বিভাগ - খেলাধুলা

২১ তম আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে যোগ দিতে থাইল্যান্ডে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: আগামী ১৬ থেকে ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ থাইল্যান্ডের চিয়াংমাইতে বসবে আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াড (আইআরও)-এর ২১ তম আসর। অনূর্ধ্ব–১৮ বছর বয়সীদের মেধার এ লড়াইয়ে বিশ্বের ১৪ টি দেশের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে। বিজ্ঞান-মেধার এ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে সারাদেশ থেকে বাছাইকৃত সেরা পনেরো শিক্ষার্থী। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা হলো মো. ওমর করিম (উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়), অর্পন চন্দ (সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট), সানি জুবায়ের (ঢাকা কলেজ), কাজী মোস্তাহিদ লাবিব (চিটাগাং গ্রামার স্কুল ঢাকা), নাশীতাত যাইনাহ রহমান (সানবীমস স্কুল), যাহরা মাহযারীন পূর্বালী (আগা খান স্কুল), যারিয়া মুসাররাত পারিজাত (আগা খান স্কুল), শিহাব সারার আহমেদ (নটরডেম কলেজ), মো. জারিফ মাহবুব তালুকদার (নটরডেম কলেজ), তাশরিক আহমদ (জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ), ছালওয়া মেহরীন (জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ), মীর উমাইমা হক (নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়), আবরার শহীদ রাহিক (চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ), রাফিহাত সালেহ চৌধুরী (জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজ) এবং তাফসীর তাহরীম (চিটাগাং গ্রামার স্কুল ঢাকা)। আগামী ১৫ ডিসেম্বর থাইল্যান্ডের চিয়াংমাই এর উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশ দলের ১৫ জন শিক্ষার্থীর আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠপোষকতা করছে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। উল্লেখ্য ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনী পর্বের মাধ্যমে শুরু হবে ২১ তম আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াড ২০১৯।

বাংলাদেশ দলের সদস্যদের সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার দুপুর ২.৩০ টায় ইএমকে সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স এন্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল সবার সঙ্গে বাংলাদেশ দলের সদস্য পনেরো শিক্ষার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। গতবছরের ন্যায় এ বছরও বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াড দল দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শামীম আহমেদ দেওয়ান, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান এবং আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশ দলের পৃষ্ঠপোষক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ডেপুটি সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ মেহেদি হাসান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে আরো বিভিন্ন সম্মাননা অর্জন করবে। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে আরো ইতিবাচক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

ড. শামীম আহমেদ দেওয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ তাদের মেধা ও মননশীলতাকে শানিত করবে এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করবে।ড. মুহাম্মদ মেহেদি হাসান বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মান এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের কাছে একটি উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রয়োজন একটি মেধাসমৃদ্ধ ও চৌকষ মানব সম্পদ। আমাদের শিশু কিশোররাই তাদের মেধাকে বিকশিত করে বাংলাদেশকে নিয়ে যাবে উন্নত দেশের কাতারে। ডিজিটাল বাংলাদেশের সরকার তাই আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে আমাদের শিশু কিশোরদেরকে মেধা বিকাশে পৃষ্ঠপোষকতা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বছর বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্বের পূর্বে ২৫টি জেলায় ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটিভেশন প্রোগ্রাম আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ দল নির্বাচনের জন্য এ আয়োজনগুলোতে অংশ নেয় প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী। সব অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় পর্ব। জাতীয় পর্বে ২১টি জেলার ১৩৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩৭৯ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করে।

এরপর জাতীয় পর্বের পদক বিজয়ীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ১ম বিডিআরও আবাসিক ক্যাম্প। ক্যাম্পের ফলাফল ও পারফরম্যান্স টেস্টের মাধ্যমে ১৫ জন শিক্ষার্থীকে বাংলাদেশ দলের জন্য নির্বাচিত করা হয়, যারা ২১তম আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।

২য় বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডের আয়োজক বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স এন্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে আইসিটি ডিভিশন, বিকাশ এবং রুপালী ব্যাংক লিমিটেড। সহযোগী হিসেবে আছে সিরেনা টেকনোলজিস, ইএমকে সেন্টার, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, অ্যাম্বার আইটি, নাগরিক টিভি, ঢাকা এফএম, কিশোর আলো এবং বিজ্ঞানচিন্তা।