ফটো গ্যালারি

বৃদ্ধ নারীকে ৭ টি মামলা দিয়ে হয়রানি, প্রাননাশের হুমকিতে দিশেহারা!

বৃদ্ধ নারীকে ৭ টি মামলা দিয়ে হয়রানি, প্রাননাশের হুমকিতে দিশেহারা! \

রহিম রেজা, ঝালকাঠি থেকে: ঝালকাঠির রাজাপুরের মঠবাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলা গ্রামের বার্ধক্যজনিতে রাগাক্রান্ত হাফেজ খানের স্ত্রী বৃদ্ধ রওশনারা বেগমের (৬২) নামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ৭ টি মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে প্রতিপক্ষের লাগাতর প্রাননাশের হুমকিতে দিশেহারা হয়ে প্রান বাঁচাতে এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে আশ্রয় নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এ ঘটনায় একাধিক বার রাজাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ ও জিডি করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। সর্বশেষ চলতি জুলাই মাসের ৭ তারিখ ওই বৃদ্ধ নারী রওশনারা বেগমের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জিডি (নং২৫৮) করেছেন।

রওশনারা বেগমের অভিযোগ, পশ্চিম বাদুরতলা মৌজার ১৩৯ নং খতিয়ানের ৪১১/৪১২ নং দাগের পৈত্রিক ০৯ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু পশ্চিম বাদুরতলা গ্রামের মৃত হাবিব হাওলাদারের ছেলে প্রতিপক্ষ ইউসুফ আলী জোরপূর্বক দখলের নেয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে একে একে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে ৭টি মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। এর মধ্যে ৬টি মামলা খারিজ হয়ে তারা (রওশনারা) খালাশ পায় এবং বর্তমানে একটি মামলা চলমান রয়েছে। এমতাবস্থায় বিভিন্ন সময় প্রতিপক্ষ ইউসুফ আলী, তার দুই ছেলে মনির ও সোহাগ এবং মৃত শাজউদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর ও মঞ্জুসহ ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে জমি দখলের পায়তারা চালাচ্ছে। সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রওশনারা, সরুপজান বেগম, রাহিমা বেগমের কাছ থেকে সুলতান খানের স্ত্রী ফাতেমা বেগম ৯ শতাংশ জমি সাব কবলা দলিল মূলে ক্রয় করলেও তা দখলে নিতে গেলে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে ইউসুফ আলী ও তার লোকজন। ইউসুফ আলী ও তার লোকজন মিলে ওই এলাকার নিরীহ মানুষকে রাতে নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে, এতে ওই এলাকার বাসিন্দারা রাতে আতঙ্কে নির্ঘম কাটাচ্ছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। এছাড়া বৃদ্ধ রওশনারার পক্ষ নিলে তাদেরকেও মামলায় আসামী করে হয়রানি করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে ইউসুফ আলীর ছেলে সোহাগ হাওলাদার কাছে জানতে চাইলে সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, রুস্তুম ও কহিনুর বেগমের কাছ থেকে ৩ বছর পূর্বে ৩০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন তারা। তার মধ্যে বিরোধীয় ওই ৬ শতাংশ জমিও রয়েছে। যা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে, কাউকে হয়রানি ও হুমকি দেয়া হচ্ছে না। স্থানীয় মঠবাড়ি ইউপি সদস্য চারমিং তালুকদার জানান, এ বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে সালিশ মিমাংসার জন্য ডাকলেও ইউসুফ আলীর পক্ষ তা না মেনে আদালতের মাধ্যমে বুঝে আসবেন বলে বৈঠকে আসেন না। রাজাপুর থানার ওসি মোঃ জাহিদ হোসেন জানান, ওই নারীর নিরাপত্তায় পুলিশ সচেষ্ট আছে, আইনশৃক্সখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাতেও বিভিন্ন সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়নে রাখা হয়। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ