বিভাগ - অপরাধ

​হলি আর্টিজানের রায় ঘিরে ‘ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্ক’, নিরাপত্তা জোরদার

প্রকাশিত

এওয়ান নিউজ: গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় রক্তাক্ত জঙ্গি হামলার মামলায় বুধবার রায় দেবেন আদালত। সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করবেন। পাবলিক প্রসিকিউটর গোলাম সরোয়ার খান জাকির এ তথ্য জানিয়েছেন। গত ১৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে বিচারক রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন।

এদিকে রায়কে কেন্দ্র করে আদালত পাড়ায় নিরাপত্তা বাড়ানো ছাড়াও অন্যান্য জঙ্গিকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। সিটিটিসির এডিশনাল কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে, বৃহস্পতিবার রায়কে কেন্দ্র করে জঙ্গি নেটওয়ার্ক তৎপর হয়ে উঠেছে।’

২০১৬ সালে রাজধানীর হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। অস্ত্রের মুখে বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে তারা ২২ জনকে হত্যা করে। দুই পুলিশ কর্মকর্তাকেও হত্যা করে তারা। আড়াই বছর তদন্তের পর গত বছরের ২৩ জুলাই আদালতে চার্জশিট দেয় সিটিটিসি। আসামিদের মধ্যে বিভিন্ন সময় পুলিশের অভিযানে ১৩ জন নিহত হওয়ায় তাদের চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়। ওই বছরের ২৬ নভেম্বর বিচার শুরু করে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। আদালতে সাক্ষ্য দেয় ১১৩ জন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবীর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করা হয়। পরে হাসনাত করিমকে অব্যাহতি দেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস।

এ মামলায় অভিযোগপত্রে ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ জন আসামি বিভিন্ন অভিযানে ও ৫ জন হলি আর্টিজানে অভিযানের সময় নিহত হয়েছে। এ ছাড়া জীবিত ৮ আসামির সবাই কারাগারে।

অভিযোগপত্রের ৮ আসামি হলেন- হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র‍্যাশ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ।