বিভাগ - অর্থনীতি

৩৭ পেঁয়াজ আমদানিকারককে শুল্ক গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: সম্প্রতি পেঁয়াজের বাজারে কারসাজির পেছনে মূলহোতাদের খুঁজে বের করতে দ্বিতীয় দিনের মতো পেঁয়াজ আমদানিকারকদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে শুল্ক গোয়েন্দা। গতকাল সোমবারও (২৫ নভেম্বর) পেঁয়াজ মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিষয়ে আমদানিকারক ১৪ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো ৩৭ আমদানিকারককে কাকরাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নেতৃত্বে একটি টিম পেঁয়াজ আমদানিকারকদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।মঙ্গলবার সকালে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মো. সহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ীদের কাছে কী পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ আছে সে তথ্য যাচাই করতে অন্তত ৩৩২ পেঁয়াজ আমদানিকারকের বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে মাঠে নেমেছে শুল্ক গোয়েন্দা। পেঁয়াজের বাজারে অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরির জন্য বিভিন্ন মহল থেকে মজুরদারদের দিকেই অভিযোগ আসছে। সে পরিপ্রেক্ষিতেই নিয়ন্ত্রণহীন পেঁয়াজের বাজারের তথ্য অনুসন্ধানে শুল্ক গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

প্রথম দিন সোমবার ১৪ আমদানিকারককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়। তাদের মধ্যে ১০ জন শুল্ক গোয়েন্দা কার্যালয়ে হাজির হন।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- নবাবগঞ্জের মেসার্স টিএম এন্টারপ্রাইজ, একতা শস্যভাণ্ডার ও মেসার্স বিএইচ ট্রেডিং অ্যান্ড কোম্পানি, থানা রোডের মেসার্স দীপা এন্টারপ্রাইজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মেসার্স আরএম অ্যাগ্রো, আলি রাইস মিল, মেসার্স সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স নূর এন্টারপ্রাইজ, নওগাঁর জগদিশ চন্দ্র রায়, রাজশাহীর মেসার্স ফুল মোহাম্মদ ট্রেডার্স, সাতক্ষীরার মেসার্স ফারাহ ইন্টারন্যাশনাল, বগুড়ার মেসার্স সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ, তালপট্টির হামিদ এন্টারপ্রাইজ ও হিলির খান টেডার্স।

আলি রাইস মিল, এসএম করপোরেশন, মেসার্স গোল্ডেন এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স রায়হান এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সোহা এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স মরিয়াম এন্টারপ্রাইজ, নুর এন্টারপ্রাইজ, শামিম এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স এমআর ট্রেডার্স, ডিএ এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স টাটা এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজ, আরডি এন্টারপ্রাইজ, জনী এন্টারপ্রাইজ, মাহি অ্যান্ড ব্রাদার্স, মেসার্স মুক্তা এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স রায়হান ট্রেডার্স, মেসার্স সাইফুল এন্টারপ্রাইজ, রিজু-রিতু এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স জাবেদ অ্যান্ড ব্রাদার্স, মেসার্স আলম অ্যান্ড সন্স, নিউ বড়বাজার শপিং মল, মেসার্স রচনা ট্রেডার্স, এসএস ট্রেডিং ছোট হাজি মার্কেট, মেসার্স ব্রাদার্স ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, আল মদিনা স্টোর, লামাবাজার ও আলিফ এন্টারপ্রাইজসহ ৩৭ প্রতিষ্ঠানের মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

শুল্ক গোয়েন্দার কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮০৬ দশমিক ৪৭ মেট্রিক টন। তারপরও বাজার কেন লাগামহীন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর সে কারণে বড় ৪১ আমদানিকারককে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হয়েছে।