘কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউশনের সাবেক মহাসচিব জাবেদ ইকবালের স্মরণে’ এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক কৃষিবিদ রাশীদুল হাসান হারুনের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবি আবদুল হাই শিকদার, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ বক্তব্যে রাখেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, হলি আর্টিজানের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট এজন্য যে, এ রায়ে ভয়ঙ্কর ও ভয়াবহ জঙ্গিবাদ, সেটা যে ধরণেই হোক। যে জঙ্গিবাদ আজকে মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, তার বিরুদ্ধে একটা রায় হয়েছে, সেই রায়কে আমরা স্বাগত জানিয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা এটাও আশা করছি, এধরণের ঘটনা বাংলাদেশে ভবিষ্যতে যাতে না ঘটে, তার জন্য সবাই সচেতন থাকবে। কিন্তু সমস্যাটা কিন্তু অন্য জায়গায়? এই ঘটনা ঘটনার সুযোগ থাকে কোথায়? তখনই সুযোগ সৃষ্টি হয় যখন মানুষ কথা বলতে পারে না, যখন মানুষ তার গণতান্ত্রিক অধিকার হারায়, যখন মানুষ তার ব্যথা, বেদনা, আক্ষেপ ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারে না। আজকে আওয়ামী লীগ সরকার ১০-১২ বছর ধরে এই অবস্থান তৈরী করেছে যে, যেখানে মানুষ তার কথা বলতে পারবে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল নাসিম সাহেব একটা বলছেন, এটা ঠিক নয়। তিনি বলেছেন, হলি আর্টিজানের যে রায় হয়েছে, সেবিষয়ে আমরা কিছু বলিনি। এটাও ঠিক নয়। হলি আর্টিজানের রায় যেদিন হয়েছে, সেই দিন আমাকে কয়েকজন সাংবাদিক ফোন করেছেন। আমি আমাদের প্রতিক্রিয়া সেখানে দিয়েছি। সেটা হচ্ছে, হলি আর্টিজানের ঘটনা হওয়ার পরপরই আমরা প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেছিলাম। সেই সম্মেলনে আমরা বলেছিলাম, আজকে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্যের। সরকারের উচিত হবে এই মূহুর্তে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান করে একটা বৈঠকের মাধ্যমে এই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এই জঙ্গিবাদ আমাদের সমস্ত সভ্যতাকে বিনষ্ট করে দিচ্ছে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করেরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন ডিএনএ টেস্ট হয় চাকরি করার জন্য! কি টেস্ট? বিএনপি ও জাতীয়তাবাদীর কোন গন্ধ আছে কি না। হাসছেন আপনারা? এঘটনাগুলো আপনারা সবাই জানেন। এজন্য আমাদের সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে। ৭১ সালে আমরা যে চেতনা নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম, সেই চেতনা ছিল গণতন্ত্র। সেই গণতন্ত্রকে এরা (আওয়ামী লীগ) ভাজিডলা করে খেয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করবার সকল চক্রান্ত সম্পূর্ণ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।