হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না-সবকিছুই চমক হিসেবে থাক: নবাগত তুরুণ মডেল রাজ শেখ

প্রকাশিত

ওয়ান নিউজ ডটকম টুয়েন্টিফোর- বিশেষ প্রতিবেদক মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার তাঁহার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন-

চলচিত্র ঢালিউডে নবাগত একদম তরুণ সুপার স্টার রাজ শেখ কেন চলচ্চিত্র প্রযোজনায় এলেন। বর্তমান সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা হল হচ্ছে! তারিসাথে সম্প্রতি প্রদর্শক সমিতির দেওয়া আলটিমেটাম নিয়ে উদ্ধিগ্নসহ সমসাময়িক বিষয় নিয়ে এই তরুণ নবাগত জনপ্রিয় মডেল রাজ শেখ নির্মাণ ও অভিনয়সহ তার নানা বিষয়ে তাঁর সাথে বলা কথাগুলো তুলে ধরেছেন ওয়ান নিউজ এর বিশেষ প্রতিবেদক মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার।

প্রশ্ন: অলিদ তালুকদারঃ বর্তমান প্রযোজনা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এই খারাপ সময়ে চলচ্চিত্রেরআএই দুঃসময়ে সাহসী হওয়াটা কিভাবে সম্ভব হলো!

রাজ শেখ: দেখুন মন্দ অবস্থার কথা বলে সবাই যদি হাত গুটিয়ে বসে থাকে তাহলে এর উত্তরণ ঘটবে কিভাবে । ঝুঁকি নিতেই হবে । নিজেকেই ঠিক করতে হবে । অন্যান্যরা হয়তো সহযোগিতা করতে পারে,। দুর্দিন দূর করতে সাহসী ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই ।

প্রশ্ন: অলিদ তালুকদার- কিন্তু সিনেমা হল কমেছে বলে নির্মাতারা তো লোকসানের ভয়ে ছবি নির্মাণে আসছেন না।

রাজ শেখ: – শুধু সিনেমা হল কমেছে বললে ভুল হবে । সিনেমা হল থেকে প্রযোজক তার শেয়ার মানি ঠিক ভাবে পাননা। পরিবেশ, প্রযুক্তিসহ নানা সমস্যায় সিনেমা হলের রয়েছে। আসলে স্বাছন্দ্যে ব্যবসা করতে পারলে প্রয়োজক এবং সিনেমা হলের মালিকসহ কেউই ক্ষতিগ্রস্ত হতো না । টেকনিক্যাল, সার্পোট, দেশব্যাপী সিনেমাপ্লেক্স সহ নানা সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার যদি তাঁর প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে তাহলে চলচ্চিত্রশিল্প এই বন্ধ্যান্ত মুক্ত হবে ।

অলিদ তালুকদার:- প্রদর্শক সমিতি সম্প্রতি এক আলটিমেটামে সিনেমা হল বন্ধের যে ঘোষণা দিয়েছে এব্যাপারে কি বলবেন?

রাজ শেখ:- পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ছবি পাচ্ছেন না বলে প্রদর্শকদের যে অভিযোগ তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই,। এ থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো চলচিত্রের সব সংগঠনের মানুষ ঐক্যবন্ধ হয়ে আলোচনায় বসে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা নিয়ে সরকারের কাছে যাওয়া। আর এর জন্য চলচ্চিত্রকে দেখভালের জন্য তো আলাদা একটি মন্ত্রণালয় ও রয়েছে। তাহলে এই মন্ত্রণালয় কি করছে ? চলচ্চিত্রের এই দূরাবস্থার দ্বায়ভার তারা এড়াতে পারে না। সদিচ্ছা থাকলে কোনো সমস্যাই থাকে না। মূল কথা হলো চলচিত্র শিল্পকে বাঁচাতে হলে সিনেমা হল আর প্রযোজককে আগে বাঁচতে হবে ।

রাজ শেখ। বয়স মাত্র ২২ বছর। ছাত্রজীবন চলা অবস্থায় গ্রাম থেকে উঠে এসে ঢাকা শহরে মিডিয়া অঙ্গনে সফলভাবে কাজ করছেন। দেশের গন্ডি পেরিয়ে এখন বিদেশে অর্থাৎ মুম্বাইয়ে গিয়ে ভারতীয় বাংলা ফিল্মের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন রাজ।

রাজ শেখের বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলায়। ছোটবেলা থেকে মিডিয়া জগতে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে উঠেন তিনি। স্বপ্নকে জয় করতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যান অবিরাম। মৌলভীবাজার থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কাজে জড়িয়ে পড়েন। এরইমধ্যে তার প্রতিভার আলো ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। ২০১৯ সালে সজীব গ্রুপের আয়োজনে মিস্টার ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের টপ-টেন ফাইনালিস্ট হয়ে যান রাজ শেখ।

এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে। একে একে বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে আমন্ত্রণ পান তাদের বিজ্ঞাপনের মডেল হওয়ার। সেই ধারাবাহিকতায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড, প্রেম কালেকশন, মানসা, বিশ্ব রং, রং ও আলমিরা সহ আরও অনেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে কাজ করে দেশের সুপরিচিত সেলিব্রিটি এখন রাজ। চলচ্চিত্রের কাজের পাশাপাশি রাজ রাজধানী ঢাকায় ” ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ট্রিপলি ইন্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যায়নরত। রাজ শেখের স্বপ্ন এখন মিডিয়া অঙ্গনে নিজেকে সফলতার শীর্ষে দেখা।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশের চলচ্চিত্রের সময়টা পরিবর্তন হবে কি করে? আমার মাথায় সবসময়ই ঘুরপাক খায় । গত বছর ২০১৯ বাংলাদেশ এফডিসির চলচ্চিত্র সমিতির নির্বাচনের দিন(এফডিসিতে) দুপুরের লাঞ্চ আওয়ার সময়ে কথা বলার এক পর্যায়ে বিগত দশকের কিংবদন্তী সুপার হিরো খ্যাত চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই( নিচকার ) চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনকে একটি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেছিলাম যে বর্তমানে বাংলাদেশের” বাংলা সিনেমার” কি আছে তাঁর মধ্যে। এমতাবস্থায় ইলিয়াস কাঞ্চন মুচকি হেঁসে বললেন অলিদ তোমার এই প্রশ্নের জবাব দিতে হলে তাঁর আগে আমি চলচ্চিত্রের ” বনভোজন ” ঘুরে ফিরে এসে দিতে হবে । কাঞ্চনের এই কথাটির সারমর্ম সারসংক্ষেপ আমরা উপস্থিত সকলেই বুঝতে আর বাকি নেই ।
যার সঠিক সত্য নির্ভর যোগ্য সংক্ষিপ্ত জবাব হচ্ছে বর্তমানে চলচ্চিত্র ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা হচ্ছে ” বনভোজন ( পিকনিক ” কিছুদিন পরপর সংবাদপত্রের পাতায় ” বনভোজনের” খবর শিরোনাম চোখে পড়ে,। বর্তমান এই সময়ের চলচ্চিত্র পাড়ায় শুধু চলছে বছরের ১২ টি মাসের মধ্যেই কমপক্ষে ৯ মাস নির্বাচনের আমেজ আর সংগঠন গুলোর বনভোজন । কথাটা আক্ষেপ করে হোক আর অন্যভাবে ইলিয়াস কাঞ্চন বলুক না কেন ভেবে দেখলাম তিনি কাঞ্চন সত্যি ঠিকই বলেছেন এই কিংবদন্তি চিত্রনায়ক। আমাদের পাশ্ববর্তী দেশগুলোর মধ্যে যেমন মুম্বাই, তামিল বা কলকাতা এই সমস্ত চলচিত্র শিল্প ইন্ডাস্ট্রিতে বছরে কয়টা বনভোজন হয়। বা সেখানকার সংবাদপত্র বনভোজনের কোনো খবর কি চোখে পড়ে ? সেই প্রশ্নটা আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্র প্রযোজক, চলচিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও সমিতির কাছে রইল-! এদিকে আমাদের দেশে নিজেদের সংস্কৃতির দেশীয় সিনেমার কোনো কোনো খুঁজ খবরাখবর নেই,। শুধু আছে নির্বাচন করা আর বনভোজন করা,।আমাদের চলচ্চিত্রের শিল্পীদের মধ্যে বর্তমানে ১৮ টি সংগঠন রয়েছে । এর মধ্যে দশটিই সংগঠন শুধু বনভোজন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করে যাচ্ছেন । অন্যদিকে ভালো মনের শিল্পী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না । বর্তমান ” বাংলা ছবি ” প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলেও সিনেমাপ্লেক্স সংকটের কথা বারবার জানাচ্ছেন, দেশীয় আমাদের ছবি নির্মাতারা,। পর্যাপ্ত সিনেপ্লক্স না হলে সিনেমা হলে আগের মতো দর্শক ফিরবে না বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক ছবি নির্মাতা ।

চলচিত্রের বর্তমান সিনেপ্লেক্স সংকটসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আরও মুখামুখি হয়ে জানতে চাইলে এই নতুনত্ব বর্তমান সময়োপযোগী সময়ের মধ্যে একদম তরুণ প্রিয়মুখ রাজ শেখ বলেন – একজন খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে কোটিপতি পর্যন্ত সব মানুষের বিনোদন দরকার -! সেই সাথে একজন মানুষের বিনোদনের জন্য ( সিনেমা হলে ছবি দেখার জন্য ) দুই শত টাকা জমিয়ে তা খরচ করাটা ততটা ব্যয়বহুলনা। এর মধ্যে একজন মানুষ তাঁর গার্লফ্রেন্ড বা বন্ধুবান্ধব সহ সিনেপ্লেক্স গেলে তাঁর পাঁচ শত টাকা তো খরচ হতেই পারে । অন্তত সুন্দর পরিবেশে বসে তো ছবিটি উপভোগ করতে পারবে এসব দর্শক । এজন্য আমাদের আরো ভালোমানের মানসম্পন্ন সিনেপ্লেক্স বাড়ানো দরকার । সেই বিষয়টি আমি বিশ্বাস করি যে বর্তমানে আমাদের চলচ্চিত্রের মধ্যে ধস এবং যত সমস্যাগুলো আছে এতে সব সমস্যার সমাধান ও খুবই দ্রুত গতিতে তার প্রভাব কেটে যাবে,। আর এতে করে আমাদের সরকারকে যথাযথ ভাবে এগিয়ে আসতে হবে তা না হলে দেশীয় সংস্কৃতি শিল্প মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে লালিত পালিত এই চলচিত্র শিল্প ইন্ডাস্ট্রি পর্যায়ক্রমে ধ্বংস হয়ে যাবে । সরকারকে আগে এগিয়ে আসতে হবে তারিসাথে প্রযোজক নির্মাতাদের মধ্যে আরও সাহস যোগাবে ।

error0