বিভাগ - সারাদেশ

৭ মুক্তিযোদ্ধার নাম রাজাকারের তালিকায় অন্তর্ভূক্তির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের ৭ মুক্তিযোদ্ধার নাম রাজাকারের তালিকায় আসায় ওই পরিবার গুলো হতাশা ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এমন দাবি তুলে একত্রে ওই পরিবার গুলির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এস.কে ফয়েজ আহম্মেদ রিয়ন লিখিত বক্তব্যে দাবি করেন- তার মামা উপজেলার সাফদারপুর গ্রামের মৃত. মোহম্মদ আলী খাঁন এবং মৃত আবদুর রশিদ খাঁন ছিলেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। ৭১ সালে ৮ নম্বর সেক্টরের মেজর এম.এ.মঞ্জুর ও মেজর ওসমানের অধিনে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। নিয়েছিলেন ভারতে প্রশিক্ষণ। তার দুই মামা এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া সাফদারপুর বাজার পাড়া এলাকার আক্কাচ আলী মন্ডল, আবুল হোসেন খোকন, সিরাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী ও সাফদারপুরের পার্শ্ববর্তী দোড়া ইউনিয়নের সুয়াদী গ্রামের সুলতান মোল্যার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন-এই সকল মুক্তিযোদ্ধাদের নাম এখন রাজাকারের তালিকায়। সোমবার সন্ধ্যারাতে সাবদারপুর গ্রামে মৃত মোহম্মদ আলী খাঁনের বাস ভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আক্ষেপ করেন। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-ওই সকল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ফিরোজা আলম রেখা, হামিদ খাঁন, হীরন খাঁন, এস কে ফয়েজ আহাম্মেদ রিয়ন, সিহাব উদ্দিন, মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান, আবুল কালাম আজাদসহ অন্যান্য স্বজনেরা। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়-রাজাকারের তালিকায় আনা মোহাম্মদ আলী খাঁনের রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ। আক্কাচ আলী মন্ডল তিনি শুধু দেশের জন্য যুদ্ধ করে থেমে থাকেননি তিনি এলাকার মানুষের জন্য ৯৬ সালে প্রথমবার আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর স্বপ্রণোদিত হয়ে সাফদারপুরে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠার জন্য ৫ শতক জমিও দান করেছেন। এর বাইরেও একই এলাকার বেনু মিয়া নামে আর এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকেও রাজাকারের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। তিনি ২০১৭ সালে মৃত্যু বরণের পর তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। এমনকি যথানিয়মে তার পরিবার রাষ্ট্র প্রদত্ত ভাতাসহ যাবতীয় সুবিধাদি ভোগ করছেন। অথচ এইসব মুক্তিযোদ্ধাদের নাম মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাজাকারের তালিকায় রয়েছে। যা মুক্তিযোদ্ধাসহ ওই পরিবার গুলোকে হেয় করাসহ বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উদ্দেশ্য প্রণোদিত তালিকা বাদ দিয়ে সঠিক তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারদের মূল্যায়নের আহ্বান জানান উপস্থিত স্বজনেরা। এব্যাপারে কোটচাঁদপুরের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তাজুল ইসলাম বলেন-এই সাত জন মুক্তিযোদ্ধা না রাজাকার সে সম্পর্কে আমার কিছইু জানা নেই। এ সম্পর্কে মন্ত্রানালয় থেকে যদি কখনো জানতে চাই সে ক্ষেত্রে খোঁজ খবর নিলে সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। প্রসঙ্গত: মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় কোটচাঁদপুর উপজেলায় ৪৬ জনের নাম এসেছে। এর মধ্যে সাফদারপুর ইউনিয়নেই ২২ জন রয়েছে।