১১ জুলাই থেকে আরও ২৩ জেলায় বন্যা হতে পারে: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: মহামারি করোনা ভাইরাসের সংকটের মধ্যে দেশের আরও ২৩ জেলা বন্যা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। আগামী ১১ জুলাই থেকে এসব জেলায় বন্যা দেখা দিতে পারে। বন্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) বিকেলে সচিবালয় থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে অনলাইনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান।

উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, রংপুর, কুড়িগ্রাম এবং সিলেট বিভাগসহ দেশের মধ্যাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।এসব জেলায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোসহ আশ্রয় কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন এনামুর রহমান।

এরইমধ্যে পাহাড়ি ঢল এবং গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে দেশের প্রায় ১৪ জেলা বন্যাকবলিত। গাইবান্ধা, জামালপুর, শরীয়তপুর, টাঙ্গাইল ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যায় ভেসে গেছে বাড়িঘর, জমিজমা ও সড়ক। পানিবন্দি হয়ে আছে জনগোষ্ঠীও। কোথাও কোথাও নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কিছু এলাকায় পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি। পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের ফসল। মহাসড়কের পাশে আশ্রয় নিয়েছে বানভাসি মানুষ। করোনা সংকটের মধ্যে বন্যার কবলে পড়ে দিশেহারা তারা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেছেন, বন্যাসহ যেকোনো দুর্যোগে সরকার জনগণের পাশে আছে । তিনি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী সারাদেশে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ২৩টি জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এ সংখ্যা ভবিষ্যতে আরো বাড়তে পারে। টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, নেত্রকোনা, জামালপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এ ২০টি জেলায় এ পর্যন্ত ৮ হাজার ২১০ মেট্রিক টন চাল, ২ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার নগদ টাকা, ৪০ হাজার শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট, গো খাদ্য ক্রয়ের জন্য ৪০ লক্ষ টাকা এবং শিশু খাদ্য ক্রয়ের জন্য ৪০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ।

ডা. এনামুর রহমান বলেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যেন ত্রাণকার্য চালানো যায় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ।সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যাতে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করা যায় সেই লক্ষ্যে স্কুল, কলেজসমূহ বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে । আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, স্যালাইন ইত্যাদি সামগ্রী সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে । বন্যাসহ যেকোনো দুর্যোগে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা যাতে অব্যাহত রাখা যায় সেজন্য টেলিযোগাযোগ বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

মন্ত্রণালয় থেকে নগদ টাকাসহ যেসব সামগ্রী বরাদ্দ দেয়া হয় তা যেন দেশের মানুষ জানতে পারেন সেজন্য জেলা প্রশাসকগণকে তাদের ওয়েবসাইটে বরাদ্দের বিষয়টি প্রকাশ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর পূর্বে প্রতিমন্ত্রী বন্যার পূর্ব প্রস্তুতি ও করণীয় বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে অনলাইন জুমে আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের প্রতিনিধি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ কমিটির সকল সদস্য জুম মিটিং আইডির মাধ্যমে যুক্ত হয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।