ফটো গ্যালারি

প্রিয়া সাহার বক্তব্য দেশদ্রোহী: ওবায়দুল কাদের

প্রিয়া সাহার বক্তব্য দেশদ্রোহী: ওবায়দুল কাদের \

এওয়ান নিউজ: প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশের নাগরিক হয়ে দেশের বাইরে এরকম অসত্য উদ্দেশ্যমূলক এবং দেশদ্রোহী বক্তব্য, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে এবং সেই প্রক্রিয়া চলছে।’

শনিবার (২০ জুলাই) ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমন্ডলী ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সাথে যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, আমি নিজেও শুনেছি। এই বক্তব্যটি সম্পূর্ণ অসত্য এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি একটি নিন্দনীয় অপরাধই শুধু নয়, উসকানিমূলক বক্তব্য। যা দেশের অভ্যন্তরে লুকায়িত মতলববাজ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকেই আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।’

কাদের বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, বাংলাদেশের কোনো বিবেকবান দেশপ্রেমী হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্য প্রিয়া সাহার বক্তব্যের সাথে একমত হবেন না। আমিও তার সম্পর্কে অনেকের সাথে আলাপ করেছি, কথা হয়েছে, তারা এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারের বরাত দিয়ে কাদের বলেন, এই ধরনের বক্তব্যের কোনো সত্যতা নেই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চমৎকার একটা পরিবেশ রয়েছে বাংলাদেশে। আমার মনে হয়, এ নিয়ে আর দ্বিধা দ্বন্দ্বের অবকাশ থাকতে পারে না। প্রকৃত অসাম্প্রদায়িক মানুষ সব ধর্মের সাম্প্রদায়িকতাকে ঘৃণা করে।

শনিবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সভাশেষে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, তার এ ধরনের বক্তব্য শুধু নিন্দনীয়ই না, এর মধ্য দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে লুক্কায়িত সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আরও উৎসাহিত করবে। এই বক্তব্যের সঙ্গে দেশে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেউ একমত না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে রান দাশ গুপ্তের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন। এমনকি মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিস্টার মিলারও এ ধরনের বক্তব্যের কোন ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে তিন দিনব্যাপী ধর্মীয় স্বাধীনতায় অগ্রগতি শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গত বুধবার হোয়াইট হাউসে গিয়ে ট্রাম্পের কাছে ওই অভিযোগ করেন প্রিয়া সাহা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর উদ্যোগে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। প্রিয়া সাহার দাবি, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা মৌলবাদীদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন।

ওই সম্মেলনে বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার অভিযোগ বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের জন্য বিবৃতকর পরিস্থিতি তৈরি করে।

আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, উপজেলা নির্বাচনে যারা বিদ্রোহ করেছেন কিংবা যারা তাতে মদদ দিয়েছেন, তাদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০ অভিযোগ পেয়েছি। সেসব অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য স্ব স্ব বিভগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের ২৭ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। ২৮ জুলাই থেকে বহিষ্কার ও শোকজ নোটিস পাঠানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাসিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আহমদ হোসেন, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ