৩দিন পর ক্ষুধার্ত সন্তানের জন্য আমিনার চুলায় উঠলো চালের ক্ষুদ!

প্রকাশিত

ডিজার হোসেন বাদশা, পঞ্চগড় প্রতিনিধি: অঘোষিত লক ডাউনে যখন সারাদেশ স্থবির ঠিক সে সময় না খেয়ে দিন পার করছে পাথর শ্রমিক আমিনা বেগমের পরিবার। গত ৩দিন পর সন্তানের জন্য তাদের চুলা জ্বলে উঠল, আর তাতে একমুঠ চালের ক্ষুদি। যা মায়ের রান্নার পর পেট ভরে খেলো সন্তান নূর আমিন (৭)।

রোববার (৫ এপ্রিল) পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর এলাকার আব্দুল জলিলের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। আরো জানা যায়, একসাথে ১০টি পরিবার একত্রে ভাড়া আছে। তবে সবাই শ্রমিক, কেউ পাথর শ্রমিক তো কেউ হোটেল শ্রমিক। খাবার রান্নার জন্য ১/২ জনের চুলা জ্বললেও খাবারের অভাবে অনেকের জ্বলছে না। এর ফাঁকে দেখা যায় আমিনাকে। গত কয়েকদিন যাবৎ ছেলেকে ভাত এনে দিতে না পারায় ছেলের জন্য অন্য মানুষের বাড়ি থেকে এক মুঠো চালের ক্ষুদ এনে রান্না করছে। আর তা খাওয়ার অপেক্ষায় রান্না ঘরের দরজায় দারিয়ে পে­ট হাতে ছেলে নুর আমিন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সকল ধরণের কর্মসংস্থান বন্ধ রাখায় বিপাকে পড়েছে উপজেলার সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষেরা। গত ১০-১৫ দিন ধরে না খেয়ে দিন পার করছে সকলেই। তবে অনেকেই স্থানীয় না হওয়ায় কারো কাছ থেকে কোন সাহায্য সহযোগীতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ অনেকের।

পাথর শ্রমিক আমিনা বেগম বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ভজনপুর এলাকায় বাসা বাড়ি ভাড়া নিয়ে সন্তান ও ¯^ামী আব্দুল খালেক কে আছি। দীর্ঘদিন ধরে পাথর ক্রাশিং মেশিনে কাজ করছি। কিন্তু গত ৬ মাস ধরে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় কাজ পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে করোনা ভাইরাসের কারণে সব বন্ধ থাকায় কোন কাজ নেই। যে কয়েকটা টাকা ছিল কোন মত দিন চলেছে। গত ৩দিন ধরে টাকার অভাবে বাজার করতে পারছি না। আজ কোন মতে একজনের বাড়িতে কাজ করে অল্প কিছু চালের ক্ষুদ নিয়ে এসেছি। তা দিয়ে দুুপুরের খাবার হয়েছে। কেউ আমাদের খোজ খবরও নিচ্ছে না।

একই কথা বলেন সাবিনা ও আকলিমা। তারা বলেন, আমরা সন্তাকে নিয়ে যে কত কষ্টে আছি তা বলে বুঝাতে পারবো না। গত ১০ দিন ধরে ঠিক মত খাবার খেতে পারছি না। সন্তানদেরও ঠিক মত খাবার দিতে পারছি না, একদিন কোন মতে অল্প কিছু চাল যোগার করতে পারলেও ২দিনেই খাবার পাচ্ছি না। সরকারি অনুদান তো দূরে থাক স্থানীয় বৃত্তবানরাও আমাদের পাশে থাকছে না।

প্রতিবেশী সপিজ উদ্দীন বলেন, দোকান বন্ধ থাকায় আমরা খুব বড় সমস্যার মধ্যে পড়ে গেছি। খাওয়ার মত কোন টাকা নেই। আমাদের পাশে দাড়ানোর মত কেউ নেই।

এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মাসুদুল হক জানান, আমরা দ্রুত তাদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা পৌছে দেয়ার চেষ্টা করবো। এছাড়া আমাদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হটলাইন চালু করা হয়েছে। যদি কোন দারিদ্র মানুষ বা অসহায় মানুষ খাদ্যের অভাবে থাকে তবে দিন হোক বা রাত আমরা তা তাদের মাঝে পৌছে দেয়ার চেষ্টা করবো।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাবিনা ইয়াসমিন জানান, সরকারি ভাবে পাওয়া সকল ত্রাণ সহায়তা আমরা আমাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দারিদ্রদের মাঝে পৌছানোর জন্য ব্যবস্থা করেছি। আশাকরি সকলের মাঝে এই ত্রাণ সহায়তা পৌছে যাবে।