ফটো গ্যালারি

বরিশালের মহাসমাবেশ আজ জনসমুদ্রে পরিণত হবে: রিজভী

বরিশালের মহাসমাবেশ আজ জনসমুদ্রে পরিণত হবে: রিজভী \

নিজস্ব প্রতিবেদক: কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বরিশাল বিভাগীয় মহাসমাবেশ ঘিরে মুক্তকামী জনতার মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে জানিয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বরিশালের মহাসমাবেশ আজ জনসমুদ্রে পরিণত হবে। এই জনজোয়ার আমাদের আন্দোলনের একটি ধাপ।’

তিনি বলেছেন, ‘এদেশের মানুষের কাছে সর্বাধিক জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দ্রুত নতুন নির্বাচনের দাবিতে আজ থেকে শুরু হবে বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশ। বিএনপি পর্যায়ক্রমে সবগুলো বিভাগে এই মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। আজ বরিশালে আমাদের মহাসমাবেশে মুক্তকামী জনতার ঢল নামবে।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।সংবাদ সম্মেলনে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, কৃষক দলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘সমাবেশের অনুমতি নিয়ে টালবাহানা করছে পুলিশ প্রশাসন। বরিশালে গত এক সপ্তাহ ধরে অনিশ্চয়তায় রেখে গতকাল শেষ মুহূর্তে পুলিশ ঈদগাহ মাঠে মহাসমাবেশের অনুমতি দিলেও বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা বরিশালের বেলস পার্কে সমাবেশের জন্য আবেদন করলেও অনুমতি দেয়া হয়েছে ঈদগাহ মাঠে। যার পরিসর অত্যন্ত ছোট। এটা সরকারের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বেরই বহিঃপ্রকাশ।’

সরকারের উন্নয়নের কড়া সমালোচনা করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘র্তমান অবৈধ সরকার তথাকথিত উন্নয়নের ফাঁপড়বাজির মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে ধোকা দিয়ে জোর করে ক্ষমতার মসনদ দখল করে স্বৈরশাসন চালাচ্ছে। রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে গোষ্ঠীশাসনতন্ত্র বা অলিগোর্কি।’

রিজভী বলেন, ‘সরকারের রথী-মহারথীরা গণতন্ত্রের চাইতে উন্নয়নকে প্রাধান্য দেয়ার নামে সব সামাজিক চুক্তি ভঙ্গ করে জনগণকে শৃঙ্খলিত করেছে। জনগণের ভাগ্যের উন্নয়নের নামে চলছে বল্গাহীন লুণ্ঠন। প্রায় আড়াই কোটি মানুষ তিনবেলা পেটভরে খেতে না পারলেও এই মিডনাইট সরকার উন্নয়নের দোহাই দিয়ে গরিবের পেটে লাথি মারতেই গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছে, জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করেছে, একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে এবং মিডনাইট নির্বাচনকে জায়েজ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা হলো এই উন্নয়ন হলো ক্ষমতাসীন দলের লোকজন আর তাদের সহযোগিতাকারীদের পকেটের উন্নয়ন। আর নিরন্ন মানুষের সংখ্যা বাড়ানোর উন্নয়ন।’

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা (এফএও), শিশু তহবিল ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (আইএফএডি) ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির উদ্যোগে ‘বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি বাস্তবতা ২০১৯’ শিরোনামে যৌথভাবে প্রণীত নতুন প্রতিবেদনে বলেছে, “বাংলাদেশে ২ কোটি ৪২ লক্ষ মানুষ ভালোভাবে খেতে পায় না। পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে বাংলাদেশে প্রতি ৬ জন মানুষের মধ্যে একজন অপুষ্টিতে ভুগছে। গত এক দশকে এদেশে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা অন্তত ১০ লাখ বেড়েছে”।’

রিজভী বলেন, ‘অথচ রাতের আঁধারের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বলে আসছেন, ‘দেশে কোনো হাহাকার নেই, অভুক্ত মানুষ নেই’। জনগণের টুঁটি চেপে ধরা এই সরকারের চাপাবাজ মন্ত্রীরা বলছেন, বাংলাদেশ নাকি উন্নয়নে সিঙ্গাপুর, কানাডা এবং ইউরোপের মতো উন্নত দেশে পরিণত হচ্ছে। এই সরকারের অর্থমন্ত্রী গত বছর বলেছিলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ কানাডার সমান হয়ে যাবে। এক বছরের মধ্যে স্পেন, থাইল্যান্ডের সমান হয়ে যাবে। দেশে কোনও গরিব নেই। এমনকি এক বছর আগে ২০১৮ সালের ২৫ জুন জাতীয় সংসদে বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সেই সময়ের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন দেশের দারিদ্র্যের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে ৪ কোটি লোক দরিদ্র, ২ কোটি লোক অভুক্ত থাকে। পুষ্টি ঠিকভাবে পায় না। তার চেয়ে বড় কথা দেশে আয় বৈষম্য বেড়েছে বিপুলভাবে’।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ‘বিনা নির্বাচনে শুধু লুটপাটের জন্য ক্ষমতায় থাকা এই অবৈধ সরকারের গত ১০ বছরে ধনী আরও ধনী, গরিব আরও গরিব হয়েছে। নজিরবিহীন দলীয়করণ, প্রশাসন ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল ও ক্ষয়িষ্ণু করেছে। জবাবদিহিতার অভাব, অকার্যকর পালার্মেন্ট দুর্নীতিকে লাগামহীন পর্যায়ে নিয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ধ্বংসের মুখে। শেয়ার মার্কেট লুট, ব্যাংক লুট, দলীয় ব্যক্তিদের জন্য ঋণ সুবিধা ও ফেরত না দেবার প্রবনতা একনায়ক সরকারের সমর্থক ও তল্পীবাহকদের বা লাগামহীনভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার ও গণলুট বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ভেতরে ভেতরে অন্তঃসারশূন্য করে ফেলছে। বার বার জিডিপি হিসেবের বিভ্রাটে ফেলা হচ্ছে জাতিকে। সরকারের জিডিপি’র হিসাব ডাহা মিথ্যাচারের একটি নমুনা।’

রিজভী বলেন, ‘ক্ষমতা নিরুপদ্রব রাখতে চারবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারারুদ্ধ রাখা হয়েছে গত দেড় বছর। গুরুতর অসুস্থ দেশনেত্রীকে জামিনে বাধা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই। গত পরশু গুরুত্বপূর্ণ একজন আওয়ামী নেতা হানিফ সাহেব বলেছেন- ‘বিএনপি আন্দোলন করে বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে পারবে না’। এই কথায় প্রমাণিত হলো যে, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার কারণেই বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি।’

অপর এক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এদেশের মুক্তিকামী জনগণের আশা-ভরসাস্থল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাজানো মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে। বিচার বিভাগসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। গণতন্ত্রের অভাবে শাসন কাঠামো ভেঙে পড়েছে। বাস্তবে জনগণের কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে বলবো, উন্নয়ন প্রপাগান্ডার ঢোল বাজানো বন্ধ করুন। দেশের দরিদ্র মানুষকে নিয়ে তামাশা করবেন না। দ্রুত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা দিন।’

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ