ফটো গ্যালারি

সম্প্রচার মাধ্যমের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী

সম্প্রচার মাধ্যমের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী \

এওয়ান নিউজ: বেসরকারি টেলিভিশনে বিদেশি সিনেমা প্রচার ও বিদেশি কলা-কুশলীদের কাজ করার ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি নেওয়ার নিয়ম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে বেসরকারি টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো) নেতাদের সঙ্গে এক সভার শুরুতে একথা জানান তথ্যমন্ত্রী।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি টিভি চ্যানেলে বিদেশি সিরিয়াল ও ডাবিং করা বিদেশি অনুষ্ঠান সরকারের অনুমতি ছাড়া চালানো যায় না। ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন অনুযায়ী সরকারের অনুমোদন লাগে।‘এছাড়া প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিদেশি সিনেমা প্রচারের ক্ষেত্রে সেন্সর সনদ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেটি অনেক ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না।’ দেশের আইন অনুযায়ী সম্প্রচার মাধ্যমে পরিপূর্ণ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

তথ্যমন্ত্রী জানান, কোনো বিদেশি কলাকুশলী বেসরকারি চ্যানেলে কাজ করার ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেটিও অনেক সময় পুরোপুরি মানা হচ্ছে না বলে আমাদের কাছে খবর আছে।‘এগুলো যে ইচ্ছাকৃত তা নয়, অনেক ক্ষেত্রে অজ্ঞতাপ্রসূতও হচ্ছে। বিষয়গুলো আমরা আলোচনা করবো।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বার্থে অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছি। সেই পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রচারের ক্ষেত্রে যে বিশৃঙ্খলা ছিল সেখানে অনেকটা শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি চ্যানেলের মাধ্যমে যে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছিল, সেটি পুরোপুরি বন্ধ না হলেও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ক্যাবল অপারেটররা নিজস্ব চ্যানেলের মতো করে যে বিজ্ঞাপন প্রচার করতো সেটি বন্ধ হয়েছে।

‘সার্বিকভাবে এখানে যে বিশৃঙ্খলা ছিল, সেক্ষেত্রে অনেকটা শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা পরিপূর্ণভাবে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই কাজ করছি। আশা করছি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ও সহযোগিতায় এখানে পরিপূর্ণ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো। এ বিষয়ে কী অগ্রগতি হয়েছে, আরও কী করা প্রয়োজন- সে বিষয়টি আলোচনার জন্য সভায় বসেছি।’

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এক বছরেরও বেশি সময় আগে উৎক্ষেপণ হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সেবা নিতে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এখন শুধু বিটিভি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার হচ্ছে।

‘এই পর্যন্ত যে ফলাফল লক্ষ্য করেছি, বিশেষ করে বিটিভির ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা পরিলক্ষিত হয়নি। সবাই অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যভাবে বিটিভি দেখতে পাচ্ছে, এ বিষয়গুলো আমরা আলোচনা করবো।’

ডেঙ্গু পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সব টেলিভিশন চ্যানেল অত্যন্ত ভালো প্রচারণা চালাচ্ছে জানিয়ে, এই প্রচারণা আরও কীভাবে কার্যকরভাবে করা যায়, সেগুলো আমরা আজ আলোচনা করবো।

অ্যাটকোর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোজাম্মেল হক বলেন, তথ্যমন্ত্রী মিডিয়া জগতে চলমান অনেক দিনের সমস্যা সমাধানে প্রাকটিক্যাল কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার ফল আমরা পেতে শুরু করেছি। এজন্য তথ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানাই।

তিনি আরও বলেন, আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য টেলিভিশন ডিস্ট্রিবিউশনকে ডিজিটালাইজড করতে চাই। যাতে করে সাবস্ক্রাইবাররা যে ফি দেয় তার একটা অংশ বিটিভিসহ টেলিভিশনগুলো পেতে পারে। যাতে টেলিভিশনগুলোর বিজনেস মডেল সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন নির্ভর হয়ে না পড়ে এবং টেলিভিশনের সঙ্গে জড়িত সবাইকে যেন বেতন-ভাতা-ইনক্রিমেন্ট দিতে পারি।

অনুষ্ঠানে ডিবিসি নিউজের চেয়ারম্যান ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি অবজারবারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, দেশের গণতন্ত্র, শান্তি-শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং উন্নয়নকে অব্যাহত রাখার জন্যে অ্যাটকোসহ সব প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া একযোগে কাজ করতে চাই।

সভায় তথ্যসচিব আবদুল মালেক, বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ ছাড়াও বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আরো সংবাদ