বিভাগ - সারাদেশ

১৪ বছর পর অধ্যক্ষের পদ ফিরে পেলেন মুক্তিযোদ্ধা

প্রকাশিত

বাগেরহাট প্রতিনিধি : দীর্ঘ ১৪ বছর আইনি লড়াইয়ের পর চাকরি ফিরে পেলেনে বাগেরহাটের শরণখোলার মাতৃভাষা ডিগ্রী কলেজের মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে ২০০৭ সালে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে যশোর শিক্ষা বোর্ডে আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে ২০১০ সালে স্বপদে বহালের নিদেশ দেন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। বোর্ডের ওই আদেশ বহাল রেখে গত ১৫ জানুয়ারি অধ্যক্ষের পক্ষে রায় প্রদান করেছেন হাইকোট।

অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম তালুকদার সাংবাদিকদের জানান, তিনি নিজে কলেজের জমিদাতা ও প্রতিষ্ঠাতা। জামায়াত নেতা মাওলানা মতিউর রহমান মতিন মাতৃভাষা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার জন্য ২০০৩ সাল থেকে ষড়যন্ত্র করেন। সেই থেকে মাওলানা মতিন বাদি হয়ে তার বিরুদ্ধে শিক্ষকদের টিউশন ফির ১৩ হাজার ৯২০টাকা, বিজ্ঞানাগারের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ৫০ হাজার টাকা ও হিন্দু তপশিলী উপবৃত্তির এক হাজার ৪৪০ টাকা আত্মসাতসহ বাগেরহাট আদালতে ছয়টি দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন।

আদালতে অর্থ আত্মসাতের সবকটি মামলা মিথ্যা প্রমানিত হয়। এসব মামলার রায়ের প্রমানাদিসহ বোর্ডে আবেদন করলে বোর্ড তা যাচাই-বাছাই ও একাধিক তদন্তের পর ২০১০ সালের ১৭ ফেব্রুারি তাকে স্বপদে পুনর্বহালের আদেশ দিলে তাকে কলেজে যোগদান করতে দেওয়া হয়নি। বাদি বোর্ডে ওই আদেশ এবং নি¤œ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন। আপিলের দীর্ঘ সুনানি শেষে ২০১০ সালের ১৭ ফ্রেুয়ারির বোর্ডের আদেশ, ২০১৬ সালের ৩০নভেম্বর এবং ২০১৭সালের পাঁচ জানুয়ারি বাগেরহাট সাব জজের (১ম) রায় ও ডিক্রি বহাল রেখে হাইকোর্টের বিচারপতি আষিশ রঞ্জন দাসের একক বেঞ্চ অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের পক্ষে রায় প্রদান করেন।

অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, ২০০৮ সালে জামায়াতিরা আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক ইস্তফাপত্র নিয়ে কলেজ থেকে বের করে দিয়েছে। ১৪ বছর পর রায় পেয়েছি। কিন্তু এখনো আমার বিরুদ্ধে বাদি ও তার লোকজন ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। আমি যাতে কলেজে যোগদান করতে না পারি সেই অপচেষ্টা করছেন তারা।

এব্যাপারে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো ওলিয়ার রহমান বলেন, নজরুল ইসলাম হাই কোর্টের রায় পেলে আমি তাকে স্বাগত জানাই। তার অনুপস্থিতিতে আমি দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিলে আমার কোন সমস্যা নেই। শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, এ বিষয়ে এখনো অফিসিয়ালি কাগজপত্র আসেনি। এলে অধ্যক্ষের যোগদানের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।