ফটো গ্যালারি

১২ দিনের মাথায় মহাকাশ থেকে পৃথিবীর ছবি পাঠাল চন্দ্রযান-২

১২ দিনের মাথায় মহাকাশ থেকে পৃথিবীর ছবি পাঠাল চন্দ্রযান-২ \

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: বর্তমানে মহাকাশে অবস্থানরত ভারতের ‘চন্দ্রযান-২’ পৃথিবীর বেশ কয়েকটি ছবি পাঠিয়েছে বলে দাবি ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশনের (ইসরো)। অত্যাধুনিক এই মহাকাশযানটির ল্যান্ডারে বসানো এলআই-৪ ক্যামেরাটি প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে ছবিগুলো ধারণ করছে বলে জানিয়েছে ইসরো কর্তৃপক্ষ।

‘ইসরো’র দেওয়া তথ্যের বরাতে গণমাধ্যম ‘এনডিটিভি’ জানায়, গত শনিবার (৩ আগস্ট) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৮ মিনিট থেকে ১১টা ৭ মিনিটের মধ্যে ছবিগুলো তোলা হয়। যেখানে আমেরিকা মহাদেশ ও প্রশান্ত মহাসাগরের বেশ কিছু অংশকে খুব ভালোভাবে দেখা যায়।

এর আগে গত ২২ জুলাই (সোমবার) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪৩ মিনিটে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ন মহাকাশ কেন্দ্র (এসডিএসসি) থেকে চাঁদের অদেখা অংশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল ‘চন্দ্রযান-২’।

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইসরো’র চেয়ারম্যান কে সিভান বলেন, ‘আমাদের মহাকাশযানটি সঠিকভাবেই কাজ করছে। ‘চন্দ্রযান-২’-এর পাঠানো প্রতিটি ছবিই ভীষণ স্বচ্ছ ও পরিষ্কার। আমরা আশা করছি, চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের প্রথম ১৫ মিনিটের ভয়ঙ্কর মুহূর্তেও মহাকাশযানের ল্যান্ডারটি ঠিকঠাকভাবে কাজ করবে।’

‘চন্দ্রযান-২’ যানটিকে মহাকাশের উদ্দেশে নিয়ে যায় ৪৪ মিটার লম্বা একটি রকেট, যা বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট। এর মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে ‘বিক্রম’ নামে একটি ল্যান্ডার। ‘ইসরো’র প্রতিষ্ঠাতা বিজ্ঞানী প্রয়াত বিক্রম সারাভাইয়ের নামে যার নামকরণ করা হয়েছে। তাছাড়া এতে রয়েছে ‘প্রজ্ঞান’ নামের একটি মুন রোভার।

যানটি সফলভাবে চাঁদে অবতরণ করতে পারলে এটি হবে বিশ্বের চতুর্থ কোনো দেশের সফলভাবে চন্দ্র অভিযান। এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন) সফলভাবে নিজেদের অভিযানটি সম্পন্ন করেছিল।

রবিবার ‘ইসরো’র পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত শুক্রবার (২ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ৩টা ২৭ মিনিটে পৃথিবীর কক্ষপথের চতুর্থ স্তরটিকে সফলভাবে অতিক্রম করে ‘চন্দ্রযান-২’। পরবর্তী স্তরটি আগামী মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে অতিক্রম করা যাবে; মূলত এর মাধ্যমেই যানটি সাফল্যের সঙ্গে চাঁদের দিকে এগিয়ে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে ‘চন্দ্রযান-২’-এর চাঁদের অভিকর্ষ এলাকার মধ্যে ঢুকার কথা রয়েছে। যা পরবর্তী ৭ সেপ্টেম্বর চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করতে পারে বলে ‘ইসরো’ তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে।

এর আগে গত ২২ জুলাই ‘ইসরো’ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, প্রায় ১৫ কোটি ডলারে নির্মিত ‘চন্দ্রযান-২’ চাঁদ থেকে পানি, খনিজ ও পাথর সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করবে। চাঁদের পিঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ‘বিক্রম’ নামে ল্যান্ডর থেকে বেরিয়ে আসবে খুবই ছোট একটি রোভার ‘প্রজ্ঞান’। যার ওজন মাত্র ২০ কিলোগ্রাম। আর চন্দ্রযান-২-এর সার্বিক ওজন ৩ হাজার ৮৫০ কিলোগ্রাম। ল্যান্ডরটি নেমে আসার সময় চন্দ্রযান-২-এর অরবিটারটি চাঁদের পিঠ (লুনার সারফেস) থেকে থাকবে মাত্র ১০০ কিলোমিটার ওপরে।

এবার ভারতের ‘চন্দ্রযান-২’ পাঠানোর উদ্দেশ্য, চাঁদের পিঠের বালুকণায় মিশে রয়েছে কোন কোন মৌল ও খনিজ পদার্থ আর তা কী পরিমাণে রয়েছে তা জানা। সেই মৌল বা খনিজগুলো নিষ্কাশনের যোগ্য কি না, তা যাচাই করা। যে স্বপ্নটা প্রথম দেখেছিলেন ভারতের প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম।

বিজ্ঞানীদের মতে, দক্ষিণ মেরুর দিকেই চাঁদের গভীরে এখনো বয়ে চলেছে পানির ধারা। উল্কাপাত বা অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তু আছড়ে পড়ায় সেখানে একটি বিশাল গর্ত (ক্রেটার) তৈরি হয়েছে। এর ফলে চাঁদের গভীরে মৌল বা খনিজ বা পানির খোঁজের কাজটা সহজতর হয়ে উঠতে পারে।

এর আগে ভারতের প্রথম চন্দ্রাভিযান হয়েছিল ২০০৮ সালে। তখন চাঁদের কক্ষপথে গিয়েছিল ‘চন্দ্রযান-১’। চাঁদে পানির অন্যতম উপাদান হাইড্রক্সিল আয়নের খোঁজ দিয়েছিল যানটি।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ