ফটো গ্যালারি

বিদেশি সব লুফে নেওয়ার মানসিকতা পরিহারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বিদেশি সব লুফে নেওয়ার মানসিকতা পরিহারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির \

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশি সবকিছু লুফে নেওয়ার মানসিকতা পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, অপ্রয়োজনীয়, বিজাতীয় ও অপসংস্কৃতির সবকিছু বর্জন করতে হবে। বৃহস্পতিবার শিল্পকলা পদক-২০১৮ বিতরণ অনুষ্ঠানে আবদুল হামিদ এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আকাশ সংস্কৃতির বদৌলতে প্রতিনিয়ত আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ভীনদেশি সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটছে। তাই বিদেশি বা আকর্ষণীয় হলেই সবকিছু লুফে নেওয়ার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে যতটুকু সামঞ্জস্য ততটুকুই গ্রহণ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয়, বিজাতীয় ও অপসংস্কৃতির সবকিছু বর্জন করতে হবে।”

শিশুদের সংস্কৃতি চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আবদুল হামিদ বলেন, “সংস্কৃতি হচ্ছে জীবনের দর্পণ। সংস্কৃতি নিয়ে কেউ জন্মায় না। প্রতিনিয়ত চর্চার মাধ্যমে সংস্কৃতি অর্জন করতে হয়। একজন সংস্কৃতিবান কখনও সমাজের ক্ষতি করতে পারে না। তাই সমাজ থেকে পঙ্কিলতা দূর করতে সংস্কৃতিকে হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। সুস্থ সংস্কৃতির লালন ও বিকাশে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

“আমি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানাব, আপনারা আপনাদের সন্তানদের লেখাপড়ার পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহিত করুন। কারণ সুকুমার বৃত্তির চর্চাই মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

রাষ্ট্রপতি বলেন, “সামাজিক অবক্ষয় রোধে সংস্কৃতি হচ্ছে রক্ষাকবচ। সমাজ থেকে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, হিংসা-বিদ্বেষ দূর করতে সংস্কৃতির বিকাশ খুবই জরুরি। গ্রাম থেকে শহর, নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত প্রতিটি স্তরে সংস্কৃতির চর্চা যত বেশি হবে, সমাজও ততবেশি আলোকিত হবে। আলোকিত সমাজই পারে মানবিক সমাজ গড়তে, একটি দেশ ও জাতির কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধি ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে।”

শিল্পকলা একাডেমির কাজের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “শিল্পীর কদর ছাড়া শিল্পের বিকাশ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যে জাতি শিল্প সংস্কৃতির বিকাশে যত বেশি কাজ করেছে সে জাতির শিল্প ততবেশি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও জীবনঘনিষ্ট শিল্পসংস্কৃতির বিকাশ ও প্রসারের লক্ষ্যে শিল্পীদের মূল্যায়নের যে পদক্ষেপ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি গ্রহণ করেছে তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমি মনে করি এ উদ্যোগ মানবিক সমাজ গড়তে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।” শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ওই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সাত শিল্পীকে ‘শিল্পকলা পদক ২০১৮’ দেন রাষ্ট্রপতি।

পদকপ্রাপ্তরা হলেন- কণ্ঠসঙ্গীতে গৌর গোপাল হালদার, যন্ত্রসঙ্গীতে সুনীল চন্দ্র দাস, নাট্যকলায় ম. হামিদ, লোক সংস্কৃতিতে মিনা বড়ুয়া, চারুকলায় অলকেশ ঘোষ, নৃত্যকলায় শুক্লা সরকার ও আবৃত্তিতে জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। পদকের জন্য নির্বাচিতদের প্রত্যেকের হাতে একটি স্বর্ণপদক, এক লাখ টাকা সম্মানী ও একটি সনদ তুলে দেন রাষ্ট্রপতি।

দেশের শিল্প সংস্কৃতির ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ অবদানকে সম্মান ও স্বীকৃতি জানাতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে ২০১৩ সাল থেকে ‘শিল্পকলা পদক’ দেওয়া হচ্ছে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবু হেনা মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ