ফটো গ্যালারি

শতবছরের প্যাডেল স্টিমারে ভ্রমণ

শতবছরের প্যাডেল স্টিমারে ভ্রমণ \

রুবাইয়া তানজিল: সকাল ৭টা। বৈদ্যমারীর দক্ষিণ চিলার কটেজ থেকে রওনা দিয়ে ৯ টায় মোড়েলগঞ্জ ঘাটে এসে দেখি রকেট স্টিমার পি এইচ মাসউদ অপেক্ষা করছে। প্রায় শত বছরের পুরনো এই রকেট স্টিমারে উঠে কিছুটা আবেগ আপ্লুত হয়ে গেলাম! ঠিক ৯ টা ৩০ মিনিটে কমলা রকেট আমাদের নিয়ে চলতে শুরু করলো ঢাকার উদ্দেশ্যে। প্রায় ২২ ঘণ্টার জার্নি শুরু হলো মাত্র।

প্যাডেল স্টিমারে ভিআইপি কেবিন নেই। তবে এখানকার প্রথম শ্রেণীর কেবিনের আভিজাত্য দেখেই আমি মুগ্ধ। এসিও ঠিকমতই ঠাণ্ডা হচ্ছিলো। আসার সারাটা পথে সারাদিন সারাবেলা রোদ বৃষ্টির প্রতিযোগিতা ভ্রমণকে করেছে আরো পরিপূর্ণ, আরো বৈচিত্র্যময়। রকেটের খাবারের মান সত্যি অসাধারণ। দাম কিছুটা বেশি হলেও স্বাদ সে ব্যাথা ভুলিয়ে দিবে। গ্যারান্টি! বিকেলে কোরাল মাছের ফ্রাইয়ের সঙ্গে আলু ভাজা আর চা খেতে খেতে সন্ধ্যা হতে দেখার স্মৃতি অনেকদিন মনে অনুরনন হবে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

রাত ১০ টায় ডিনার করে আকাশ ভরা তারার রাতে রকেট স্টিমারের ছাদে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে কখন যে রাত ১ টা বেজে গেল টের-ই পাইনি। নিচে নেমে রুমে ঢুকে দেখি রুম ‘বরফ’ হয়ে আছে। কম্বল গায়ে দিয়ে কখন ঘুমিয়ে পড়লাম। ৩ টায় যখন স্টিমার চাঁদপুরে, তখন কিছুক্ষণের জন্যে বাহিরে এসে দাঁড়িয়েছিলাম। স্টিমারের সব মানুষ তখন গভীর ঘুমে। এই প্রথম খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম ট্যুর শেষ হয়ে যাচ্ছে ভেবে। সকাল হলেই নামতে হবে এই ভাবনা যখন গ্রাস করছিলো আমায় তখন আবার রুমে ঢুকে জানালার পর্দা সরিয়ে তারা গুনতে গুনতে ঘুমিয়ে পড়েছি।

সকালে উঠে স্টিমারের ডেকে দাঁড়িয়ে চা খেতে খেতে সূর্য উঠা দেখলাম। সকাল ৮ টায় কমলা রকেট সদরঘাটের লালকুঠি ঘাটে যাত্রা শেষ করলো। প্রায় ত্রিশটা নদী পেরিয়ে একটা পরিপূর্ণ মধুর স্মৃতি নিয়ে বাসায় ফিরলাম।

শুধু রকেট স্টিমারে চড়তেই প্রতিবছর হাজার হাজার বিদেশী পর্যটক ছুটে আসেন বাংলাদেশে। তাদের ‘টু ডু লিস্টে’র সবার ওপরের দিকেই থাকে এই প্যাডেল স্টিমারে ভ্রমণটা। অথচ আমাদের দেশের অনেকে জানেই না এই প্যাডেল স্টিমার সার্ভিস সম্পর্কে। কমলা রকেটে করে চাঁদপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি, কাউখালি, হুলারহাট, চরখালী, সন্যাসী, মাছুয়া কিংবা মোড়েলগঞ্জে ঘুরে আসতে পারেন।

ঢাকা থেকে মোড়েলগঞ্জ ভাড়া- ফাস্ট ক্লাস ৩৭১৫ টাকা (২ জন), সেকেন্ড ক্লাস কেবিন ২০০০ টাকা (২ জন) ও ডেকের ভাড়া জনপ্রতি ২৮০ টাকা। জনপ্রতি প্রতিবেলা খাবারের মূল্য ২২০ টাকা। তবে বাসা থেকে খাবার নিয়ে গেলে প্লেট বাটি বাবদ ৫০ টাকা করে জনপ্রতি ভাড়া দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ