ফটো গ্যালারি

আওয়ামী লীগ নেতাদের ‘মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার’ পরামর্শ রিজভীর

আওয়ামী লীগ নেতাদের ‘মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার’ পরামর্শ রিজভীর \

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘এরা (আওয়ামী লীগ নেতারা) এত মিথ্যা কথা কীভাবে বলে। সারা দেশে বন্যার্তদের হাহাকার, চারপাশে ত্রাণের জন্য আহাজারি। নারী-শিশু নির্যাতন মহামারি আকার ধারণ করেছে। শিশুদের কাটা মাথা পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোই কি আওয়ামী লীগের উন্নয়ন? তারা বলছে দেশে উন্নয়ন হয়েছে। আমি বলি- উন্নয়ন মূলত তাদের চাপাবাজিতে হয়েছে। এদের এখন মানসিক স্বাস্থ্যের পরীক্ষা দরকার।’

সোমবার (২২ জুলাই) দুপুরে নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কমিটির নির্বাহী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা করেন। মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মাহাতাবের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বিএনপির মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম ও যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যক্ষ সেলিম মিয়াসহ সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।

সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘সরকারের তথ্যমন্ত্রী বলেছেন- ‘জনরোষে বেগম খালেদা জিয়ার পতন হয়েছে। এখন তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন’। জনরোষে বেগম খালেদা জিয়ার পতন হয়নি, হাসিনার রোষে খালেদা জিয়া কারাগারে। এই হাছান মাহমুদরা গণতন্ত্রের ন্যূনতম স্পেস দিচ্ছে না। যারা মুক্তভাবে দু-একটি কথা বলে তাদের জায়গা এখন আর খোলা আকাশের নীচে নয় লাল দালানের ভেতরে রেখেছে আওয়ামী লীগ সরকার।’

আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ডাকাতের মতো রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছেন। জনগণকে ত্যাজ্য করেছেন। আবার বলছেন গণরোষে খালেদা জিয়ার পতন হয়েছে। গণরোষ দেখবেন আপনারা। গণতন্ত্রে একটু স্পেস দিলে আওয়ামী লীগ রাস্তা দিয়ে নয়, গলি দিয়ে পালানোরও সুযোগ পাবে না। তখন মুজিব কোট আর কারও গায়ে থাকবে না।’

আওয়ামী লীগ মিথ্যাচার করছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘গাজীপুর যেতে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে, ময়মনসিংহ যেতে লাগে ৭ ঘণ্টা। এই কি দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের নমুনা? ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে। অথচ এসবের দিকে সরকারের কোনও নজর নেই। তাদের নজর এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকে, তাদের দৃষ্টি এখন সোনালী ব্যাংক আর জনতা ব্যাংকের দিকে।’

প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন সফরের সমালোচনা করে রিজভী আরও বলেন, ‘বন্যা হচ্ছে উত্তরবঙ্গ থেকে মধ্যবঙ্গ পর্যন্ত, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায়। আর দেশের এই দুর্যোগ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী ১৮ দিনের ছুটিতে লন্ডন চলে গেলেন। বাহ, এই হচ্ছে দায়িত্ব সরকারের। এর কারণ তাদের ভোট লাগে না, নির্বাচন লাগে না। তাদের লাগে পুলিশ আর র‌্যাব। আজকে কুড়িগ্রাম লালমনিরহাটের মানুষ তিস্তা নদীতে ভাসছে। আর প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে বসে বৈঠক করে যাচ্ছেন। জনগণ ধিক্কার জানাচ্ছে এই সরকারকে।’

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ