৬ দফা দাবি আদায়ে সিদ্ধিরগঞ্জের ১৪৫টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানববন্ধন

প্রকাশিত

নারায়ণগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধি: সিদ্ধিরগঞ্জের ১৪৫টি বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সরকারী প্রণোদনাসহ ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসুচিতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। সিদ্ধিরগঞ্জ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসুচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সিদ্ধিরগঞ্জ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঐক্য পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন রবিন। সংগঠনের সভাপতি মোঃ মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আরিফ হোসেন ঢালীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ বেসরকারী প্রাথমিক ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি এম.এ সিদ্দিক মিয়া, ঢাকা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সদস্য সচিব জি.এইচ ফারুক, বেসরকারি প্রাথমিক ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক সমিতির মহাসচিব শেখ মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল এন্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের শিক্ষা সচিব প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ আব্দুল ওদুদ, রূপগঞ্জ কিন্ডারগার্টেন ও শিক্ষা উন্নয়ন সমিতির মহাসচিব লায়ন সালেহ আহমদ, সিদ্ধিরগঞ্জ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হুসাইন, শিফা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পরিচালক সাংবাদিক মোঃ শাহাদাৎ হোসেন স্বপন, সোনারগাঁও কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি মো: মোস্তাফিজুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সদর কিন্ডারগার্টেন এসোসিশেনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: কাউছার আহমেদ প্রমুখ।

মানববন্ধন কর্মসুচিতে বক্তারা বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রামন প্রতিরোধে সরকারের ঘোষনা মোতাবেক গত ১৭ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জের ১৪৫টি বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। যার কারণে চরমভাবে আর্থিক সংকটে পড়েছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। তাছাড়া স্কুল বন্ধ থাকায় এবং লকডাউনের কারণে শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রাইভেট টিউশনীও করতে পারছে না। এছাড়া প্রায় ৯৫% শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাড়া বাড়িতে পরিচালিত। বাড়ি ভাড়া শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন, বিদ্যুৎ ও পানির বিল পরিশোধ করতে হয় ছাত্র-ছাত্রীদের মাসিক টিউশন ফি থেকে। কিন্তু স্কুল বন্ধ থাকার কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকারা অর্থনৈতিক ভাবে নিদারুন কষ্টে দিনাতিপাত করছে। কোন শিক্ষক না পারে কারো কাছে হাত পাততে না পারে লাইনে দাঁড়িয়ে সাহায্যে নিতে। এমন পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে আজ শিক্ষকরা রাস্তায় নেমেছে তাদের কস্টের কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে। আমরা আশাবাদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবিকভাবে এই শিক্ষক-কর্মচারীদের দিকে সু-দৃষ্টি দিবেন এবং কার্যকরী প্রদক্ষেপ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিবেন।

মানববন্ধন কর্মসুচি থেকে ৬ দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবীগুলো হলো: নন-এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের মত কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হোক। করোনা ভাইরাসের এই দুঃসময় উত্তরণে কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রনোদনার ব্যবস্থা করণ যা সহজশর্তে ঋণ হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের জন্য রেশন কার্ডের ব্যবস্থা করণ। করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের হার কমে গেলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করণ। সহজশর্তে-কিন্ডারগার্টেন স্কুল সমূহকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষার মত নিজ স্কুলের নামে জে.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।