ফটো গ্যালারি

কলাপাড়ায় এইচএসসি’র ফল বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষকদের রাজনীতি ও ঠিকাদারী বানিজ্যই দায়ী

কলাপাড়ায় এইচএসসি’র ফল বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষকদের রাজনীতি ও ঠিকাদারী বানিজ্যই দায়ী \

রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: ২১ জুলাই ঃ কলাপাড়ায় ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে শহরের কলেজ দু’টির ফলাফল মারাত্মক বিপর্যয় ঘটেছে। তবে শহরের চেয়ে গ্রামের কলেজগুলো পাশের শতকরা হার ও জিপিএ ৫ পেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। শহরের কলেজগুলোর ফলাফল খারাপের নেপথ্যে কলেজ দু’টির অভ্যন্তরীন কোন্দল, শিক্ষকদের কোচিং বানিজ্য ছিল অন্যতম কারন। এছাড়া কলেজ বাদ দিয়ে ঠিকাদারী বানিজ্য, রাজিৈতক নেতার তৈলমর্দন ও স্বজনপ্রীতি শিক্ষকদের অহংকার নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়াসহ পরীক্ষার প্রস্তুতি তৈরীতে ডাকসাইডের শিক্ষকদের উদাসিনতাকেই দায়ী করছেন ফলাফল বিপর্যয় হওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ।

জানা যায়, ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় উপজেলার ৪টি কেন্দ্রের ৫টি ভেন্যুতে মোট ৬টি কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করে। এরমধ্যে আলহাজ্ব জালাল উদ্দীন কলেজে শতকরা ৯৭.৩২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করে এবং ১২টি জিপিএ ৫ পেয়ে উপজেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করে। মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল কলেজের পাশের শতকরা হার ৯৬.৫৫ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ পেয়েছে ১টি। এ কলেজ থেকে ১৭৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬৯ জন উত্তীর্ন হয়েছে। কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রী কলেজের পাশের শতকরা হার ৯০.৮৪ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩টি। এ কলেজ থেকে ৪১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৭৭ জন উত্তীর্ন হয়েছে। কলাপাড়া মহিলা কলেজে পাশের শতকরা হার ৫৮.২৯ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ অর্জন করতে পারেনি কোন শিক্ষার্থী। এ কলেজ থেকে ১৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০৯ জন উত্তীর্ন হয়েছে। সরকারী মোজাহার উদ্দীন বিশ্বাস অনার্স কলেজের পাশের শতকরা হার ৪৪.৪৭ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ পেয়েছে ১টি। এ কলেজ থেকে ৩৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৫৭ জন পাস করেছে। ধানখালী ডিগ্রী কলেজে পাশের হার ৪১% এবং জিপিএ ৫ অর্জন করতে পারেনি কেউ। এ কলেজ থেকে ৯৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩৮ জন্য।

অভিভাবকদের অভিযোগ, পৌরশহরের সরকারী মোজাহার উদ্দীন বিশ্বাস অনার্স কলেজ ও মহিলা ডিগ্রী কলেজের বেশ কিছু শিক্ষক পাঠদানের কোন রকম প্রস্তুতি ছাড়াই কিছু শিক্ষক কলেজকে প্রধান্য না দিয়ে নিজের ঠিকাদারী বানিজ্য ও রাজনৈতিক দলের নেতার পরিচয়ে ফায়দা হাসিলে ব্যস্ত সময় পার করেন। অপর কিছু শিক্ষক নিজেদের পরিচালিত কোচিং ছাড়া পাঠদানে থাকেন উদাসীন। এছাড়া কিছু শিক্ষক শহরের দুটি কলেজের অভ্যন্তরীন কোন্দলে পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের হয়রানী ও ফল বিপর্যয় হয়েছে বলে একাধিক অভিভাবক জানান।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ