হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক : মোস্তফা

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাই নন, তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কও ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।

তিনি বলেন, জনগণের প্রতি অসীম ভালোবাসা এবং গণতন্ত্রের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাই ছিল তার জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। দেশ ভাগের আগে ভারত ও পাকিস্তানের পাশাপাশি অখণ্ড স্বাধীন বাংলা নামে একটি ‘ডমিনিয়ন রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি।বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ৫৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে জন্মগ্রহণ করিয়া বিংশ শতাব্দীর ষাট দশকের প্রায় মাঝামাঝি পর্যন্ত বৃটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনসহ ভারতীয় মুসলিম জাতির প্রতিটি ইস্যুতে প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে যারা জাতীয় জীবনে অমর হয়ে আছেন গণতন্ত্রের মানষপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তাদের অগ্রগামীদের একজন।

তিনি আরো বলেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সম্পর্কে অনেক কিছুই বলার অবকাশ আজকে আছে। যে সোনালী সূর্য ১৯৬৩ সনের ৫ ডিসেম্বর অস্ত গেছে তা আর বাংলার গগনে উদয় হয়নি। একটি অভিজাত ও ঐতিহ্যমণ্ডিত পরিবারে জন্ম নিয়েও তিনি জনসেবামূলক রাজনীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাতারে সামিল হন। অল্প সময়ের মধ্যে গণতন্ত্রের মানসপুত্র সোহরাওয়ার্দীর জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের প্রতীকে পরিণত হন। ক্ষমতার মোহ কখনও তাঁকে তাঁর আরাধ্য জীবন দর্শন ও আদর্শ হতে বিচ্যুত করতে পারেনি।

ন্যাপ মহাসচিব আরো বলেন, ভারত উপমহাদেশীয় রাজনীতিতে তথা আরো নিপুণ করে বলতে গেলে আমাদের বাঙ্গালী রাজনীতিতে খুবই নগন্য সংখ্যক, অত্যন্ত হাতে গোনা কিছু রাজনীতিক গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলনে অতিশয় আকুলতা নিয়ে দীপ্তিমান হয়ে উঠেছিলেন। এমনকি, ওই সময় যারা সত্যিকারের জনপ্রিয় নেতা হিসেবে গড়ে উঠেছিলেন তাদের মধ্যেই একজন ছিলেন এই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

এসময় ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী আজীবন জনগণের রাজনীতি করতে গিয়ে কারাবরণসহ তাঁকে একাধিকবার হত্যারও চেষ্টা করা হয়। পাকিস্তান আমলে তাঁকে রাজনীতি থেকে উচ্ছেদ করা ও নির্বাসনে যেতে বাধ্য করা ইত্যাদি সবই ছিল তৎকালীন স্বৈরশাসকদের জঘন্য ষড়যন্ত্র ও অপরাজনীতির ফল। নির্বাসনে হতোদ্যম জীবনের এক পর্যায়ে তাঁর নিঃসঙ্গ মৃত্যু হলেও এখনও তিনি গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের অন্তরে সমুজ্জ্বল ও স্থায়ী আসনে সমাসীন।

তিনি বলেন, তিনি আজীবন দেশবাসীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। এজন্যই দেশবাসী তাঁকে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হিসেবেই জানে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর বাঙালির মধ্যে যে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, তাঁর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল থাকায় সুধী সমাজের কাছে তিনি ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত হন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এদেশের শান্তিপ্রিয় গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন : বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগের প্রধান উপদেষ্টা ইতিহাসবিদ সিরাজ উদ্দীন আহমেদ, সভাপতি এম এ জলিল, বিশ্ব বাঙালি সম্মেলনের সভাপতি কবি মুহম্মদ আবদুল খালেক-সহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।