২০২৩ সালে কাজী নজরুল ইসলামের কারা মুক্তির শততম বার্ষিকী জাতীয়ভাবে পালনের আহ্বান

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: আগামী ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় অহংকারের প্রতীক জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কারা মুক্তির শততম বার্ষিকী। তার এই কারা মুক্তির শততম বার্ষিকী জাতীয় মর্যাদায় পালনের জন্য সরকার ও নজরুল অনুসারী-অনুরাগীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নজরুল-প্রমীলা পরিষদ।

রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৯৬তম কারা মুক্তি দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে অবস্থিত নজরুলের মাজারে নজরুল-প্রমীলা পরিষদের উদ্যোগে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ এ আহ্বান জানান।

এসময় তারা আরো বলেন, অনেক সময়ই রাষ্ট্রের চিন্তাশীল মানুষ, দার্শনিক কিংবা মহান স্বাধীনচেতা কবিরা ক্ষমতাধর শাসকগোষ্ঠী, রাজা বা শোষকদের নিষ্ঠুর বৈরীতা বা রক্তচক্ষুর মোকাবিলা করতে হয়েছে। বহু সুপরিচিত কবির অনেক মহান সৃষ্টি সংশ্লিষ্ট দেশের শাসক কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়েছে। হোমারের কালজয়ী সৃষ্টি ওডিসীর পঠন নিষিদ্ধ ছিল। চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াসের মতামত, তাঁর সময়ের তাঁর দেশের শাসকগোষ্ঠী আক্রমণ করেছিলেন। নিঃসন্দেহে এই তালিকায় কাজী নজরুল ইসলামের নাম যোগ না করলে তা অসম্পূর্ণ থাকবে। সকল রকম শোষণের বিরুদ্ধে নির্ভীক কণ্ঠস্বর আমাদের জাতীয় কবি, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন : কবি এম আর মঞ্জু, কলাম লেখক এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, সংগঠক ডা. এম এ মুক্তাদীর, কবি সৈয়দ নাজমুল আহসান, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ সালমা আহমেদ হীরা, সংগঠক মসলেহ উদ্দিন খান মজলিশ, অভিনেতা লুৎফুল আহসান বাবু, কবি হোসনে আরা বকুল, ইয়াসমিন আরা শশী, তানভীর হোসাইন, মো. জামাল হোসেন, রিফাত আমিন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বৃটিশ শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারণে কারাগারে যাওয়া প্রথম বাংলা কবি। ১৯২১ সালের ২১ নভেম্বর নজরুল প্রথম “জাগরনী”-শীর্ষক গান লেখা ও তা বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে মিছিলে গাওয়ায় একদিনের জন্য গ্রেফতার হন। ১৯২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর “ধুমকেুু”তে প্রকাশিত ”আনন্দময়ীর আগমন” কবিতার জন্য সে সংখ্যা বাজেয়াপ্ত হয় এবং ৮ নভেম্বর রাজদ্রোহিতা প্রচারের অভিযোগে ভারতীয় দন্ডবিধির ১২৪-এ ধারা অনুসারে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়। ২২ নভেম্বর দুপুর ১২ টায় কুমিল্লা শহর থেকে কাজী নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৯ নভেম্বর কলকাতার চীফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্টেট সুইনহো’র আদালতে নজরুলের রাজদ্রোহীতার মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। ১৯২৩ সালের ৭ জানুয়ারী কবি বিখ্যাত “রাজবন্দির জবানবন্দি” প্রদান করেন। ১৬ জানুয়ারী ১৯২৩ রাজদ্রোহিতার অপরাধে কবির ১বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। জেলজীবনেও কবির অনশনসহ রয়েছে নানা ঘটনা। ১৫ ডিসেম্বর ১৯২৩ সালে কবি কাজী নজরুল ইসলাম বহরমপুর জেল থেকে মুক্তি লাভ করেন।